Image description

এলপিজির কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির নেপথ্যে ছিল ব্যবসায়ী নেতা সিরাজুল মাওলা ও জ্বালানি সচিব সিন্ডিকেট

গত শীত মৌসুমে এলপিজি (তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস) সংকটের কথা কারো ভুলে যাওয়ার কথা নয়। এলপিজি সিলিন্ডার সংকটে সারাদেশে হাহাকার পড়ে গিয়েছিল। বাসাবাড়িতে নতুন গ্যাস সংযোগ দেওয়া বন্ধ রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। ফলে শহরে এখন এলপি গ্যাস ছাড়া বিকল্প কোনো উপায় নেই। এলপিজির ব্যবহার আজকাল গ্রাম পর্যায় পর্যন্তও বিস্তৃত হয়েছে। সবমিলিয়ে দেশের বিশাল জনগোষ্ঠী এখন এলপিজির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। কিন্তু গত শীত মৌসুমে এ রকমের সংকট তৈরি হয় যে, নির্ধারিত দরের চেয়ে অনেক বেশি দামেও এলপিজি সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছিল না। এতে অনেকের রান্না-বান্নাই বন্ধ হয়ে যায়। অথচ ওই সময় যুদ্ধ-বিগ্রহ বা বহির্বিশ্ব থেকে এলপিজি আমদানিতে কোনো রকমের সমস্যা ছিল না। বহির্বিশ্বে দামও অস্বাভাবিক ছিল না। সংকট-টা যে কৃত্রিমভাবে তৈরি করা হয়েছিল এটা কারো অজানা নয়। তবে এই সংকটের পেছনে কে বা কারা জড়িত, এখন পর্যন্ত তা খতিয়ে দেখা হয়নি। এবং এরজন্য কাউকে দায়ীও করা হয়নি। অর্থাৎ সাধারণ সচেতন মানুষের এমনকি সরকারের নীতিনির্ধারকদেরও অগোচরে রয়ে গেছে এমন বড় গুরুত্বপূর্ণ একটা ইস্যু। দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের সংকট আবারো সৃষ্টি করা হতে পারে। এমনকি ষড়যন্ত্রমূলকভাবে সরকারকে বিপর্যয়ের মধ্যে ফেলে দিতে পারে, বলছেন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।

গত বছরের অক্টোবরের শেষের দিক থেকে এই সংকট শুরু হয়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ পর্যন্ত এলপি গ্যাস সংকট চলেছে। এলপিজি সংকটের কারণে অনেক অটোগ্যাস স্টেশন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। কখনো কখনো দ্বিগুণ দাম দিয়েও এলপিজি সিলিন্ডার পাওয়া যায়নি। এদিকে একই সময়ে তিতাসের গ্যাস লাইনে ত্রুটিসহ নানা কারণে অনেক স্থানে গ্যাস লাইনে সরকারি সরবরাহও বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ফলে গ্যাস সংকট তীব্র আকার ধারণ করে। এই সময়গুলোতে ভোক্তাদের পকেট থেকে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে হাজার হাজার কোটি টাকা। গৎবাঁধাভাবে এলপিজির কৃত্রিম সংকটের কথা বলা হয়েছে। এবং এও বলা হয়েছে যে, এলপিজি খাত প্রায় পুরোটাই বেসরকারি সরবরাহকারীদের হাতে- বিএম এনার্জি, ওমেরা, মেঘনা, যমুনা, পেট্রোমেক্সসহ ৯/১০টি আমদানি ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এই পুরো খাত নিয়ন্ত্রণ করে থাকে- এরাই সংকট সৃষ্টির জন্য দায়ী। কিন্তু আসলে কে বা কারা দায়ী?

কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির নাটের গুরু জ্বালানি সচিব ও তার বন্ধু অটোস্টেশন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি
কিন্তু শীর্ষনিউজ ডটকম ও শীর্ষকাগজের অনুসন্ধানে যেটি বেরিয়ে এসেছে তা অত্যন্ত গুরুতর ও ভয়াবহতম তথ্য। বিএম এনার্জি, ওমেরা, মেঘনা, যমুনা, পেট্রোমেক্সের চেয়েও বেশি যারা ওই কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির জন্য দায়ী, সংকট সৃষ্টিতে নেতৃত্ব দিয়েছে এদের নাম আসেনি গণমাধ্যমে প্রকাশিত কোনো খবরে। কোনো বক্তব্য-বিবৃতিতেও নয়। অথচ এই চক্রটিই কারসাজির মাধ্যমে সংকট সৃষ্টি এবং তা দীর্ঘায়িত করতে প্রধান ভূমিকা রেখেছে। এরা হলেন বাংলাদেশ এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন অ্যান্ড কনভারশন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মো. সিরাজুল মাওলা এবং তার বন্ধু জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. হাসিন পারভেজও এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে মূল নায়ক ছিলেন সিরাজুল মাওলা-ই। এলপিজি আমদানি, উৎপাদন ও সরবরাহকারীর তালিকায় ৯/১০টি প্রতিষ্ঠান নেতৃত্ব দিলেও মাঠপর্যায়ে বাজারজাতকরণের চাবিকাঠি পুরোটই এদের হাতে। ফলে এই চক্রটির কথার বাইরে যাওয়ার ক্ষমতা নেই আমদানি ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সারাদেশে সাড়ে পাঁচশ’র বেশি এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন রয়েছে। এগুলোর নেতৃত্বে সিরাজুল মাওলা এবং হাসিন পারভেজ। সাড়ে পাঁচশ’র মধ্যে ৪৭টি এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশনের একক মালিক ইঞ্জিনিয়ার মো. সিরাজুল মাওলা নিজেই। হাসিন পারভেজের মালিকানায় আছে ১৫টি। অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃত্বসহ নানা কারণে অন্যান্য অটোগ্যাস স্টেশনের মালিকরা এদের কথা, বিশেষ করে সিরাজুল মাওলার কথা শুনতে বাধ্য। সেই পরিস্থিতি তিনি গত কয়েক বছরে তৈরি করে নিয়েছেন জ্বালানি মন্ত্রণালয় এবং বিস্ফোরক অধিদপ্তর নিজের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার মাধ্যমে। শুধু এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশনগুলোই নয়, সারাদেশের এলপিজি বাজারজাতকরণের ডিস্টিবিউটর এবং ডিলাররাও সিরাজুল মাওলার নিয়ন্ত্রণে। এলপিজি আমদানি ও বিপণনকারী কোম্পানিগুলোর প্রত্যেকটিরই আলাদা নিজস্ব ডিলার থাকলেও এরাও সিরাজুল মাওলার কথার বাইরে যেতে পারেন না। সচিবালয় থেকে শুরু করে মাঠ পর্যন্ত তিনি কৌশলে এমন নেটওয়ার্ক তৈরি করে রেখেছেন যে, তাঁর কথার বাইরে এদের কারোই যাওয়ার সুযোগ নেই।

বাংলাদেশ এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন অ্যান্ড কনভারশন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন নামে এই সংগঠনটি খুব বেশি আগের নয়। আওয়ামী লীগ আমলে সিরাজুল মাওলার হাত দিয়েই ২০২১ সালে এটি প্রতিষ্ঠা পায়। সেই থেকে তার উত্থান ঘটে এবং অত্যন্ত দ্রুত এই পুরো সেক্টরের মাফিয়া হিসেবে আবির্ভুত হয়ে ওঠেন। ইঞ্জিনিয়ার সিরাজুল মাওলার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের সন্দীপে। সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের এলাকায়। উপদেষ্টা ফাওজুল কবিরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সুবাদে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সিরাজুল মাওলার প্রভাব রাতারাতি অনেকগুণ বেড়ে যায়। তারমধ্যেই জ্বালানি সচিব সাইফুল ইসলামের সঙ্গে বন্ধুত্বের আত্মপ্রকাশ ঘটে। ভিন্ন পরিবেশে, ভিন্ন ভিন্ন স্থানে সচিব সাইফুল ইসলামের সঙ্গে সিরাজুল মাওলার গোপন বৈঠকগুলো হয়ে আসছে তখন থেকেই, এ সম্পর্কে আলোচ্য প্রতিবেদনেই পরে আলোকপাত করা হচ্ছে।

