Image description

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় ১৫ বছর বয়সী এক মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণের পর সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বার অভিযোগে আব্দুল্লাহ (২৪) নামের এক লজিং ইমামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গতকাল বৃহস্পতিবার গভীর রাতে উপজেলার খেরুয়াজানী ইউনিয়নের একটি পার্শ্ববর্তী গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার আব্দুল্লাহ খেরুয়াজানী ইউনিয়নের ভিটিবাড়ী গ্রামের মিরু মিয়ার ছেলে। তিনি স্থানীয় একটি মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাড়িতে লজিং থাকতেন।

মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা-মা দুজনেই ঢাকায় তৈরি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। বাড়িতে কিশোরী তার বৃদ্ধা দাদির সঙ্গে থাকত। অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ কিশোরীর ফুফাতো ভাইয়ের সহপাঠী হওয়ার সুবাদে তাদের বাড়িতে লজিং থাকার সুযোগ পান।

​গত বছরের ২২ নভেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে কিশোরীর দাদি পাশের কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন। এই সুযোগে আব্দুল্লাহ ছাত্রীর পড়ার কক্ষে ঢুকে তাকে ধর্ষণ করেন। বিষয়টি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তিনি কক্ষ থেকে চলে যান। লোকলজ্জা ও ভয়ে ভুক্তভোগী কিশোরী তখন বিষয়টি পরিবারের কাউকে জানায়নি।

সম্প্রতি কিশোরীর শারীরিক পরিবর্তন দেখে দাদির সন্দেহ হয়। পরে তাকে স্থানীয় একজন চিকিৎসকের কাছে নিলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করলে জানা যায় কিশোরী ২৭ সপ্তাহের (প্রায় ৭ মাস) অন্তঃসত্ত্বা।

ঘটনাটি জানাজানির পর স্থানীয় প্রভাবশালীরা বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। এরপর ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে মুক্তাগাছা থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।

কিশোরীর ভাষ্য, লোকলজ্জার ভয়ে এতদিন কাউকে কিছু বলতে পারিনি। এখন আমি সাত মাসের গর্ভবতী। আমি এই অন্যায়ের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।

মুক্তাগাছা থানার ওসি কামরুল ইসলাম জানান, মামলার পর বৃহস্পতিবার গভীর রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।