রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের ওপর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেলের নেতৃত্বে বহিরাগতদের হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। আজ বুধবার (২৪ জুন) এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এই প্রতিবাদ জানান।
যৌথ বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, হাসপাতালের মতো একটি সংবেদনশীল ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসকদের ওপর এ ধরনের সন্ত্রাসী কায়দায় হামলা কোনো সুস্থ সমাজ মেনে নিতে পারে না। তারা অভিযোগ করেন, ৫ আগস্টের অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে ছাত্ররাজনীতিতে যে ইতিবাচক ধারা ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, ছাত্রদল বারবার সেই প্রত্যাশায় আঘাত হানছে। বিবৃতিতে চট্টগ্রাম পলিটেকনিক, ঢাকা পলিটেকনিক, কুয়েটসহ বিভিন্ন ক্যাম্পাসে হামলা এবং তেজগাঁও কলেজে শিক্ষার্থী হত্যার ঘটনা উল্লেখ করে ছাত্রদলের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করা হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনা জবি ছাত্রদল নেতার জন্য নতুন নয়; এর আগেও গত বছরের ১৪ এপ্রিল রাজধানীর মেডিলাইফ স্পেশালাইজড হাসপাতালেও এক চিকিৎসককে মারধরের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। ছাত্রসমাজ ও সর্বস্তরের জনগণ রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় এ ধরনের উশৃঙ্খল আচরণ আর বরদাশত করবে না উল্লেখ করে নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি দেন যে, ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে দেশব্যাপী যে কর্মকাণ্ড শুরু হয়েছে, তা সংশ্লিষ্টদের জন্যই নেতিবাচক পরিণতি ডেকে আনবে।
ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে এই হামলার মূল হোতা মেহেদী হাসান হিমেলসহ তার সহযোগীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে, দেশের সব হাসপাতালে চিকিৎসকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের প্রতি জোর আহ্বান জানান তাঁরা।