Image description

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বাঁশবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে পচা ডিম সরবরাহের অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে প্রশাসনের তদন্ত কমিটি। তবে অভিযোগ প্রমাণিত হলেও সংশ্লিষ্ট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে কেবল সতর্ক করে তদন্ত কার্যক্রম শেষ করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্তে অভিভাবকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে অসন্তোষ ।

এর আগে বিদ্যালয়ে সরবরাহ করা ডিম ও ছত্রাকযুক্ত পাউরুটি নিয়ে অভিযোগ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিষয়টি তদন্তে নামে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। তদন্ত শেষে গাংনী উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জোহা ও এসএম জয়নুল ইসলাম প্রতিবেদন জমা দেন। 

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমান তুহিন (তনভীর মিয়া) গণমাধ্যমকে জানান, গত ১ জুলাই সরবরাহ করা ১৩০টি ডিমের মধ্যে ৩টি নিম্নমানের ও পচা ছিল। তবে ক্যারিয়ারের গাড়িতে থাকা কমিটি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘সুমন’-এর নজরে আনলে তারা তাৎক্ষণিকভাবে এক ঘণ্টার মধ্যে ডিম পরিবর্তন করে নতুন ডিম সরবরাহ করে।

তদন্তে শিক্ষক, দপ্তরি এবং তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বক্তব্য নেওয়া হয়। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিবর্তনের পর সরবরাহ করা পাউরুটির মান সন্তোষজনক ছিল।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী রবি হাওলাদার গণমাধ্যমকে বলেন, ‘গাড়িতে থাকা কমিটির তৎপরতায় ত্রুটিপূর্ণ ডিম বিতরণের আগেই শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়ানো গেছে। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এবং মাঠপর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

উল্লেখ্য, গত ২ জুলাই বাঁশবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে পচা ডিম ও ছত্রাকযুক্ত পাউরুটি সরবরাহের অভিযোগ ওঠে। পরে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে প্রশাসন তদন্তে নামে।