চীন ও মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম দ্বিপক্ষীয় সফরটি দেশের জন্য ‘অভূতপূর্ব সাফল্য’ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। সংসদের চলমান বাজেট অধিবেশনে সব সদস্যের সম্মতিতে এ সম্পর্কে একটি ধন্যবাদ প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। বিশেষ করে, দুদেশ এ সফরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দীর্ঘ সময়ের একান্ত বৈঠক ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে চীনের বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দেওয়া এবং মালয়েশিয়ায় শ্রমবাজার খুলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত দেশের জন্য এক বড় অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দেশে ফিরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত শনিবার সংসদকে তার বিদেশ সফর সম্পর্কে অভিহিত করেন। এর আগে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এবং সরকার ও বিরোধী দলের কয়েকজন সংসদ সদস্য বিদেশ সফর সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর অভিজ্ঞতা জানতে চান। বিরোধীদলীয় নেতা ফ্লোর নিয়ে বলেন, এই সফরে স্বাক্ষরিত চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক কী হয়েছে, তা সংসদকে অবহিত করার অনুরোধ জানাচ্ছি। তিনি আরো বলেন, দুই বন্ধু দেশের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে নতুন কোনো রপ্তানি খাত তৈরির দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে কি না—তাও জানতে চাই।
সংসদে প্রধানমন্ত্রী তার মালয়েশিয়া ও চীন সফর সম্পর্কে স্পষ্টভাবে জানান যে, দেশের মানুষ তার সরকারের ওপর যে দায়িত্ব অর্পণ করেছেন, সেই জায়গা থেকে তিনি দেশের স্বার্থকে সফরকালে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছেন। দুই দেশ সফরের পেছনে তার বা তাদের কারো কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ বা উদ্দেশ্য জড়িত ছিল না বলে প্রধানমন্ত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে উল্লেখ করেন। সংসদের বাজেট অধিবেশনে শনিবার তিনি আরো বলেন, সফর থেকে যদি কোনো ইতিবাচক বা ভালো কিছু অর্জিত হয়ে থাকে, তবে তার পুরো কৃতিত্ব ও সাফল্য বাংলাদেশের জনগণের। তিনি বলেন, তার সরকার ও দলের পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি হলো ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ বা ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। এই নীতি ধারণ করেই মালয়েশিয়া ও চীন সফর হয়েছে। স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দ্বিপক্ষীয় এই সফল সফর সম্পর্কে সংসদে ধন্যবাদ প্রস্তাব আনলে সর্বসম্মতভাবে তা গৃহীত হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২১ থেকে ২৬ জুন ২০২৬ পর্যন্ত মালয়েশিয়া ও চীন সফর করেন। এই সফর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কূটনীতি এবং বৈদেশিক নীতিতে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই ছিল তার প্রথম দ্বিপক্ষীয় বিদেশ সফর, যা জাতীয় স্বার্থ রক্ষা ও দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অত্যন্ত সফল হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। মালয়েশিয়া সফরটি কতটা সফল হয়েছে, তার চমৎকার উদাহরণ হচ্ছে সে দেশের প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম নিজেই তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে একটি ভিডিও আপলোড করেন। বাংলাদেশের একজন শিল্পীর ‘আমার বন্ধু মহাজাদু জানে’ গানটিকে আবহ সংগীত হিসেবে নিয়ে সফরের আকর্ষণীয় ছবিগুলো দিয়ে ভিডিওটি তৈরি করা হয়। মুহূর্তের মধ্যে ভিডিওটি ভাইরাল হয় এবং কোটি কোটি মানুষ জানতে পারে সফরটি কতটা সুন্দর এবং সফল হয়েছে। সফরকালে বাংলাদেশ মালয়েশিয়ার পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ৯টি