আদ-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করার সিদ্ধান্ত যথাযথ হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মুস্তাফিজুর রহমান ইরান।
তিনি বলেছেন, আদ-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা অত্যন্ত হৃদয়বিদয়ক এবং অনাকাঙ্ক্ষিত। তদন্তের মাধ্যমে গাফিলতির সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টামূলক শাস্তির আওতায় আনা যেত, জরিমানা করা যেত। কিন্তু লাইসেন্স বাতিল করে মাথা ব্যাথার জন্য মাথা কেটে ফেলা হয়েছে।
সম্প্রতি এশিয়া পোস্টের ‘আলাপন’ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
হাসপাতালটি টার্গেটের বলি হয়েছে বলে ডা. ইরান বলেন, আদ-দ্বীন হাসপাতাল একটা বিশাল প্রতিষ্ঠান, একটা ইনস্টিটিউশন। স্বল্পমূল্যে সাধ্যমতো এত উন্নত স্বাস্থ্যসেবা কয়টা হাসপাতালে পাওয়া যায়? দেশে স্কয়ার, এভারকেয়ার, ইউনাইটেডসহ বড়-বড় হাসপাতালগুলো মানুষের গলাকেটে ব্যবসা করে। সাধারণ মানুষের এখানে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, ২৫০০ থেকে ৩০০০ টাকা একজন ডাক্তারের ভিজিট এই হাসপাতালগুলোতে। সেখানে আদ-দ্বীন হাসপাতালে ৩০০ টাকা থেকে ২০০ টাকাতে মধ্যবিত্ত-নিম্নবিত্ত মানুষ ভিজিট দিয়ে স্বাস্থ্যসেবা নিচ্ছে। ঢাকা শহরের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত পর্যন্ত ৩০০ টাকায় এম্বুলেন্স সার্ভিস দেয় এই হাসপাতালে। নানা কারণে হয়তো পরিকল্পিট টার্গেটের বলি হয়েছে আদ-দ্বীন হাসপাতাল। এর পেছনে কাজ করেছে ‘ইসলামফোবিয়া’।
ডা. ইরান বলেন, হাসপালটি বন্ধ করে দেওয়ায় হাজারও মানুষ যেমন চিকিৎসাসেবা বঞ্চিত হচ্ছে, কর্মরত শত-শত চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তেমনি দেশি-বিদেশি শত-শত মেডিকেল শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎও অনিশ্চয়তার মুখে রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এর আগে স্কয়ার, এভারকেয়ার ও সমরিতা হাসপাতালে এ ধরনের একাধিক ঘটনা ঘটলেও হাসপাতাল বন্ধ করা হয়নি। স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় উচ্চবিত্তের স্বার্থ দেখার পাশাপাশি সমাজের সর্বস্তরের মানুষের স্বার্থ দেখা উচিত।
দোষীদের শাস্তির আওতায় এনে জনস্বার্থ বিবেচনায় হাসপালটি খুলে দেয়ার জন্য আহ্বান জানান ডা. ইরান।