মানুষের পকেট থেকে যেভাবে হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়
একদিন-দুইদিন নয়, এক সপ্তা-দুই সপ্তাও নয়, গত শীত মৌসুমে এলপিজির চরম সংকট চলেছে দীর্ঘ প্রায় চার মাসেরও বেশি সময় ধরে। এমনকি শীত মৌসুম শেষ হয়ে যাওয়ার পরও সংকট অব্যাহত ছিল। এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের যখন চরম সংকট চলছিল ওই সময় আমদানি ও সরবরাহকারী কোম্পানিগুলোর সভা আহ্বান করা হয় সরকারের শীর্ষমহলের নির্দেশে। সভায় কোম্পানিগুলো অভিযোগ করে, এলপিজি আমদানির জন্য তাদেরকে চাহিদা অনুযায়ী যথসময়ে অনুমতি দেওয়া হয়নি। নানা রকমের টালবাহানা এবং হয়রানির মাধ্যমে সময়ক্ষেপণ করা হয়েছে মন্ত্রণালয় থেকে। এই অজুহাত সৃষ্টির জন্য দায়ী ছিলেন আদতে জ¦ালানি সচিব সাইফুল ইসলাম নিজেই। অর্থাৎ সংকটের শুরু তাঁর হাত দিয়েই। পরবর্তীতে যদিও চাহিদা অনুযায়ী এলপিজি আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে, কিন্তু সংকট আর শেষ হয়নি। সংকট একবার শুরু হলে নানা কারসাজিতে তা দীর্ঘায়িত হবে এটাই স্বাভাবিক, এবং তাই ঘটেছে। পরের কাজগুলোতে নেতৃত্ব দিয়েছেন সচিবের বন্ধু এলপিজি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সিরাজুল মাওলা। এলপিজি আমদানি ও বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের ওপর প্রভাব খাটিয়ে এবং তাদের সঙ্গে যোগসাজশ করে সংকটকে তীব্র ও দীর্ঘায়িত করেছেন তিনি। আমদানি ও বিপণনকারী কোম্পানিগুলোর যদিও লোয়াব (এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ) নামে নিজস্ব সংগঠন রয়েছে তারপরও মাঠ পর্যায়ে বাজারজাতকরণের কাজটা যেহেতু সিরাজুল মাওলার হাতে, তাই তার কথা শুনতে এরা বাধ্য। এ বিষয়ে তিনি অনেকটা মাফিয়া হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। তাছাড়া জ¦ালানি মন্ত্রণালয়ও তাঁর নিয়ন্ত্রণে। সচিবের বন্ধু তিনি। জ¦ালানি মন্ত্রণালয়ের নেক নজর ছাড়া এ ব্যবসা চালানো কঠিন, এটা সবাই ভালো করেই বোঝেন। অবশ্য, এতে তাদেরও তো ভাগ্য সুপ্রসন্ন! কৃত্রিম সংকট মানেই উপরি বা অস্বাভাবিক লাভ। এ সুযোগ কেউই হাতছাড়া করতে চাইবে না। আমদানি ও সরবরাহকারী কোম্পানিগুলো তাই করেছে। আর এভাবেই দেশের মানুষকে জিম্মি করে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে হাজার হাজার কোটি টাকা।

সংকট যাতে তীব্র থেকে তীব্রতর হয়, এজন্য সরকারের গ্যাস সরবরাহের লাইনগুলোতেও অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে গ্যাস সরবরাহ অনেক কমিয়ে দেওয়া হয় এবারের শীত মৌসুমে। একই সময়ে তিতাসের গ্যাস সরবরাহের লাইনগুলোতে ত্রুটি এবং সরবরাহ বন্ধ রাখা হয় দফায় দফায়। এতে সব শ্রেণির মানুষই এলপিজি সিলিন্ডারের দিকে ছুটেছে। যারা অতীতে কখনো চুলায় গ্যাসের সংকট দেখেনি বা কল্পনাও করেনি, তারাও এবার এই পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছে। কিন্তু বাজারে হন্যে হয়ে খুঁজলেও সিলিন্ডার পাওয়া যায়নি। প্রতিটি সিলিন্ডার বিক্রি হয়েছে দ্বিগুণ বা তারও বেশি দামে। অভিযোগ রয়েছে, তিতাসের সরবরাহ লাইনে ত্রুটিগুলো হয়েছে অধিকাংশ ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়ের ইঙ্গিতে।

তাবলিগের অন্তরালে সিরাজুল মাওলা- সচিব সাইফুলের গোপন বৈঠক-শলাপরামর্শ
এলপিজি বা জ¦ালানি সংক্রান্ত বিভিন্ন ধরনের অনেকগুলো কোম্পানির মালিক সিরাজুল মাওলা। প্রধান কার্যালয় মিরপুর পল্লবীতে। বিশাল এলাকা নিয়ে নয়তলা ভবনের পুরোটাই তাঁর মালিকানাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়। এই ভবনের প্রায় সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী তাবলিগী ধরনের, একই লেবাসধারী। নিজের বিশ্বস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে মাঝেমধ্যে বন্ধের দিনগুলোতে তাবলিগে যান সিরাজুল মাওলা। এ ধরনের তাবলিগে বাইরের একমাত্র ব্যক্তি উপস্থিত থাকেন, তিনি হলেন জ¦ালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। অবশ্য, এতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়। সাইফুল ইসলাম তাবলিগে যোগ দেন সরকারি গাড়ি এবং নিজের এসবি সিকিউরিটিকে এড়িয়ে। সিরাজুল মাওলার পাঠানো গাড়িতে করে তিনি ওই বিশেষ তাবলিগে যান। মসজিদ বা অন্য বিশেষ কোনো স্থান থেকে তিনি ওই গাড়িতে ওঠেন। তাবলিগের বয়ান নিয়ে ব্যস্ত থাকেন অন্যরা, আর এদিকে আলাদা স্থানে বসে সাইফুল ইসলাম-সিরাজুল মাওলা নিজেদের মধ্যকার শলাপরামর্শ সারেন। এভাবেই চলে আসছে গোপন বৈঠকগুলো দাবি প্রত্যক্ষদর্শীর।

