Image description

নিজের বোনের ১৬ বছর বয়সী মেয়েকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে গুলশান থানার মামলায় আত্মসমর্পণের পর ইসতি মেডিকেল বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ফয়সালকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

আজ (মঙ্গলবার) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সেফাতুল্লাহ আসামির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর এ আদেশ দেন।

এর আগে আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন ফয়সাল। তার পক্ষে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া সম্পাদক আবুল কালাম খান, সাবেক সভাপতি গোলাম মোস্তফা খানসহ একাধিক আইনজীবী শুনানি করেন। তারা আদালতে বলেন, জমিজমাসংক্রান্ত পারিবারিক বিরোধের জেরে আসামির বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে। ঘটনার এক মাস পর মিথ্যা অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। 

অন্যদিকে, বাদীপক্ষে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সদ্য সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট খোরশেদ মিয়া আলম, সাবেক সিনিয়র সহ সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হাসান মুকুলসহ একাধিক আইনজীবী শুনানি করেন। এ সময় তারা আসামির জামিনের বিরোধিতা করেন। পরে আদালত আসামির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

আদালতে প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক তাহমিনা আক্তার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে গত ২৩ এপ্রিল ওই কিশোরীর বাবা মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে গুলশান থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামলায় হাবিবুর রহমান অভিযোগ করেন, আসামি তার শ্যালক। তার তিন মেয়ের মধ্যে ২ জন পড়াশোনার জন্য বিদেশে অবস্থান করে। তার স্ত্রী মাঝে মধ্যে তাদের দেখাশোনার জন্য বিদেশে যান। তার ছোট মেয়ে তাদের সঙ্গে থেকে একটি কোচিং সেন্টারে লেখাপড়া করেন। আসামি ২০২৫ সালের ২১ জুন তার মেয়েকে ঘুরতে যাওয়াসহ বিভিন্ন প্রলোভন দেখান। আসামি আপন মামা হওয়ায় মেয়ে তার সঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে যান। ঘুরতে গেলে আসামি নিজে ধূমপান করার সময় কৌশলে তার মেয়েকে ধূমপান করানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু তিনি তার কথায় ধূমপান করে না।

পরে ২৪ জুন দুপুরে মেয়েকে গুলশানে কনকর্ড সিলভি হাইটস (৪র্থ তলা) ইসতি মেডিকেল বাংলাদেশের অফিসে লাঞ্চ করার জন্য ফোন করে যেতে বলেন। তার কথামতো মেয়েটি অফিসে যান এবং সেখানে লাঞ্চ করেন। পরে আসামি তার অফিসের বেলকনিতে নিয়ে পুনরায় ধূমপান করানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। ওই রাতে আসামি গাড়িতে করে মেয়েকে বাসায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য বের হন। আসামি নিজেই গাড়ি চালাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে আমেরিকান ক্লাব রোডে এসে মেয়েকে গাড়ি চালানো শেখানোর কথা বলেন। এ সময় তিনি ওই কিশোরীকে ড্রাইভিং সিটে তার কোলে বসতে বলেন। কোলে বসতে অনিচ্ছা পোষণ করলে সামনের দুই ছিটের মাঝখানে বসিয়ে গাড়ি চালানো শেখাতে শুরু করেন।  আসামি আকস্মিকভাবে আক্রমণাত্মক হয়ে উঠে ওই কিশোরীকে যৌন নিপীড়ন করেন। কিশোরী বিষয়টি কৌশলে এড়িয়ে গিয়ে অসুস্থতার ভান করে বাসায় যাওয়ার কথা বললে তাকে বাসায় পৌঁছে দেওয়া হয়।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, আসামির এমন কাজে ভিকটিম মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। বিষয়টি জানাজানি হলে পারিবারিকভাবে সম্পর্কের অবনতি হওয়ার সম্ভাবনার কথা চিন্তা করে তিনি ঘটনা সম্পর্কে কাউকে কিছু বলেননি। তবে গত ১৭ এপ্রিল ওই কিশোরীর বড় বোনের বিয়ের দিন মোহাম্মদ ফয়সাল বাসায় এলে তিনি তাকে দেখে চিৎকার করে ওঠেন এবং গালিগালাজ করেন। তখন বাদীসহ পরিবারের লোকজন ঘটনার বিষয়ে জানতে পারেন।