Image description

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এর আগের ঋণ কর্মসূচি থেকে সরে এসে নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে সংস্থাটির সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার আইএমএফ থেকে শূন্য হাতে ফেরেনি। বরং আগের সরকার এমন কিছু শর্তে ঋণ কর্মসূচিতে সম্মত হয়েছিল, যা জনগণের স্বার্থের পরিপন্থী। সে কারণেই বর্তমান সরকার ওই কর্মসূচি থেকে সরে এসে নতুন কর্মসূচি নিয়ে আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা করছে।

তিনি জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের শেষে সরকারের মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২১ লাখ ৪৬ হাজার ৩৪ কোটি টাকা, যা দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৩৮ দশমিক ৬১ শতাংশ। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ ঋণ ১১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৫৩ কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ ৯ লাখ ৪৯ হাজার ১৮১ কোটি টাকা।

উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া ঋণের সুদ পরিশোধ করতে গিয়ে অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন অর্থমন্ত্রী।

অর্থ পাচারের বিষয়ে তিনি বলেন, জনগণের সম্পদ লুটকারীদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। আমানতকারীদের অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। এ পর্যন্ত ১১টি মামলায় দেশে ও বিদেশে প্রায় ৭২ হাজার ৩৪৩ কোটি টাকার সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে ১৩টি দেশে ২৩টি মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স (এমএলএ) অনুরোধ পাঠানো হয়েছে।

শেয়ারবাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম চলমান রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এ খাতে কোনো দলীয়করণ করা হয়নি; বরং অভিজ্ঞ ও দক্ষ ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী আরও জানান, মোবাইল অপারেটর বাংলালিংকের মূল প্রতিষ্ঠান ‘ভিওন’ বাংলাদেশে আরও এক বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

তিনি বলেন, আগামী দিনে ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ নেওয়ার প্রবণতা কমানো হবে, যাতে বেসরকারি খাত ঋণ সংকটে না পড়ে।

জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে নতুন এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন, দ্বিতীয় রিফাইনারি নির্মাণসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে ডিজিটাল ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে নিয়মিত নজরদারির ব্যবস্থা করা হবে, যা অনিয়ম ও দুর্নীতি কমাতে সহায়ক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন অর্থমন্ত্রী।

শীর্ষনিউজ