শিক্ষার্থীদের শিয়াল বলে মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছে জামালপুর সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে। আবাসিক হলের ফি বৃদ্ধি নিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠকে এমন মন্তব্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। এ নিয়ে উত্তপ্ত কলেজ ক্যাম্পাস।
আজ বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টার দিকে কলেজ শিক্ষক সংসদ মিলনায়তনে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রশাসনের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, হঠাৎ করে বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিলের নামে হল ফি এক হাজার টাকা বাড়ানো হয়েছে, যা তাদের জন্য বাড়তি চাপ। এ কারণে তারা ফি বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি করেন।
বৈঠকে দীর্ঘ আলোচনা হলেও কোনো সমাধানে পৌঁছানো যায়নি। একপর্যায়ে অধ্যক্ষ শওকত আলম মীর শিক্ষার্থীদের ‘শিয়াল’ বলে মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা। এ মন্তব্যে শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ‘ভুয়া, ভুয়া’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে অধ্যক্ষ বৈঠকস্থল ত্যাগ করেন। পরে শিক্ষক সংসদের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রেজা শিক্ষার্থীদের শান্ত হওয়ার আহ্বান জানান। এ বিষয়টি নিয়ে আগামী ৩০ জুন আবারও আলোচনা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হিসাববিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের এক শিক্ষার্থী বলেছেন, হল ফি এক হাজার টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত আমাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ। এ বিষয়ে আমাদের বড় ভাইয়েরা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। আমরা চাই শিক্ষার্থীদের সামর্থ্য বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক। বৈঠকে সমাধান না এসে উল্টো শিক্ষার্থীদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করায় অনেকেই ক্ষুব্ধ। আমরা দ্রুত এ সমস্যার সমাধান চাই।
এ বিষয়ে সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের অধ্যক্ষ শওকত আলী মীর বলেছেন, ‘শিয়াল বলে সম্বোধন করা হয়নি। আর ফি বাড়ানোর বিষয়টি নিয়ে আমরা আবারও বসব। আশা করি, খুব কম সময়ের মধ্যে এই সমস্যার সমাধান হবে।’
বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিল বাবদ অতিরিক্ত এক হাজার টাকা যোগ করে হল ফি ৬ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭ হাজার ৫০০ টাকা হবে। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন শিক্ষার্থীরা।
এ বৈঠকে অধ্যক্ষ শওকত আলম মীর, শিক্ষক সংসদের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রেজা, হল সুপার মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল জাবেরসহ কয়েকজন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।