সিরাজুল মাওলার সবুজ সংকেত ব্যতিত লাইসেন্স-ছাড়পত্র মেলে না
অটোগ্যাস স্টেশন স্থাপন এবং এলপিজি ডিলারশিপের জন্য ছাড়পত্র, লাইসেন্স প্রভৃতি নিতে হয় বিস্ফোরক অধিদপ্তর থেকে। কিন্তু এগুলো সহজে মেলে না। জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের অধীন বিস্ফোরক অধিদপ্তরের পুরো নিয়ন্ত্রণ সিরাজুল মাওলার হাতে। সব কাগজপত্র সঠিক থাকার পরও সিরাজুল মাওলার সবুজ সংকেত বা তাঁর সঙ্গে সমঝোতা ছাড়া ছাড়পত্র-লাইসেন্স প্রভৃতি মেলে না। ইতিপূর্বে এই অধিদপ্তরের প্রধান বিস্ফোরক পরিদর্শক পদে ছিলেন ফ্যাসিস্ট ও দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা, যুগ্মসচিব হায়াত মো. ফিরোজ। বর্তমানে তিনি মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ উইং- উন্নয়ন অনুবিভাগ এবং একই সঙ্গে উন্নয়ন-২ অধিশাখার দায়িত্বে। এলপিজি সংক্রান্ত কাজগুলো তাঁর অধীনেই। বন্ধু সিরাজুল মাওলার পছন্দেই দুর্নীতিবাজ-ফ্যাসিস্ট কর্মকর্তা হায়াত মো. ফিরোজকে এই দায়িত্বগুলো দিয়েছেন সচিব।
অভিযোগ রয়েছে, প্রতিটি ছাড়পত্র-লাইসেন্সের জন্য ৪/৫ লাখ টাকা ঘুষ দিতে হয়। তবে এরচেয়েও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- সংশ্লিষ্ট অটোগ্যাস স্টেশনের মালিক এবং ডিলারদেরকে নিজের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া। সিরাজুল মাওলার নিয়ন্ত্রণে থাকার প্রতিশ্রুতি দেওয়া না হলে ছাড়পত্র-লাইসেন্স পাওয়া যায় না।

জামায়াতে ইসলামীকে নির্বাচনী ফান্ড সরবরাহ
এক সময় তাবলীগ কার্যক্রমের ঘোর বিরোধী ছিল জামায়াতে ইসলামী। নিজেদের দলীয় নীতি-আদর্শের বাইরে কোনো কিছুতেই থাকতেন না তারা। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেই নীতির অনেক পরিবর্তন ঘটেছে। যেমন- ক্ষমতায় থাকাকালে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের মধ্যে ব্যাপকহারে ঢুকে পড়েছিল জামায়াতের লোকজন। যারা পরবর্তীতে ‘গুপ্ত’ নামে আখ্যায়িত হয়েছেন। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা পাওয়ার কৌশল হিসেবেই তারা এটা করেছেন। বর্তমান ক্ষমতাসীন বিএনপির মধ্যেও অনেক জামায়াত-শিবির ঢুকে পড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তাবলিগ জামায়াত বর্তমানে একাধিক ভাগে বিভক্ত। এরমধ্যে একটি অংশে রয়েছে জামায়াতে ইসলামীরই লোকজন। সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম এবং তাঁর বন্ধু, এলপিজি ব্যবসায়ী সিরাজুল মাওলা তাবলিগের এই অংশেরই। আদতে এরা ‘গুপ্ত জামায়াত’।
নির্ভরযোগ্য সূত্রমতে, জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীকে ক্ষমতায় আনার বিশেষ মিশন নিয়ে কাজ করেছেন সাইফুল ইসলাম ও সিরাজুল মাওলা। জামায়াতের ভোট কেনার ফান্ডে বড় অংকের অর্থ দিয়েছেন এই মাফিয়া ব্যবসায়ী। অবশ্য নির্বাচনের আগে তিনি বিএনপির নির্বাচনী ফান্ডেও কিছু টাকা দিয়েছেন, বাঁচার চিন্তা মাথায় রেখে। কিন্তু জামায়াতকে যে পরিমাণ অর্থ দিয়েছেন সেই তুলনায় এটাকে ‘নামেমাত্র’ বলা চলে, বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

শীর্ষনিউজ