Image description

নেত্রকোনা সদর উপজেলার বেতাটি গ্রামে ঘুমন্ত অবস্থায় সফুরা খাতুন (৫৫) নামে এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তারই মেয়ের জামাইয়ের বিরুদ্ধে। 

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাতে ঘাতক জামাইসহ পাঁচজনকে আসামি করে নেত্রকোনা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন নিহতের স্বামী ইসলাম মিয়া।

এরআগে, গত বুধবার মুষলধারে বৃষ্টির সকালে নিজ ঘরে নৃশংস হামলার শিকার হন তিনি। পরে ওইদিন সন্ধ্যায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই নারীর মৃত্যু হয়।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল ৭টার দিকে এলাকায় প্রবল বৃষ্টি হচ্ছিল। এ সময় সফুরা খাতুন ও তার স্বামী নিজেদের ঘরে ঘুমাচ্ছিলেন। হঠাৎ পার্শ্ববর্তী দিগজান গ্রামের বাসিন্দা ও তাদের মেয়ের জামাই কাশেম  অতর্কিত ঘরে প্রবেশ করে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই সে ঘুমন্ত শাশুড়িকে লক্ষ্য করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করতে থাকে। ধস্তাধস্তি ও আর্তচিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে ঘাতক দ্রুত পালিয়ে যায়। তবে ঠিক কী কারণে বা পারিবারিক কোন দ্বন্দ্বের জেরে এই হামলা, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি নিহতের প্রতিবেশি বা পুলিশ।

গুরুতর আহত ও রক্তাক্ত অবস্থায় সফুরা খাতুনকে উদ্ধার করে প্রথমে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নেত্রকোনা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মমেক হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার সন্ধ্যায় সফুরা খাতুন মারা যান।

স্থানীয় গ্রাম পুলিশ সদস্য বিমল রবি দাস বলেন, বৃহস্পতিবার ময়মনসিংহেই নিহতের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। সন্ধ্যায় লাশ বেতাটি গ্রামে নিয়ে আসা হলে এলাকায় হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। এ ঘটনায় গোটা এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও নেত্রকোনা মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) তৌহিদ বলেন, নিহতের পরিবার লাশ দাফন ও ময়নাতদন্ত নিয়ে ব্যস্ত থাকায় এখনও বিস্তারিত কথা বলা সম্ভব হচ্ছে না। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে আঘাতের গভীরতা সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য জানা যাবে।

এ বিষয়ে নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আল মামুন আজ সকালে বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের স্বামী বাদী হয়ে গতকাল রাতে থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। এতে প্রধান আসামি জামাই ইসলামসহ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দ্রুতই অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে।