Image description

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনে (এফডিসি) বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে ভোট দিতে এসে নিজের আবেগ ও স্মৃতিচারণ প্রকাশ করেছেন তুমুল জনপ্রিয় অভিনেতা ও চিকিৎসক ডা. এজাজ আহমেদ। এফডিসির বর্তমান অবস্থা ও ফেলে আসা সোনালী দিনগুলোর কথা মনে করে গণমাধ্যমের সামনে একরাশ দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।

বক্তব্যের শুরুতেই এফডিসির আগের কর্মব্যস্ত ও উৎসবমুখর পরিবেশের কথা স্মরণ করে ডা. এজাজ বলেন,

“কষ্ট লাগে যখন হুমায়ূন স্যারের ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’, ‘দুই দুয়ারী’ কিংবা ‘শ্যামল ছায়া’ ছবির কাজ করেছি— তখনকার এফডিসির পরিবেশ ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। কী এক উৎসবমুখর জায়গা ছিল এটা! যারা ওই সোনালী দিনগুলো দেখেননি, তারা বর্তমানের এই শূন্যতা বুঝবেন না। এখন এফডিসিতে ঢুকলে আগের সেই উৎসব, ব্যস্ততা আর উচ্ছলতা চোখে পড়ে না, যা মনে ভীষণ কষ্ট দেয়।”

তবে অতীতের গৌরব হারিয়ে যাওয়ার বেদনার মাঝেও ঢাকাই চলচ্চিত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী এই অভিনেতা। শিল্পী সমিতির চলমান নির্বাচনকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন তিনি। ডা. এজাজ মনে করেন, এই নির্বাচন চলচ্চিত্রকে একধাপ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ারই একটি প্রয়াস। একদল মানুষ চলচ্চিত্রকে বাঁচিয়ে রাখার এবং সামনে এগিয়ে নেওয়ার যে সৎ চেষ্টা করে যাচ্ছেন, তা কখনো বৃথা যাবে না বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

হতাশাকে একপাশে ঠেলে দিয়ে দর্শকদের হলমুখী হওয়ার প্রবণতাকে সাধুবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, “দর্শকরা আগের চেয়ে অনেক বেশি হলমুখী হচ্ছেন। এখন ছবি আগের চেয়ে অনেক উন্নত, সুন্দর ও সফল হচ্ছে। তাই আমি কখনোই বলব না যে চলচ্চিত্র পিছিয়ে আছে, বরং চলচ্চিত্র এগিয়ে যাচ্ছে।”

 

নেতিবাচক চিন্তাভাবনা থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে ডা. এজাজ স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমি কখনোই হতাশাকে জায়গা দিই না, সবসময় উৎসাহ নিয়ে কাজ করি। কারণ হতাশ হয়ে পড়লে কখনো সামনে এগিয়ে যাওয়া যায় না। আমি হতাশ হতে রাজি নই, আমি চলচ্চিত্রে কেবলই এগিয়ে যাওয়ার পক্ষে।”

নির্বাচনকে চলচ্চিত্রের অগ্রযাত্রার একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, যারা চলচ্চিত্রের স্বার্থে সৎ চেষ্টা চালাচ্ছেন তারা অবশ্যই সফল হবেন।