Image description

ব্যাংক খাতের অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ-সম্পদ দেশে ফিরিয়ে আনতে বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষে ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৩০টি ব্যাংকের পক্ষে ৯টি আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠান নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

 

বুধবার (২৫ জুন) জাতীয় সংসদে কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রশ্নোত্তর পর্বটি টেবিলে উত্থাপন করা হয়।

 

অর্থমন্ত্রী জানান, খেলাপি ঋণ ও অর্থ পাচারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সম্পদ পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে ব্যাংকগুলো ইতোমধ্যে ৯টি আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ‘নন-ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্ট’ (এনডিএ) স্বাক্ষর করেছে। ‘নো উইন, নো ফি’ ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়োগের কার্যক্রম চলছে।

তারা বিদেশে থাকা অভিযুক্তদের অর্থ ও সম্পদের অবস্থান শনাক্ত এবং তা দেশে ফিরিয়ে আনতে আইনি সহায়তা দেবে।

 

তিনি বলেন, প্রথম ধাপে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, ব্যবসায়ী এস আলম এবং বেক্সিমকো, সিকদার, নাসা ও ওরিয়ন গ্রুপ-সংশ্লিষ্ট ছয়টি মামলায় এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

ভবিষ্যতে এর পরিধি আরও বাড়ানো হবে।

 

সংসদে ইসলামি ধারার পাঁচটি ব্যাংকের বিষয়ে একাধিক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংককে ‘ব্যাংক রেজল্যুশন স্কিম-২০২৫’-এর আওতায় আনা হয়েছে।

তিনি জানান, এসব ব্যাংকের আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়া শুরু হয়েছে। ‘আমানত সুরক্ষা আইন, ২০২৬’ অনুযায়ী প্রথম ধাপে গ্রাহকদের সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা করে পরিশোধ করা হচ্ছে। পাশাপাশি একীভূত ইসলামী ব্যাংকের চলতি হিসাবে আমানত সুরক্ষা তহবিল থেকে ইতোমধ্যে ১২ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, তারল্যসংকটে থাকা অন্যান্য ব্যাংকের অবস্থাও বাংলাদেশ ব্যাংক নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। প্রয়োজন হলে সেসব ব্যাংকের ক্ষেত্রেও ‘ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬’ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় সুরক্ষিত আমানতের সীমা এক লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে দুই লাখ টাকা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এ ছাড়া গ্রাহকদের অর্থপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়মিত জরুরি তারল্য সহায়তা দিচ্ছে। ২০২৬ সালের ১৫ জুন পর্যন্ত এ খাতে ব্যাংকগুলোকে মোট ৭৫ হাজার ৯০৩ কোটি ১১ লাখ টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে।