Image description

বাজেট অধিবেশনের শেষ দিনে উত্তপ্ত হয়ে উঠল জাতীয় সংসদ। বক্তব্য দেওয়ার ন্যায্য সময় না পাওয়া, সংসদের কার্যপ্রণালি যথাযথভাবে অনুসরণ না করা এবং পয়েন্ট অব অর্ডারে কথা বলার সুযোগ না দেওয়ার অভিযোগ তুলে অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেছেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। এ ঘটনায় সৃষ্ট উত্তেজনার মধ্যে স্পিকার সংসদের অধিবেশন মূলতবি ঘোষণা করতে বাধ্য হন।

আগামীকাল মঙ্গলবার (৩০ জুন) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট পাস হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে রবিবার (২৯ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের প্রথম দিনের কার্যসূচির শেষ দিকে এ ঘটনা ঘটে।

দিনের কার্যসূচির শেষভাগে ‘বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ এবং ‘দ্য পাবলিক এক্সামিনেশনস (অফেন্সেস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬’ সংসদে উত্থাপন করা হয়। বিল দুটি উত্থাপনের পর পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্য মুহাম্মদ নাজিবুর রহমান।

তিনি অভিযোগ করেন, কার্যপ্রণালি বিধির ৭৭ বিধি অনুযায়ী কোনো বিল উত্থাপনের অন্তত তিন দিন আগে সংসদ সদস্যদের কাছে বিলের কপি পৌঁছে দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা অনুসরণ করা হয়নি। তিনি আরও বলেন, স্পিকারের তিন দিনের এই শর্ত শিথিল করার ক্ষমতা থাকলেও সেই ক্ষমতা প্রয়োগ করা হয়ে থাকলে বিষয়টি সংসদকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো উচিত ছিল।

এ ধরনের ব্যতিক্রমী প্রক্রিয়া নিয়মিত চর্চায় পরিণত হলে কার্যপ্রণালি বিধির ৭৭-এর মূল উদ্দেশ্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। একই সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়া কেন তিন দিনের শর্ত শিথিল করা হয়েছে, সে বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন এবং এটিকে উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেন।

অভিযোগের জবাবে স্পিকারের দায়িত্বে থাকা ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, বিল দুটি উত্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের শর্ত পূরণ করা হয়েছে। তিনি সংসদকে জানান, বিল দুটি ২০২৬ সালের ২৩ জুন সংসদ সদস্যদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছিল। ফলে কার্যপ্রণালির সব শর্তই যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে।

ডেপুটি স্পিকারের এই বক্তব্যের পরপরই ক্ষোভ প্রকাশ করে বিরোধী জোটের সংসদ সদস্যরা অধিবেশন কক্ষ থেকে ওয়াকআউট করেন।

পরে সংসদ ভবনের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পাবনা-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মুহাম্মদ নাজিবুর রহমান বলেন, সংসদের কার্যপ্রণালি নিয়ে বারবার অভিযোগ জানানো হলেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। তাই বিরোধী দলের সামনে অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প ছিল না।

তিনি অভিযোগ করেন, সংসদীয় রীতিনীতি অনুযায়ী তাদের দলের প্রাপ্য ২৬ শতাংশ বক্তব্যের সময় বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। পাশাপাশি নতুন বিল উত্থাপনের ক্ষেত্রেও যথাযথ সংসদীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি।

নাজিবুর রহমান আরও অভিযোগ করেন, বিষয়টি তিনি সংসদে উত্থাপন করলেও স্পিকারের কাছ থেকে কোনো সন্তোষজনক জবাব পাননি। এমনকি বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগও দেওয়া হয়নি। এর পরিবর্তে বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে কার্যপ্রণালি বিধির ৩০০ বিধির অধীনে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, সংসদে যদি বিরোধী দলের সদস্যদের কথাই বলতে না দেওয়া হয়, তাহলে সেখানে বসে থাকার কোনো অর্থ হয় না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ন্যায্য বক্তব্যের সময় না পাওয়া, সংসদের কার্যপ্রণালি যথাযথভাবে অনুসরণ না করা এবং পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করাই ছিল বিরোধী দলের সংসদ থেকে ওয়াকআউট করার তিনটি প্রধান কারণ।