Image description

শিশুদের অস্ত্র প্রশিক্ষণের একটি ভিডিও সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে দাবি করা হচ্ছে, এটি বাংলাদেশের একটি মাদ্রাসার। ভিডিওটি যাচাই করে দেখেছে বার্তা সংস্থা এএফপি। বার্তা সংস্থাটি বলছে, ভিডিওটি বাংলাদেশে ধারণ করা হয়নি। এটি ২০১৫ সালে আলজাজিরার একটি প্রামাণ্যচিত্র থেকে নেওয়া, যেখানে আফগানিস্তানে ইসলামিক স্টেট (আইএস) গোষ্ঠীর উত্থান নিয়ে প্রতিবেদন দেখানো হয়েছিল। তাই ভিডিওটি বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতির প্রমাণ হিসেবে দেখানো ভুল ও বিভ্রান্তিকর।

ভিডিওটি এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি ভিউ এবং দুই হাজার ৭০০ বার শেয়ার করা হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, কালো বালাক্লাভা পরা এক ব্যক্তি একটি ছোট শিশুকে বন্দুক চালানো শেখাচ্ছেন।

গত ১৫ জুন ফেসবুকে একটি পোস্টে লেখা হয়, ‘বাংলাদেশের মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থায় অস্ত্র প্রশিক্ষণ চলছে। এটিই এখন বাংলাদেশের অবস্থান।’

ভিডিওটিতে আরো লেখা ছিল, ‘আমরা শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষা চাই, সহিংসতা নয়।’

ভিডিওটি ফেসবুক ও এক্সসহ আরো অনেক অ্যাকাউন্ট থেকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এসবের কিছু অ্যাকাউন্ট থেকে এর আগে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার সমর্থনে পোস্ট দেওয়া হয়েছিল।

২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ঢাকার কাছে একটি মাদ্রাসায় বিস্ফোরণের পর পুলিশ কিছু বিস্ফোরক তৈরির উপকরণ ও রাসায়নিক পদার্থ উদ্ধার করেছিল। তবে এই ঘটনাগুলোর সঙ্গে ভাইরাল ভিডিওটির কোনো সম্পর্ক নেই।

ভিডিওটির কয়েকটি অংশ দিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে দেখা যায়, এটি আলজাজিরার ২০১৫ সালের ‘আইএসআইএল অ্যান্ড দ্য তালেবান’ নামের একটি ডকুমেন্টারি থেকে নেওয়া।

ভাইরাল ভিডিওটি ওই ডকুমেন্টারির ৪৬ মিনিট ২৯ সেকেন্ড অংশ থেকে কেটে নেওয়া হয়েছে। পরে সামাজিকমাধ্যমে ভিডিওটি বাংলাদেশের বলে ছড়ানো হয়।

ডকুমেন্টারির বর্ণনায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, এই দৃশ্য আফগানিস্তানে ধারণ করা হয়েছিল।