কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক ও মানহানিকর বক্তব্য প্রচারের অভিযোগে ইসলামী আন্দোলনের নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীমের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি প্রত্যাহার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে মামলার বাদী জালাল আহমেদ খোকন তালুকদার নিজেই মামলাটি প্রত্যাহারের আবেদন করেন।
এর আগে, গত ২০ জুন কুমিল্লার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় তিনি এই মামলাটি দায়ের করেছিলেন।
বাদীর পক্ষে মামলা প্রত্যাহারের পিটিশন দাখিলকারী আইনজীবী মো. জাফর আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, উভয়পক্ষের মধ্যে ভুল-বোঝাবুঝির অবসান ও আপস-মীমাংসা হওয়ায় বাদী মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেন। পরে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৬ নম্বর আমলি আদালতে এ সংক্রান্ত আবেদন করা হয়।
এদিকে মামলার প্রেক্ষাপটে বুধবার (২৪ জুন) বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টনে ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের জরুরি বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে ইসলামী আন্দোলনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দলের মহাসচিব মাওলানা ইউনুস আহমদ বলেন, সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম একজন জাতীয় নেতা, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শীর্ষ রাহবার। সেই নেতার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে মামলা দায়ের করা একটি ফ্যাসিবাদী আচরণ। নতুন বাংলাদেশে এটি সহ্য করা হবে না।
হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব বলেন, ২৫ জুনের (বৃহস্পতিবার) মধ্যে মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। যদি এই ফ্যাসিবাদী চরিত্রের ভিত্তিহীন মামলা প্রত্যাহার করা না হয়, তাহলে ২৬ জুন (শুক্রবার) ঢাকাসহ দেশের সব মহানগর ও জেলায় বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি পালন করা হবে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ জুন বিভিন্ন ফেসবুক আইডি ও ইউটিউব চ্যানেলে কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীকে নিয়ে কটূক্তি, বিদ্রুপ এবং মানহানিকর বক্তব্য প্রচার করা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, একটি ইউটিউব ভিডিওতে সংসদ সদস্যের দাড়ি, টুপি ও পোশাক নিয়ে বিদ্রুপাত্মক মন্তব্য করা হয়েছে। এ ছাড়া একটি ফেসবুক আইডি থেকে তার ছবি ব্যবহার করে তাকে ‘গুপ্ত আওয়ামী লীগ নেতা’ ও ‘ইসলামবিদ্বেষী’ আখ্যা দিয়ে পোস্ট দেওয়া হয়।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও উসকানিমূলক তথ্য ছড়িয়ে সংসদ সদস্যের রাজনৈতিক, সামাজিক ও ব্যক্তিগত সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে উভয়পক্ষের সমঝোতায় মামলাটি প্রত্যাহার হওয়ায় এই বিষয়ে আর কোনো বিচারিক কার্যক্রম থাকছে না।
এ বিষয়ে জানতে মামলার বাদী জালাল আহমেদ খোকন তালুকদারের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম বলেন, উভয়পক্ষের সমঝোতায় মামলা প্রত্যাহারের বিষয়টি শুনেছি। তবে আদালত থেকে এ সংক্রান্ত লিখিত কাগজপত্র এখনও থানায় এসে পৌঁছায়নি।