সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফেরানোর বিষয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো চূড়ান্ত বার্তা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তবে ইউএই কর্তৃপক্ষ ৩০ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় নথিপত্র চাইলেও বাংলাদেশ সরকার মাত্র তিন দিনের মধ্যেই সেগুলো পাঠিয়েছে বলে জানান তিনি।
শুক্রবার (২৬ জুন) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তারের পর আবুধাবিতে ফেডারেল পুলিশ ই-মেইলের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারকে বিষয়টি জানায়। এরপর তাকে দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ৩০ দিনের মধ্যে তার সংক্রান্ত নথিপত্র চাওয়া হয়।’
তিনি বলেন, ‘আমরা তিন দিনের মধ্যেই সব নথিপত্র প্রস্তুত করেছি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সেগুলো ইউএই সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। এখন তাদের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি। আশা করছি, খুব শিগগিরই এ বিষয়ে তারা আমাদের জানাবে।’
শহিদ ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এ মামলার তিন আসামিকে ভারত সরকার গ্রেপ্তার করেছে। তারা বর্তমানে সম্ভবত কলকাতায় রয়েছেন। ভারতীয় আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।’
তিনি জানান, আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ-ভারতের বিদ্যমান প্রত্যর্পণ (এক্সট্রাডিশন) চুক্তি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নথিপত্র পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে যথাসময়ে ভারত সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা আশা করছি তাদের দেশে ফিরিয়ে আনতে পারব। এরপর এই মামলার অসমাপ্ত তদন্ত শেষ করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা সম্ভব হবে।’
সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সীমান্ত দিয়ে কাউকেই জোরপূর্বক বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কূটনৈতিকভাবে ভারতকে জানিয়েছি, যদি সেখানে কোনো বাংলাদেশি অবস্থান করে, তাহলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তাদের তালিকা পাঠানো হোক। নাগরিকত্ব যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’