Image description

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার লতিবপুর ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের ছাদে বিএনপির এক নেতার নেতৃত্বে নিয়মিত ইয়াবা সেবনের আসর বসানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বাধা দেওয়ায় উপজেলা মাদক ও জুয়া প্রতিরোধ কমিটির এক নেতাকে হত্যার হুমকি এবং তার রক্ত দিয়ে গোসল করার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

 

অভিযুক্ত মেহেদী হাসান মিঠাপুকুর উপজেলার লতিবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক। অন্যদিকে হুমকির শিকার ইঞ্জিনিয়ার শেখ রেজওয়ান উপজেলা মাদক ও জুয়া প্রতিরোধ কমিটির উপদেষ্টা এবং রংপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সদস্য।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মিঠাপুকুরের দিনাজপুর-ফুলবাড়ী সড়কের হাতিমপুর এলাকায় অবস্থিত তুবা ভিলেজ রেস্টুরেন্ট পরিচালনার আড়ালে নিয়মিত মাদক সেবন ও ইয়াবা ব্যবসা পরিচালনা করতেন মেহেদী হাসান। একই সঙ্গে সেখানে অসামাজিক কর্মকাণ্ডও চলত বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, রেস্টুরেন্টের এক কর্মচারী রিফাত মাদক পরিবহনের সময় ৯০ পিস ইয়াবাসহ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের হাতে গ্রেপ্তার হন এবং ৮২ দিন কারাভোগ করেন। তবে বিএনপির পদধারী নেতা হওয়ায় মেহেদী হাসান রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে প্রশাসনের ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে গেছেন বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।

এদিকে, সম্প্রতি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া রিফাতের একটি ভিডিও প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। ভিডিওতে রিফাতকে বলতে শোনা যায়, তিনি মেহেদী ও মানিকের মাদক সরবরাহ করতে গিয়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, মেহেদী দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মেহেদী হাসান।

ভুক্তভোগী ইঞ্জিনিয়ার শেখ রেজওয়ান জানান, ঈদুল আজহার পর থেকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদক ও জুয়াবিরোধী অভিযান পরিচালনা করছিলেন তারা। এ সময় খবর পান, লতিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের ছাদে নিয়মিত ইয়াবা সেবনের আসর বসে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ঈদের দ্বিতীয় দিন রাত ১টা ৫৩ মিনিটে তারা ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে প্রবেশ করেন।

তিনি বলেন, “আমাদের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন ব্যক্তি পরিষদের ছাদ থেকে পালিয়ে যায়। পরে সেখানে বিএনপি নেতা মেহেদী হাসানের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তিনি মোটরসাইকেল ফেলে পালিয়ে যান। এর জের ধরে গত ১৩ জুন মোবাইল ফোনে আমাকে হত্যার হুমকি ও আমার রক্ত দিয়ে গোসল করার হুমকি দেন।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, মেহেদী হাসান একজন চিহ্নিত ইয়াবা ব্যবসায়ী এবং রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মেহেদী হাসান বলেন, “ইউনিয়ন পরিষদের পাশে আমার বাড়ি। সেদিন রাতে একটি পারিবারিক বিরোধের মীমাংসা নিয়ে আলোচনা করতে সেখানে গিয়েছিলাম। তখন ১৫-১৬ জন আমাকে ঘিরে ধরে মাদক ব্যবসায়ী বলে অপমান করে। সম্মান রক্ষার তাগিদেই রেজওয়ানকে চ্যালেঞ্জ করে রক্ত দিয়ে গোসল করার কথা বলেছি। সে প্রমাণ করুক আমি মাদকসেবী বা মাদক ব্যবসায়ী।”

তুবা ভিলেজ রেস্টুরেন্টে মাদক ও দেহব্যবসার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, “আমি কোনো মাদক বা দেহব্যবসার সঙ্গে জড়িত নই। একটি ভুল বোঝাবুঝির ঘটনায় স্থানীয় কিছু লোক আমাকে মারধর করেছিল। পরে মালিকপক্ষ রেস্টুরেন্ট পরিচালনার চুক্তি বাতিল করে।”

এ বিষয়ে রেস্টুরেন্টের মালিক রুহুল আমিন বলেন, “রেস্টুরেন্ট পরিচালনায় তারা ব্যর্থ হওয়ায় তাদের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করেছি। এর বেশি কিছু বলতে চাই না।”

মিঠাপুকুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম রব্বানী বলেন, “শেখ রেজওয়ান বিষয়টি আমাকে জানিয়েছেন। তবে অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত জানি না। সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মিঠাপুকুর থানার এসআই সোহরাব হোসাইন জানান, ইঞ্জিনিয়ার শেখ রেজওয়ানকে হুমকির ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে, স্থানীয় সচেতন মহল ইউনিয়ন পরিষদের মতো সরকারি স্থাপনায় মাদকসেবনের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।