খাতের ওপর ভিত্তি করে ঐতিহাসিক ৩৩ দফার যৌথ দ্বিপক্ষীয় ইশতেহার প্রকাশিত হয়। সফরে উল্লেখযোগ্য বিষয় ছিল বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধ শ্রমবাজার দ্রুত উন্মুক্তকরণ, অভিবাসন ব্যয় হ্রাস এবং মালয়েশিয়ায় কারাবন্দি বাংলাদেশি শ্রমিকদের মানবিক মুক্তির বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা। সফরকালে সংস্কৃতিবিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক ও দুটি এক্সচেঞ্জ অব নোট স্বাক্ষরিত হয়। এছাড়া মালয়েশিয়ার শীর্ষস্থানীয় পাঁচটি বৈশ্বিক কোম্পানি পেট্রোনাস, আক্সিয়াটা, এয়ার এশিয়া, পার্ডুয়া ও এমএমসি পোর্টের প্রধান নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠক করে প্রধানমন্ত্রী তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। সফরকালে বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পের বিকাশেও সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরটি দেশের জন্য কত বড় সফলতা নিয়ে এসেছে, তার উদাহরণ হচ্ছে বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপল-এ চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং প্রধানমন্ত্রী লিজ জিয়াংয়ের সঙ্গে ফলপ্রসূ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক। শুধু তাই নয়, প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং দীর্ঘ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে একান্ত বৈঠক করেন, যা ছিল অভূতপূর্ব এবং দুই দেশের সম্পর্ককে এই বৈঠক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। বাংলাদেশের অবকাঠামো, বিনিয়োগ এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণে চীনের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ১৭টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা ভবিষ্যতে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন সহযোগিতা আরো সম্প্রসারণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠকটি বাংলাদেশ-চীন বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন আশার আলো হয়ে দেখা দেয়। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নতুন সরকারের প্রতি চীনের পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নে চীন সবসময় দেশটির ‘বিশ্বস্ত বন্ধু’ হিসেবে পাশে থাকবে। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনার বাবা এবং মা উভয়েই চীনের অকৃত্রিম বন্ধু ছিলেন। বাংলাদেশে উচ্চমানের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ (বিআরআই) অবকাঠামো সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর তিনি জোর দেন। দুই নেতা বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও চীনকে যুক্ত করে একটি ত্রিদেশীয় ইকোনমিক করিডোর বাস্তবায়নের বিষয়ে একমত হন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং জানান, আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক জোট ‘ব্রিকস’-এ বাংলাদেশের সদস্যপদ পাওয়ার ক্ষেত্রে চীন জোরালো সমর্থন দেবে। রোহিঙ্গা ইস্যু সম্পর্কে তিনি জানান, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় চীন তার মধ্যস্থতা ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের ‘তাইওয়ান নীতি’র (ওয়ান চায়না পলিসি) প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ‘চীনের রেড লাইনই আমাদের রেড লাইন।’ এর জবাবে শি জিনপিং বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বাংলাদেশের তিস্তা নদী সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প (টিআরসিএসআরপি) এবং অন্যান্য নদীর নাব্য রক্ষায় চীন তার সক্ষমতা অনুযায়ী সর্বাত্মক ব্যবহারিক ও কারিগরি সহযোগিতা দেবে বলে জানান। তিনি প্রথাগত অবকাঠামোর পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব অর্থনীতি (গ্রিন ইকোনমি), ডিজিটাল অবকাঠামো এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে নতুন সহযোগিতার সম্ভাবনা উন্মোচনের কথাও বলেন।
