Image description

পিরোজপুরের নেছারাবাদে স্ত্রী রঞ্জিতা রানী হালদারের পরকীয়া ও দাম্পত্য কলহের জেরে এক যুবক ভিডিও কলে থাকা অবস্থায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

নিহত সজল কুমার দেউরী উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের কাটাপিঠানিয়া গ্রামের (৯নং ওয়ার্ড) স্বপন কুমার দেউরীর ছেলে। তিনি ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে ঢাকার একটি ভাড়া বাসায় ফ্যানের সঙ্গে গামছা পেঁচিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন। ঘটনার সময় সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে তিনি স্ত্রী রঞ্জিতা রানীর সঙ্গে ভিডিও কলে যুক্ত ছিলেন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।

 

মৃত সজল কুমার দেউরীর ছোট ভাই তুহিন দেউরী জানান, আমার ভাই প্রায় ৩০ বছর যাবত ঢাকায় কাটিং মাস্টার হিসেবে একটি গার্মেন্টসে চাকরি করতেন। ১০ বছর আগে আমাদের পার্শ্ববর্তী উপজেলা নাজিরপুরে রঞ্জিতা রানী হালদারের সঙ্গে ভাইকে (সজল কুমার দেউরী) বিয়ে দিয়েছিলাম। তার ঘরে তিন বছরের একটি ফুটফুটে মেয়ে সন্তান আছে। আমার বৌদি রঞ্জিতা রানী গ্রামের বাড়িতে থাকেন। গ্রামের বাড়িতে প্রতিবেশী শোভন বেপারী নামে একজনের সঙ্গে রঞ্জিতা রানীর পরকীয়া সম্পর্কের কারণে পরিবারে অশান্তি লেগেই থাকতো।

 
 

তুহিন দেউরী আরও জানান, এ নিয়ে একাধিকবার মৌখিক ও পারিবারিকভাবে মীমাংসা হয়েছিল। কিন্তু মঙ্গলবার (৩০ জুন) ভাই অভিমানে আত্মহত্যার কথা বললেই বৌদি রঞ্জিতা রানী বলেছেন, ‘সাহস থাকলে তুই মরে দেখা, আমি সরাসরি লাইভে দেখতে চাই! তুই মরলেই আমি বাঁচি!’ এ কথাগুলো আমাদের পরিবারের সবাই শুনেছে। তাছাড়া বৌদি সোশ্যাল মিডিয়ায় সব সময় অ্যাকটিভ থাকতো। এটা নিয়েও একাধিকবার ঝগড়া-বিবাদ হয়েছে।

 

ইউপি সদস্য মনোজ ঢালী বলেন, নিহত সজল দেউরীর স্ত্রী রঞ্জিতা রানী হালদার এলাকার ভূপাল বেপারীর ছেলে শোভন বেপারীর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ সম্পর্ক আছে বলে এলাকায় জনশ্রুতি রয়েছে। এ বিষয়টি তার স্বামী জানতে পেরে মেনে নিতে পারছিলেন না। তাই তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন বলে ধারণা করছি। ঘটনার পর অভিযুক্ত শোভন বেপারী ও রঞ্জিত রানী হালদার এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন।

এ বিষয়ে নিহতের স্ত্রী রঞ্জিতা রানী হালদারকে বাড়িতে না থাকায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে অভিযুক্ত শোভন বেপারী মুঠোফোনে বলেন, আমার বৌদির সঙ্গে কোনো পরকীয়া সম্পর্ক নেই। আমি তাকে সব সময় ‘দিদি’ বলে সম্বোধন করতাম। এ সময় তাকে আত্মগোপনে থাকার বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে না পেরে কলটি কেটে দেন।

নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।