Image description

জুলাই আন্দোলন দমনকে কেন্দ্র করে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে মঙ্গলবার (৩০ জুন) রায় ঘোষণা করবেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।

মঙ্গলবার দুপুর দেড়টায় ট্রাইব্যুনাল-২ এ এ রায় ঘোষণা করা হবে।

 

সোমবার (২৯ জুন) ট্রাইব্যুনাল সূত্রে এ তথ্য জানা যায়। মঙ্গলবার দুপুর দেড়টায় ট্রাইব্যুনাল-২ এ রায় ঘোষণা করবেন।

 

প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম জানান, আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে রায় সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।

এর আগে গত ২২ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ রায় ঘোষণার জন্য ৩০ জুন দিন ধার্য করেন।

 

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। আসামিপক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী।

 

গত ২৫ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনালে ইনুর বিরুদ্ধে ৩৯ পৃষ্ঠার আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। অভিযোগপত্রের সঙ্গে এক হাজার ৬৭৯ পৃষ্ঠার নথি, তিনটি অডিও এবং ছয়টি ভিডিও ডকুমেন্ট জমা দেওয়া হয়। মামলায় একমাত্র আসামি করা হয়েছে হাসানুল হক ইনুকে।

আটটি অভিযোগ

অভিযোগপত্রে মোট আটটি অভিযোগ আনা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, জুলাই আন্দোলনের সময় আন্দোলনকারীদের বিএনপি, জামায়াত, সন্ত্রাসী ও সাম্প্রদায়িক হিসেবে আখ্যায়িত করে তাদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগে উসকানি দেন ইনু। এছাড়া ১৪ দলীয় জোট সরকারের অন্যতম নেতা হিসেবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে নির্দেশনা, প্ররোচনা ও সহায়তা দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে।

এছাড়া কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারকে ফোন করে আন্দোলন দমনের নির্দেশ দেওয়ার পর ছয়জন নিহত হওয়ার ঘটনাকেও অভিযোগের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বিদেশি গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার

অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই একটি বিদেশি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হাসানুল হক ইনু আন্দোলনকারীদের বিএনপি, জামায়াত, সন্ত্রাসী ও সাম্প্রদায়িক হিসেবে উল্লেখ করে বলপ্রয়োগের পক্ষে উসকানিমূলক বক্তব্য দেন।

১৪ দলের সভায় ভূমিকার অভিযোগ

অভিযোগে বলা হয়েছে, ১৯ জুলাই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গণভবনে অনুষ্ঠিত ১৪ দলীয় জোটের সভায় ইনু উপস্থিত ছিলেন। ওই সভায় আন্দোলন দমনে সেনা মোতায়েন, কারফিউ জারি এবং কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্তে তিনি নির্দেশনা, প্ররোচনা, উসকানি ও সহায়তা দিয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারকে ফোনের অভিযোগ

প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০ জুলাই ইনু কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারকে ফোন করে আন্দোলনকারীদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। এর পরবর্তী সময়ে কুষ্টিয়ায় আন্দোলনকারীদের ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় ছয়জন নিহত হন এবং বহু মানুষ আহত হন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, আন্দোলন দমনে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার, হেলিকপ্টার থেকে গুলি চালানো, আন্দোলনকারীদের আটক ও নির্যাতনের বিষয়ে ইনু তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে ষড়যন্ত্র, পরিকল্পনা ও উসকানিতে সম্পৃক্ত ছিলেন।

টেলিভিশন সাক্ষাৎকার

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ২৭ জুলাই একটি টেলিভিশন চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইনু আন্দোলনকারীদের বিএনপি, জামায়াত, সন্ত্রাসী, জঙ্গি ও সাম্প্রদায়িক হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং সরকারের কারফিউ ও বলপ্রয়োগকে সমর্থনসূচক বক্তব্য দেন।

২৯ জুলাইয়ের সভা

প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২৯ জুলাই আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের সভায় অংশ নিয়ে ইনু আন্দোলন দমনের পক্ষে বক্তব্য দেন এবং জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে নির্দেশনা, প্ররোচনা ও সহায়তা প্রদান করেন।

কুষ্টিয়ায় ছয়জন নিহতের অভিযোগ

অভিযোগে বলা হয়েছে, ৫ আগস্ট কুষ্টিয়ায় ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা পুলিশের উপস্থিতিতে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলিবর্ষণ করে। এতে শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী বাবু, শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুত্তাকিন, মো. উসামা, ব্যবসায়ী বাবলু ফরাজী এবং চাকরিজীবী ইউসুফ শেখ নিহত হন।

প্রসিকিউশনের দাবি, এসব ঘটনায় হাসানুল হক ইনু ষড়যন্ত্র, পরিকল্পনা, নির্দেশনা, প্ররোচনা ও সহায়তার মাধ্যমে সম্পৃক্ত ছিলেন। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আসামিপক্ষ।