সেপ্টেম্বর-অক্টোবর থেকে ধাপে ধাপে শুরু হচ্ছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন। ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন দিয়ে শুরু হবে এ ভোট। এরই ফাঁকে হতে পারে সিটি নির্বাচনও। এরইমধ্যে প্রস্তুতি এগিয়ে নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। রক্তপাতহীন ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিতে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেয়ার প্রতিশ্রুতি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটির।
জুলাই বিপ্লবের পর থেকে বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদ ছাড়া সব পর্যায়ের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান চলছে প্রশাসক দিয়েই। সংসদে স্থানীয় সরকারের সংশোধিত আইন পাশের পর নির্বাচন কমিশন আচরণবিধি চূড়ান্ত করার কাজ করছে।
সম্প্রতি চলতি বছরের সেপ্টেম্বর-অক্টোবর থেকে পর্যায়ক্রমে স্থানীয় সরকারের ভোট শুরুর বিষয়ে সংসদেই ইঙ্গিত দিয়েছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর এমন বক্তব্যের পর ভোট আয়োজনে আনুষ্ঠানিক চিঠি না পেলেও নির্বাচনের প্রস্তুতি কার্যক্রমে গতি বেড়েছে ইসির।
সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন চার হাজার ৫৮০টি ইউনিয়ন পরিষদ, ৩৩০টি পৌরসভা, নব গঠিত বগুড়া সিটি করপোরেশনসহ ১৩ সিটি করপোরেশন, ৪৯৫টি উপজেলা পরিষদ ও ৬৪টি জেলা পরিষদের তথ্য সংগ্রহ করেছে। প্রতি তিন মাসে দুটি ধাপের ভোট সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নির্বাচন কমিশনের।
ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ‘নির্বাচন করার জন্য কিছু জিনিস লাগে। সেগুলো হলো: ভোটার তালিকা, বাক্স, সিল, গালা, বস্তা ইত্যাদি। এগুলো আমাদের আছে। ভোটকেন্দ্রও আমাদের আছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা হবে নির্বাচনের সঙ্গে সম্পর্কিত।’
দলীয় প্রতীক ছাড়া স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আচরণবিধিমালার নতুন খসড়ার ওপর রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত জানতে ৩০ জুন পর্যন্ত সময় দিয়েছে ইসি। ইউপি নির্বাচনের মাধ্যমে স্থানীয় সরকারে ভোটের প্রক্রিয়া শুরুর আশা করছে কমিশন।
ইসি আনোয়ারুল হক সরকার বলেন,
রাজনৈতিক দলের প্রতীকের ওপর ভিত্তি করে কোনো প্রচারণা হবে না। কোনো ধরনের পোস্টারই আমরা না রাখার পক্ষে। সেপ্টেম্বর-অক্টোবর থেকে নির্বাচনের প্রস্তুতি আছে।
ইসি আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ‘ইভিএম ব্যবহার হবে না। আমরা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দিয়েই শুরু করব।’
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনও মে মাসে এক অনুষ্ঠানে রক্তপাতহীন নির্বাচনের বিষয়ে নিজেদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।