Image description

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শামীম আহমেদ ওরফে শামীম মোল্লা নামের এক ছাত্রকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় এক বছরেও। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, ইচ্ছা করেই তদন্ত আটকে রাখা হয়েছে।

ভিডিও ফুটেজ দেখে গ্রেপ্তার তিন আসামি জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। বাকি পাঁচজনকে রাজধানীতে বিভিন্ন কর্মসূচিতে প্রকাশ্যে দেখা গেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সামনেই। কিন্তু তাদেরকে গ্রেপ্তারের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
এদের মধ্যে একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে জয় পেয়েছেন। একজন ছাত্রদলের পদে আছেন। পুলিশ তাদেরকে ধরেনি। নিহতের পরিবারের করা মামলার নথি আদালত নির্দেশ দেওয়ার পরেও তদন্ত কর্মকর্তার কাছে পৌঁছেনি।

‘আসামিরা প্রকাশ্যে ক্যাম্পাসে ঘোরাফেরা করছে, অথচ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছ থেকে আমরা কোনো সহযোগিতা পাচ্ছি না,’ টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেছেন শামীম মোল্লার ভাই শাহীন আলম।

শামীম ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন এবং গণঅভ্যুত্থানে সরকার পতনের পর ২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ক্যাম্পাসে তাকে দেখে পেটানো হয় প্রকাশ্যে। এর ভিডিও করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

ভিডিওতে সব কিছু স্পষ্ট, হামলাকারীদের পরিচয়ও প্রকাশ হয়েছে। কিন্তু তদন্ত শেষ করতে পুলিশের কেন আগ্রহই দেখা যাচ্ছে না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে নিহতের পরিবার।

হত্যার দুইদিন পর ২০২৪ সালের ২০ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আট শিক্ষার্থীর নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করে মামলা করেন।

যাদের নাম উল্লেখ করা হয়, তারা হলেন বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মো. আহসান লাবিব, সরকার ও রাজনীতি বিভাগের রাজু আহমেদ ও মোহাম্মদ রাজন মিয়া, ইংরেজির মো. মাহমুদুল হাসান রায়হান ও হামিদুল্লাহ সালমান, ফার্মেসি সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া, ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজের মো. আতিকুজ্জামান এবং কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সোহাগ মিয়া।

এদের মধ্যে মাহমুদুল হাসান রায়হান, সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া ও আতিকুজ্জামান গ্রেপ্তারের পর জামিনে মুক্ত হন।
আসামি আহসান লাবিব সম্প্রতি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচনে সমাজসেবা ও মানবসম্পদ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন। হামিদুল্লাহ সালমান বর্তমানে বিএনপি সমর্থক ছাত্র সংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হল শাখার সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

শামীম মোল্লার পরিবার থেকেও আরেকটি মামলা হয়। তবে কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, তদন্ত সংস্থার কাছে সেই নথি পৌনে দুই বছরেও পৌঁছায়নি।

তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের এসআই আনিসুর রহমান টাইমসকে বলেন, তাদের কাছে কেবল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের করা মামলার কাগজপত্র রয়েছে। তদন্তও সেই একটি মামলাকে কেন্দ্র করেই এগোচ্ছে।

‘পরিবারের করা মামলার কোনো নথি না থাকায় সেটির আলোকে তদন্ত এগোনো সম্ভব হচ্ছে না’, বলেন তিনি।

শামীমের বড় ভাই শাহীন আলম বলেন, ‘আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী দুটি মামলা একত্রে তদন্ত হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা কার্যকর হয়নি।’

দেড় বছরেও কেন আদালতের নথি পিবিআইয়ের কাছে পৌঁছায়নি- সে প্রসঙ্গ সামনে এনে তিনি পুলিশের আন্তরিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। ২০২৫ সালের মার্চে এক সিন্ডিকেট সভায় ছয়জন শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার এবং দুজন সাবেক শিক্ষার্থীর সনদ ছয় মাসের জন্য স্থগিত করা হয়।

পরে এদের বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত হয়, সে বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কামরুল আহসান ও প্রক্টর রাশেদুল আলমের ফোনে একাধিকদিন কল করা হলেও তারা কল ধরেননি।

শামীম জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন।

২০২৪ এর ১৫ জুলাই উপাচার্যের বাসভবনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ ছিল।

সরকার পতনের পর শিক্ষার্থীরা তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রান্তিক গেট সংলগ্ন এলাকা থেকে আটক করে মারধর করে এবং পরে প্রক্টরিয়াল বডির কাছে হস্তান্তর করে। সেখানেই মারধরের পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি গণস্বাস্থ্য হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।