Image description

কথা দিয়েছিলেন আগেই, এবার সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ঘোষণা দিলেন রংপুরের পীরগাছার শিশু চিকিৎসক ডা. মাহফুজার রহমান বাঁধন।

ফিফা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে কেপ-ভার্দে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে অন্তত একটি গোল করতে পারলেই এক বছর বিনামূল্যে রোগী দেখবেন বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি। ম্যাচে কেপ-ভার্দে আর্জেন্টিনার জালে দুটি গোল করার পর নিজের অঙ্গীকারে অটল থাকার কথা জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার (৪ জুলাই) সকালে কালবেলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারকে ডা. মাহফুজার রহমান বাঁধন বলেন, ‘সারাবছর পেশাগত ব্যস্ততায় কাটলেও ফুটবল বিশ্বকাপ এলে ভিন্ন ধরনের আনন্দে মেতে ওঠার সুযোগ তৈরি হয়। প্রিয় দলকে সমর্থন, প্রতিদ্বন্দ্বী দলকে ট্রল, আবার খেলা শেষে সবাই মিলে আড্ডা এসবই বিশ্বকাপের সৌন্দর্য।’

নিজের সমর্থনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি আপাদমস্তক ব্রাজিলের সমর্থক এবং আর্জেন্টিনার বিপক্ষে। আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে কলাগাছ খেললেও আমি কলাগাছকেই সমর্থন করব। সেই জায়গা থেকেই কেপ ভার্দেকে সমর্থন করেছি। যদিও তারা ৩-২ গোলে হেরেছে, তবে পুরো ১২০ মিনিট আর্জেন্টিনাকে যেভাবে চাপে রেখেছে, সেটাই আমাদের আনন্দের বিষয়। আর্জেন্টিনার খেলা দেখে মনে হয়েছে, এই দল নিয়ে খুব বেশি দূর যাওয়া কঠিন হবে। আর মেসি অবসরে গেলে আর্জেন্টিনা আগের মতো শক্তিশালী থাকবে না।’

নিজের ঘোষণার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি আমার প্রতিশ্রুতিতে অটল। আগামী এক বছর কেপ ভার্দের জার্সি পরে আমার চেম্বারে এলে কোনো রোগীর কাছ থেকে ভিজিট নেওয়া হবে না।’

তবে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পেতে একটি শর্তও রয়েছে। আগামী এক বছর কেপ ভার্দের জার্সি পরে তার চেম্বারে এলে কোনো রোগীর কাছ থেকে ভিজিট নেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন এই চিকিৎসক।

এর আগে শুক্রবার রাতে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি ঘোষণা দেন, কেপ ভার্দে যদি আর্জেন্টিনার বিপক্ষে অন্তত একটি গোল করতে পারে, তাহলে তিনি এক বছর বিনামূল্যে রোগী দেখবেন। পোস্টটি মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয় এবং ব্যাপক আলোচনা তৈরি করে।

ডা. বাঁধনের ওই ঘোষণাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার রাতেই কালবেলায় একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পরে কেপ ভার্দের দুই গোলের পর নিজের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়ে আবারও আলোচনায় আসেন তিনি।

ডা. মাহফুজার রহমান বাঁধন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে তিনি রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শিশুরোগ বিষয়ে উচ্চতর প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। পাশাপাশি নিজ জন্মস্থান পীরগাছায় স্বল্পমূল্যে চিকিৎসাসেবা দিয়ে স্থানীয় মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন।