Image description

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) স্থাপনের দীর্ঘ ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও তা এখনও চালু করেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিদ্যুতের ঘাটতির অজুহাত কিংবা অজানা কোনো কারণে এসিগুলো বন্ধ রাখায় ক্ষোভ ও বিরূপ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

 

মসজিদ প্রশাসন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ সূত্রে জানা যায়, প্রায় ছয় মাস আগে শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে কেন্দ্রীয় মসজিদে বেশ কয়েকটি এসি স্থাপন করা হয়। তবে স্থাপনের পর থেকে আজ পর্যন্ত একটি এসিও চালু করা হয়নি। তীব্র গরমে নামাজ পড়তে এসে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ শিক্ষার্থী ও মুসল্লিরা।

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের মাধ্যমে মসজিদে প্রায় আড়াই কোটি টাকার কাজ করা হয়েছে। এবং বেশ কয়েকটি এসি কেনা হয়েছে। কিন্তু ঢাবি প্রশাসন এতটাই কৃপণ যে বিদ্যুৎ খরচের ভয়ে এসিগুলো চালু করছে না। মসজিদে যে শুধু আমরা নামাজ পড়ি বিষয়টা এমন না। বাইরের অনেক মুসুল্লিও এখানে নামাজ পড়েন। আমাদের ঢাবি ভিসি স্যার ও শিক্ষকরাও এই মসজিদে নামাজ পড়েন।

 

তিনি আরও বলেন, আমরা মনে করছি যেহেতু এসিগুলো ডাকসুর মাধ্যমে এসেছে তাই প্রশাসন চাচ্ছে না চালু করতে। কারণ, বর্তমানে নতুন সরকার দেশ পরিচালনা করছে। সরকার ডাকসুকেও একটা রাজনৈতিক অঙ্গন হিসেবে দেখে। প্রশাসন চাচ্ছে না ডাকসুর সুনাম হোক।

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মারুফ হোসেন বলেন, আমি মহসিন হলেও থাকলেও প্রায় কেন্দ্রীয় মসজিদে নামাজে যায়। কারণ, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পাশেই মসজিদ। পড়ার মাঝে নামাজের সময় হলে মসজিদে নামাজ পড়ি। আমরা শুনেছি এসিগুলো চালু হবে। কিন্তু কয়েকমাস পেরিয়ে গেলেও চালু হচ্ছে না। আসলে কেন চালু হচ্ছে না ভেতরের খবর আমরা জানি না।

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থী আসিফ ইকবাল বলেন, ঢাবি ক্যাম্পাসে আমার প্রায় ৮ বছর কেটে গেল। কিন্তু আমি কেন্দ্রীয় মসজিদের কোনো উন্নয়ন দেখিনি। অন্য অনেক মসজিদে কমবেশি উন্নয়ন হয়। কিন্তু কোনো অজানা কারণে এই মসজিদের কোনো উন্নয়ন হয় না। অথচ পাশেই শুয়ে আছেন কবি কাজী নজরুল ইসলামসহ অনেক গণ্যমান্য ব্যাক্তিরা। মসজিদের উন্নয়ন প্রয়োজন বলে মনে করি।

 

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করে একাধিক শিক্ষার্থী জানান, কোটি টাকা খরচ করে এসি কিনে যদি তা বন্ধই রাখতে হয়, তবে কেন এগুলো বসানো হলো? গরমে নামাজ পড়তে কষ্ট হয়, অথচ এসিগুলো স্রেফ শো-পিস হিসেবে ঝুলে আছে।

 

মসজিদে নামাজ পড়তে আসা মুসুল্লি কাদির উদ্দিন বলেন, আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আশে পাশেই থাকি। মাঝে মধ্যে পানি বিক্রি করি এবং চা বিক্রি করি। নামাজের সময় হলে মসজিদে নামাজ পড়তে যায়। এসি না থাকায় অনেকটা গরম থাকে মসজিদ। অনেককে বলতে শুনেছি ঢাবির একটা মসজিদ অথচ এসি নেই। গরমে মানুষ কষ্ট করছে।

 

এদিকে এসিগুলো কেন চালু করা হচ্ছে না এবং বিদ্যুৎ ঘাটতির বিষয়টি আসলে কতটা যৌক্তিক—তা জানতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।