Image description

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, এ পরিবর্তনের সূচনা ইতোমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী করেছেন।

আজ শনিবার (২৭ জুন) আজ শনিবার (২৭ জুন) জাতীয় সংসদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম। 

এ সময় অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমি স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে ঐক্যমত প্রকাশ করে প্রথমেই বলতে চাই, বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি কালচারাল পরিবর্তন আনার প্রয়োজন রয়েছে। সেই পরিবর্তনের কাজ আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শুরু করেছেন। তিনি ইতোমধ্যেই দেখিয়েছেন, বিদেশ সফরে যাওয়ার সময় কিংবা দেশে ফেরার সময় বিমানবন্দরে হাজার হাজার মানুষের সমাবেশ ও সংবর্ধনার সংস্কৃতি তিনি অনুসরণ করেননি। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এটি একটি বড় ধরনের সাংস্কৃতিক পরিবর্তন। প্রধানমন্ত্রী একটি নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছেন, যা ভবিষ্যতের বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।’

প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া ও চীন সফরের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘এই সফরের ভিত্তি ছিল বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মৌলিক নীতিমালা। বাংলাদেশের সঙ্গে অন্যান্য দেশের সম্পর্ক হবে পারস্পরিক সম্মান, পারস্পরিক স্বার্থ, একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের ভিত্তিতে। প্রধানমন্ত্রী তার এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সেই মানদণ্ড পুনরায় প্রতিষ্ঠিত ও নিশ্চিত করেছেন।’

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এটি বিএনপির রাজনীতির একটি ধারাবাহিক অবস্থান। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশের পররাষ্ট্রনীতিতে যে ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন, সেটিই ছিল প্রত্যেক দেশের সঙ্গে পারস্পরিক সম্মান ও স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তোলা। আমরা এই নীতিতে কোনো ধরনের আপস করব না। প্রতিটি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের যে সম্ভাবনা রয়েছে, তা অর্থনৈতিক হোক কিংবা অন্য যেকোনো ক্ষেত্রে হোক, সেই সম্ভাবনাকে দেশের ও জনগণের স্বার্থে সর্বোচ্চভাবে কাজে লাগানোই আমাদের লক্ষ্য।’

তিনি আরও বলেন, বিএনপির রাজনীতির শুরু থেকেই বহুপাক্ষিকতাভিত্তিক (মাল্টিল্যাটারালিজম) পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করা হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী সেই ধারাবাহিকতাই বজায় রেখেছেন।

মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের শ্রমবাজারের বড় স্বার্থ জড়িত রয়েছে। পাশাপাশি জ্বালানি খাত, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থ রয়েছে। অন্যদিকে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, ‘চীন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদার। তবে দুই দেশের মধ্যে যে বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে, সেটি কীভাবে কমানো যায় এবং চীনের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি কীভাবে আরও বাড়ানো যায়, সে বিষয়েও এই সফরে আলোচনা হয়েছে।’

বক্তব্যের শেষাংশে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমি মনে করি, এই সফরের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে মানদণ্ড স্থাপন করেছেন, তা শুধু বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য নয়, বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের ক্ষেত্রেও একটি সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা নিশ্চিত করেছে।’