তিস্তায় প্রাণসঞ্চার হতে যাচ্ছে
বাংলাদেশের তিস্তা সমস্যা সমাধানে চীন বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়েছে। চীনের সহায়তায় প্রায় ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা) ব্যয়ে ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ (তিস্তা নদী সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প) বাস্তবায়নের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সদ্য চীন সফরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সবুজসংকেত দেন।
তিস্তা নদী নিয়ে বাংলাদেশ বহু বছর ধরে বহুমুখী সমস্যা মোকাবিলা করছে। উজানে ভারত একতরফাভাবে পানি প্রত্যাহার ও নিয়ন্ত্রণ করার ফলে বাংলাদেশে তিস্তা এক মরা নদীতে পরিণত হয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে পানির চরম সংকট ও বর্ষা মৌসুমে আকস্মিক বন্যা এবং নদীভাঙনে বাংলাদেশ বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়। ভারত দীর্ঘ সময় ধরে এ সমস্যা জিইয়ে রেখেছে। পশ্চিমবঙ্গের গজলডোবা ব্যারাজের মাধ্যমে শুষ্ক মৌসুমে ভারত একতরফা পানি প্রত্যাহার করে চলেছে। এ সময় তিস্তার পানিপ্রবাহ এক হাজার কিউসেকেরও নিচে নেমে আসে। ফলে তিস্তা সেচ প্রকল্পের আওতাধীন উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের লাখ লাখ হেক্টর জমির বোরো ও আমন ধান চাষের উৎপাদন ব্যাহতসহ কৃষি এবং সেচ বিপর্যয় হচ্ছে। বর্ষাকালে গজলডোবা ব্যারাজের গেটগুলো আগাম তথ্য না দিয়ে ভারত হঠাৎ করে খুলে দেওয়ার কারণে উত্তরাঞ্চলজুড়ে আকস্মিক বন্যা ও তীব্র নদীভাঙন দেখা দেয়, যা প্রতিবছরের সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পানির অভাবে নদী শুকিয়ে যাওয়ায় তিস্তা অববাহিকার প্রায় ২ কোটি ১০ লাখ মানুষের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে এবং অঞ্চলটির মরূকরণ ত্বরান্বিত হচ্ছে। ২০১১ সালে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিংয়ের বাংলাদেশ সফরকালে একটি খসড়া চুক্তি স্বাক্ষরের কাছাকাছি পৌঁছালেও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির বিরোধিতার কারণে তা ঝুলে যায়। আজও ভারতের সঙ্গে তিস্তা চুক্তি হয়নি এবং আদৌ এ চুক্তি হবে কি না, তা বলা যাচ্ছে না। ফলে বাংলাদেশকে তার অস্তিত্ব রক্ষায় বিকল্প চিন্তা করতে হয় এবং এ ব্যাপারে চীন এগিয়ে এসেছে।
প্রস্তাবিত তিস্তা মহাপরিকল্পনার আওতায় নদী খনন, নদী শাসন, স্থায়ী বাঁধ ও গাইড ওয়াল নির্মাণ, জলাধার বা রিজার্ভার তৈরি এবং আধুনিক সব অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে। এর মাধ্যমে বর্ষায় উদ্বৃত্ত পানি ধরে রেখে শুষ্ক মৌসুমে ব্যবহার করা হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক সফরে বাংলাদেশ ও চীন তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে ঐকমত্যে পৌঁছেছে। প্রকল্পের নকশা, পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে চীন পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে ইতোমধ্যে দ্রুত যৌথ সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শুরু করতে একমত হয়েছে।
ভারতের শিলিগুড়ি করিডোরের (চিকেনসনেক) কাছাকাছি এই চীনা প্রকল্পে দিল্লির তীব্র কৌশলগত আপত্তি ও উদ্বেগ রয়েছে। তবে চীনের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, তিস্তা মহাপরিকল্পনায় চীনের সহযোগিতা সম্পূর্ণরূপে বাংলাদেশের মানুষের জীবন-জীবিকার স্বার্থে এবং এটি কোনো তৃতীয় পক্ষকে লক্ষ্য করে বা তাদের হস্তক্ষেপ বিঘ্নিত হওয়ার কিছু নেই।
তিস্তা মহাপরিকল্পনায় রয়েছে নদীর প্রায় ১১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ড্রেজিং (খনন) ও গভীরতা বৃদ্ধি। তিস্তার দুই তীরে ১০০ কিলোমিটারেরও বেশি স্থায়ী গাইড বাঁধ নির্মাণ এবং সড়ক যোগাযোগ স্থাপন। বর্ষা মৌসুমে পানি সংরক্ষণ বা ধরে রাখার জন্য বিশাল জলাধার বা রিজার্ভার তৈরি, যা শীতকালে খরা মৌসুমে সেচকাজে ব্যবহার করা হবে। নদী খনন ও ভূমি পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে প্রায় ১৭১ বর্গকিলোমিটার এলাকা সৃষ্টি করে, সেখানে অর্থনৈতিক হাব তৈরি করা হবে এবং আবাসন গড়ে তোলা হবে।
বাংলাদেশ ও চীন সরকার যৌথ অংশীদারত্বের ভিত্তিতে এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হবে। চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান পাওয়ারচায়না এই প্রকল্পের সম্ভাব্য বা ফিজিবিলিটি স্টাডির কাজ করছে। প্রকল্পের প্রথম ধাপে চীনের কাছ থেকে প্রায় ৫৫০ মিলিয়ন ডলার ঋণ সহায়তা চাওয়া হচ্ছে। বাকি অর্থ মেটানো হবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে। এ প্রকল্পে চীনের উন্নত পানি ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের পানিসম্পদ বিশেষজ্ঞ ও কর্মকর্তাদের চীনে বিশেষ প্রশিক্ষণের প্রস্তাব করা হয়েছে। বেইজিং স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, বাংলাদেশ-চীন তিস্তা সহযোগিতা সম্পূর্ণ গবেষণানির্ভর ও মানবিক একটি পদক্ষেপ। এটি ভারতকে লক্ষ্য করে নয়। ভারতের সঙ্গে দীর্ঘদিনের তিস্তা পানিবণ্টন চুক্তি আটকে থাকায় বাংলাদেশ নিজস্ব সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে দেশের অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত স্বার্থে চীনের এই সহযোগিতা গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ভারতের সঙ্গেও ঐতিহাসিক সম্পর্ক বজায় রাখছে বাংলাদেশ। আগামী ১০ বছরের মধ্যে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হবে। প্রকল্পের প্রথম তিন থেকে চার বছরের মধ্যে—অর্থাৎ ২০২৯ সালে নদী খনন, ভূমি পুনরুদ্ধার ও গাইড বাঁধ নির্মিত হবে। এরপর তৈরি হবে জলাধার এবং অর্থনৈতিক হাব। মহাপরিকল্পনার বাস্তবায়নে প্রাণ ফিরে পাবে তিস্তা।
মালয়েশিয়ায় কর্মসংস্থান
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়ায় সফরে বন্ধ থাকা শ্রমবাজার আবার খুলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। মালয়েশিয়ায় কর্মরত প্রায় আট লাখ প্রবাসী বাংলাদেশির কর্মসংস্থান টিকিয়ে রাখা এবং নতুন জনশক্তি রপ্তানির সুযোগ তৈরিতে মালয়েশিয়া একমত হয়েছে। বিগত আওয়ামী শাসনামলে রিক্রুটিং এজেন্সির সিন্ডিকেট, অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় এবং শ্রমিকদের ব্যাপক শোষণ ও জালিয়াতির কারণে দেশটিতে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ বন্ধ ছিল। ওই সময় রপ্তানির আড়ালে অবৈধ অর্থ ও মানব পাচারের মতো অভিযোগও উঠেছিল।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া ও চীন সফরে রোহিঙ্গাসংকট সমাধানে বহুপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদার এবং মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনার নতুন ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং জানিয়েছেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশ যদি মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা করতে চায়, তাহলে চীন তাতে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও মধ্যস্থতা করবে। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম জানিয়েছেন, এ সংকট মোকাবিলায় সমন্বিত আঞ্চলিক উদ্যোগ গড়ে তোলা হবে। আশিয়ান বাংলাদেশকে সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হওয়ার ক্ষেত্রে মালয়েশিয়া সহযোগিতা করবে, যাতে রোহিঙ্গাসংকটের সমাধান হয়। প্রধানমন্ত্রীর এই সফর রোহিঙ্গাসংকট নিরসনে কূটনৈতিক অগ্রগতি হয়েছে।
লেখক : বর্তমান সরকারের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক, জাতীয় প্রেস ক্লাব