বিগত বছরগুলোর মতো এবার বাজেট উপস্থাপনের পর ‘মানি না, মানবো না’ স্লোগান ওঠেনি বলে মন্তব্য করেছেন সরকারদলীয় সংসদ সদস্য জয়নুল আবেদীন ফারুক। তিনি বলেন, সমালোচনা অবশ্যই হবে, তবে তা হতে হবে গঠনমূলক। অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে সবাইকে মিলেমিশে দেশ গড়তে হবে।
শনিবার (২৭ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৬তম কার্যদিবসে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
এদিন বেলা ১১টায় শুরু হওয়া অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ আহমদ বীর বিক্রম।
বক্তব্যের শুরুতে ‘সুন্দর বাজেট’ উপস্থাপনের জন্য অর্থমন্ত্রী এবং সংসদ নেতা তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানান জয়নুল আবেদীন ফারুক।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘গত ২৮ অক্টোবর ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকতে আজকের অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন, শেখ হাসিনা ভোট চোর। আজ একটি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সরকারের অর্থমন্ত্রী, সংসদ নেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বে মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত একটি চমৎকার বাজেট উপস্থাপন করেছেন।’
বিরোধী দলের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘বহু বাজেট দেখেছি। কিন্তু এবার আমার একটা বিষয় ভালো লেগেছে— বাজেট উপস্থাপনের পর “মানি না, মানবো না” আওয়াজটা আসেনি। সমালোচনা আপনারা করুন, জবাব আমরা দেব। তবে সমালোচনা গঠনমূলক হতে হবে।’
অধিবেশনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর বক্তব্যের জবাবে জয়নুল আবেদীন ফারুক একাত্তরে জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, ‘ইসলাম নিয়ে কথা বলার দরকার নেই। আপনারাই বিচার করুন, ১৯৭১ সালে আপনারা কোথায় ছিলেন? স্বাধীনতার একদিন আগে কারা বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড সংগঠিত করেছিল? কারা দেশকে বুদ্ধিশূন্য করতে চেয়েছিল? এসব বিষয় মনে রাখতে হবে।’
জুলাই বিপ্লবের শহীদ ও আহতদের স্মরণ করার পাশাপাশি তিনি বলেন, ১৯৭১-কে ভোলা যাবে না। এ সময় অর্থমন্ত্রীর কাছে মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বাড়ানোর দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অন্তত মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতাটা বাড়িয়ে দিন, যাতে বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে আপনার নাম লেখা থাকে।’
বাজেটে বিভিন্ন খাতে বরাদ্দের প্রশংসা করে সরকারদলীয় এই সংসদ সদস্য বলেন, ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালগুলোকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করতে সরকার বাস্তব পদক্ষেপ নিয়েছে। এছাড়া বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটে বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পকারখানা পুনরুজ্জীবিত করতে ২০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখায় অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান তিনি। একই সঙ্গে নারী উন্নয়ন ও তরুণদের বেকারত্ব দূরীকরণে বাজেটের নির্দেশনারও প্রশংসা করেন।
তিনি বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে এই সংসদ যৌথভাবে কাজ করবে বলে তিনি আশাবাদী।
দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করে জয়নুল আবেদীন ফারুক বলেন, ‘গত ১৬ বছর যারা দেশ শাসন করেছে, তারা গণতন্ত্রকে নস্যাৎ করেছে, মানুষকে নিষ্পেষিত করেছে। গত ১৭ বছরে ইলিয়াস আলীসহ অনেকে গুম হয়েছেন। আসুন, সেই ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে সবাই মিলে দেশ গড়ি। বাংলাদেশ সবার আগে।’