এসএসসি ও এইচএসসি মিলিয়ে প্রায় ২০ লাখ শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে ৪০ লাখ শিক্ষাবর্ষ নষ্ট হয় বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। সেই সঙ্গে ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা আমরা জানুয়ারি মাসে হবে বলেও জানান তিনি।
আজ বুধবার (২৪ জুন) রাজধানীর আজিমপুর গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে আসন্ন এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা শিক্ষা বোর্ড, ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আপনি যদি ভিন্নভাবে চিন্তা করেন, তাহলে এসএসসি ও এইচএসসি মিলিয়ে প্রায় ২০ লাখ শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে ৪০ লাখ শিক্ষাবর্ষ নষ্ট হয়। আমাদের অবশ্যই উপলব্ধি করতে হবে, এটি দেশের ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডকে পিছিয়ে দেয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব এই সময়কে সমন্বয় করা। আমরা সেই চেষ্টা করছি।
তিনি বলেন, সেই কারণে ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা আমরা জানুয়ারি মাসে নেব। যদিও সেটিকে আমরা আরও কিছুটা পিছিয়ে নিতে পারতাম। কিন্তু রোজার কারণে আমরা অভিভাবকদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক সব স্টেকহোল্ডারের মতামত নিয়েছি। তারা বলেছেন, রোজা ও ঈদের আগেই পরীক্ষা শেষ হওয়া ভালো। সেজন্য আমরা সবার মতামতের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমরা দেখেছি, ফলাফলের ধারাবাহিকতায় বড় ধরনের ওঠানামা হয়েছে। ২০২১, ২০২২ ও ২০২৩ সালে কোথাও কোথাও ৯৭ শতাংশ পর্যন্ত পাস করেছে, আবার এখন তা ৬০ শতাংশে নেমে এসেছে। শিক্ষা ব্যবস্থায় ফলাফলের একটি স্বাভাবিক প্রবণতা থাকে। এটি ধীরে ধীরে উঠানামা করতে পারে, কিন্তু হঠাৎ এত নিচে নেমে যেতে পারে না। এর অর্থ হয় লেখাপড়ায় দুর্বলতা ছিল, নয়তো পরীক্ষায় কোনো ধরনের অপব্যবস্থা ছিল।
মন্ত্রী বলেন, পরীক্ষায় নকল ও প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষায় যদি কোনো শিক্ষার্থীর কাছে নকল পাওয়া যায়, তবে তাকে ডিটেনশনে বা আইনের আওতায় আনা হবে। একইসঙ্গে কোনো পরীক্ষাকেন্দ্রে নকল পাওয়া গেলে, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান বা কেন্দ্র প্রধানকেও আইনের আওতায় আনা হবে।
তিনি বলেন, এখন আর আগের মতো নকল নেই, তবে নকলের রূপ পরিবর্তন হয়েছে। সেজন্য পুরোনো ‘পরীক্ষা আইন’ সংশোধন করে বর্তমান সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হয়েছে। নকল ও প্রশ্নফাঁসের বিষয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না বলেও তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন।
সভায় অন্যান্যদের মধ্যে ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড ঢাকার চেয়ারম্যান প্রফেসর আক্তারুজ্জামান এবং সচিব অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার উপস্থিত ছিলেন।