Image description

দেশ পরিচালনায় তেলের জোর নয়, মাথার জোর প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। তিনি বলেছেন, ‘‘প্রচলিত রাজনৈতিক সংস্কৃতির কারণে অনেক যোগ্য ব্যক্তি যথাযথ মূল্যায়ন পান না। দলীয় বিভাজনের মধ্যে পড়ে অনেক মেধাবী মানুষ আড়ালে থেকে যান। তাই প্রকৃত মেধাবীদের খুঁজে বের করে রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে দায়িত্ব দিতে হবে। দেশ পরিচালনায় প্রয়োজন দক্ষ, সৃজনশীল ও নেতৃত্বদানে সক্ষম মানুষের।’’

রবিবার (২৮ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটরিয়ামে দুপুর ১টায় তিন দিনব্যাপী নবীনবরণ অনুষ্ঠানের প্রথম দিন এসব কথা বলেন এই আইনজীবী। 

 

শিশির মনির বলেন, ‘‘রাষ্ট্র পরিচালনায় নারী-পুরুষ বা রাজনৈতিক পরিচয় নয়, বরং মেধা, যোগ্যতা ও দক্ষতাকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। দেশের উন্নয়ন ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে মেধাবী এবং দক্ষ মানুষকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আনতে হবে।’’

একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দলীয় বিভাজনের পরিবর্তে সত্য, ন্যায় ও নৈতিকতার চর্চা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তার মতে, পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উঠে আসা মেধাবী, উদ্ভাবনী ও সৃজনশীল তরুণদের যথাযথ দায়িত্বে নিয়োজিত করা গেলে দেশ তাদের প্রকৃত সক্ষমতার সুফল পাবে।

রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে যোগ্য ব্যক্তিদের মূল্যায়নের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘‘কে কোন রাজনৈতিক দল করে সেটি মুখ্য নয়, বরং যার যে যোগ্যতা, তাকে সেই অনুযায়ী দায়িত্ব দেওয়াই দেশের অগ্রগতির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে তরুণদের আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে এসে দেশ গঠনে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।’’

 

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন বলেন, ‘‘রাজনৈতিক বিভাজনের কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় বিভক্তি সৃষ্টি হয়, যা শিক্ষা, গবেষণা, সৃজনশীল চিন্তা ও একাডেমিক পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। শিক্ষার্থীদের দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সত্য, ন্যায় ও নীতির পক্ষে অবস্থান নিতে হবে।’’

এ সময় বক্তারা বলেন, কোনও ছাত্রসংগঠন বা ব্যক্তি অন্যায় করলে দলীয় পরিচয় বিবেচনা না করে তার সমালোচনা ও তাকে বর্জন করা উচিত। শিক্ষার্থীদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাহসিকতার সঙ্গে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়ে জানিয়ে দিতে হবে যে, তারা ছাত্রসুলভ আচরণবহির্ভূত কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করে না। এতে সব ছাত্রসংগঠন ও নেতাকর্মী সঠিক পথে চলতে বাধ্য হবে বলেও মন্তব্য করেন বক্তারা।

শাখা শিবিরের সভাপতি আব্দুল আলিম আরিফের সভাপতিত্বে এবং শিবিরের সাধারণ সম্পাদক ও জকসুর শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক ইব্রাহিম খলিলের সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন প্রধান আলোচক ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম।

এছাড়াও, প্যানেলিস্ট হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির, বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ বিলাল হোসাইন, ন্যাশনাল রিসার্চ ইউনিভার্সিটি হায়ার স্কুল অব ইকোনমিকসের (রাশিয়া) ক্যান্ডিডেট অব সায়েন্স ড. মো. নূরুল হাসান, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক মো. আসাদুজ্জামান সাদী এবং বিশেষ অতিথি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু)-এর সহ-সভাপতি (ভিপি) মো. রিয়াজুল ইসলাম।