ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার ব্যস্ততম নান্দাইল চৌরাস্তা এলাকায় গণশৌচাগারের (পাবলিক টয়লেট) ইজারা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্বে আদালত ১৪৪ ধারা জারি করেছেন।
জনসেবামূলক একটি প্রতিষ্ঠানের ইজারা নিয়ে এমন আইনি জটিলতায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীদের মধ্যে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে উভয়পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও আদালতের নোটিশ থেকে জানা যায়, মো. আ. কুদ্দুছ জুয়েলের পক্ষে নান্দাইল চৌরাস্তা এলাকায় একটি পাবলিক টয়লেট এক বছরের জন্য ইজারা নিয়ে ব্যবসা করছিলেন নান্দাইল উপজেলার চণ্ডীপাশা ইউনিয়নের বারুইগ্রামের মো. আব্দুল হেলিমের ছেলে শফিকুল ইসলাম; কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, ইজারার মেয়াদ শেষ হওয়ার মাত্র ২৭ দিন বাকি থাকতেই ১৪৩৩ বাংলা সন এক বছরের জন্য উপজেলা প্রশাসন বারুইগ্রামের মো. তারা মিয়ার ছেলে মো. মইনুদ্দীন নামীয় এক ব্যক্তির কাছে শৌচাগারটি পুনরায় ইজারা দিয়ে দেয়।
বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় সালিশ দরবার হলেও কোনো সমাধান আসেনি। পরে শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নালিশি আবেদন করেন। আদালত শুনানি শেষে আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গের আশঙ্কায় বিরোধপূর্ণ স্থানে ১৪৪ ধারা জারির নির্দেশ দেন এবং আগামী ১২ আগস্ট উভয়পক্ষকে আদালতে হাজির হয়ে জবাব দাখিলের নির্দেশ প্রদান করেন।
আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ১৬ জুন নান্দাইল মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয়পক্ষকে আইনি নোটিশ হস্তান্তর করেন। বর্তমানে তা মাইনুদ্দীনের দখলে রয়েছে।
পূর্বের ইজারাদার আব্দুল কুদ্দুছ জানান, এক মাস মেয়াদ থাকা সত্ত্বেও তাকে না জানিয়ে নতুন ইজারা ডাকা হয়। পরবর্তীতে ইউএনও তাকে ডেকে নিয়ে নতুন ইজারাদারকে বুঝিয়ে দেওয়ার কথা বলেন, কিন্তু জামানতের টাকা এখনো পাননি।
মামলার বাদী শফিকুল ইসলাম বলেন, সরকারি রাজস্ব আদায়ের স্বার্থে এবং ন্যায়বিচারের জন্য তিনি আদালতে মামলাটি দায়ের করেছেন।
নান্দাইল মডেল থানার এএসআই মো. আল আমীন জানান, আদালতের আদেশ মোতাবেক আমরা উভয়পক্ষকে নোটিশ পৌঁছে দিয়েছি। বর্তমান স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
এ বিষয়ে নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফাতেমা জান্নাত জানান, নিয়মানুযায়ী ইজারা দেওয়া হয়েছে।