Image description

গত ১৭ জুন ভারতে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত রিউভেন আজার দাবি করেন, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে হামাসের সক্রিয় নেটওয়ার্ক রয়েছে। এই গোষ্ঠীটি তাদের কার্যক্রম প্রসারের চেষ্টা করছে। ভারতের শীর্ষ স্থানীয় একাধিক সংবাদমাধ্যমে ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যটি প্রকাশিত হয়েছে।

বাংলাদেশে হামাসের উপস্থিতি আছে এ বিষয়ে এটি রিউভেন আজারের প্রথম বক্তব্য ছিল না। এর আগে ২০২৬ সালের ২৮ জানুয়ারি ভারতীয় সংবাদ সংস্থা প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়া (পিটিআই) এর সাথে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, হামাসের সঙ্গে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের যোগাযোগ বা সম্পৃক্ততা সব দেশের জন্য উদ্বেগের বিষয় হওয়া উচিত। 

তার ওই বক্তব্যও পরদিন ২৯ জানুয়ারি Firstpost সহ একাধিক ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল।

 

 

রিউভেনের অতি সাম্প্রতিক দাবিটি বাংলাদেশের একাধিক সংবাদমাধ্যমও প্রকাশ করেছে। যেমন দেখুন বিডিনিউজইত্তেফাকবাংলা ট্রিবিউন ইত্যাদি।

ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতের সর্বশেষ বক্তব্যের পর দ্য ডিসেন্ট খুঁজে দেখার চেষ্টা করেছে তার এমন দাবির উৎসটি আসলে কী? অনলাইনে এ সংক্রান্ত বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমের পোস্ট এবং ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন ঘেঁটে দেখা গেছে, ‘বাংলাদেশে হামাস রয়েছে’-- এমন দাবি আরও বেশ কয়েক বছর ধরে নির্দিষ্ট কয়েকটি সামাজিক মাধ্যম একাউন্ট এবং ওয়েবসাইট থেকে ছড়ানো হয়েছে। তবে গত ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন এবং এর মাধ্যমে দিল্লীপন্থী হিসেবে পরিচিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেয়ার পর এই দাবিটি আওয়ামীপন্থী সামাজিক মাধ্যম এক্টিভিস্ট ও বিজেপিপন্থী কিছু সংবাদমাধ্যমে বেশি প্রচারিত হয়েছে।

উল্লেখ্য, ৫ আগস্টের অভ্যুত্থানের পর থেকে ভারতীয় সরকাপন্থী মিডিয়া এবং সামাজিক মাধ্যমে বাংলাদেশ বিষয়ে ব্যাপকভাবে ভুয়া খবর ছড়ানোর শুরু হয়। এসব ভুয়া খবর নির্দিষ্ট কিছু বয়ান প্রতিষ্ঠিত করতে প্রচারিত হয়েছে। এসব বয়ানের মধ্যে রয়েছে, ‘বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর গণহত্যা চলছে’, ‘বাংলাদেশ ধর্মীয় উগ্রপন্থীদের দখলে চলে গেছে’, ‘বহির্বিশ্বের জঙ্গি সংগঠনগুলোর উপস্থিতি বাংলাদেশে রয়েছে’ ইত্যাদি।

এই বিশ্লেষণে দ্য ডিসেন্ট খুঁজে দেখার চেষ্টা করেছে, বাংলাদেশে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের উপস্থিতির দাবি প্রথম কোথায়, কবে, কারা প্রচার করেছিল এবং কীভাবে তা এক প্ল্যাটফর্ম থেকে অন্য প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত কীভাবে একজন ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতের কূটনৈতিক ভাষ্যে রুপ নিয়েছে।

 

প্রথম দাবি: কবে, কোথায় এবং কারা তুলেছিল?

দ্য ডিসেন্ট এর বিশ্লেষণে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে হামাসের উপস্থিতি বা প্রভাব নিয়ে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত সবচেয়ে পুরোনো কনটেন্টগুলোর একটি পাওয়া যায় Salah Uddin Shoaib Choudhury পরিচালিত Weekly Blitz-এ।

Weekly Blitz একটি অনির্ভযোগ্য এবং প্রোপাগান্ডা ওয়েবসাইট হিসেবে পরিচিত। পোর্টালটির সম্পাদক সালাহ উদ্দিন শোয়েব চৌধুরীও বিগত বছরগুলোতে আওয়ামীপন্থী ভুয়া খবর ছড়ানোর জন্য দুর্নাম কুড়িয়েছেন। ফ্যাক্ট চেকিং সংস্থাগুলো তার প্রচারিত অন্তত ১০টি ভুয়া খবর বিগত বছরগুলোতে খণ্ডন করেছেন। 

ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থাগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি ভারতের কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে তোলা একটি ছবিকে ভিন্ন পরিচয়ে প্রচার করেছিলেন। এছাড়া ২০২৩ সালে ধারণ করা একটি জঙ্গিগোষ্ঠীর পুরোনো ভিডিও নতুন করে প্রচার করে দাবি করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়া জঙ্গিরা প্রকাশ্যে জিহাদের আহ্বান জানাচ্ছে।

এছাড়াও পাকিস্তানে মাদ্রাসায় ছাত্র নির্যাতনের একটি ভিডিওকে বাংলাদেশের ঘটনা হিসেবে প্রচার, সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশন ঢাকার দিকে অগ্রসর হচ্ছে দাবি করে পুরোনো ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত হিন্দুদের বিষয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার এবং হিন্দু মন্দিরে মুসলিম হামলার ঘটনা দাবি করে ভারতের প্রতিমা বিসর্জনের ভিডিও প্রচারের মতো একাধিক ঘটনায় তার দাবি পরবর্তীতে ভুয়া বা বিভ্রান্তিকর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

২০২১ সালের ৫ জুন উইকলি ব্লিটজের বিশেষ সংবাদদাতা তাজুল ইসলামের লেখা "Hefazat-e-Islam aligns with Hamas, Iran, Turkey and Pakistan" শিরোনামের একটি প্রতিবেদনে  হামাসের সাথে হেফাজতের সম্পর্কের উল্লেখ করে বলা হয় "Finally, pro-Caliphate Hefazat-e-Islam has openly pronounced its ideological connections with Hamas, Muslim Brotherhood, Iran, Turkey and Pakistan, clearly signaling its ambition of emerging as another jihadist player in the region and beyond”। 

হেফাজতে ইসলাম ফিলিস্তিনের "মেগা-টেরর আউটফিট হামাস"-এর সাথে সম্পর্ক স্থাপনের ইঙ্গিত দিয়েছে উল্লেখ করে বলা হয়, "...he also has said, Palestinian envoy in Bangladesh, Yousef Saleh Ramadan has asked Hefazat-e-Islam to provide donations during the recent Gaza war, while Hefazat has signaled of establishing connections with mega-terror outfit Hamas."

দ্য ডিসেন্ট এর অনুসন্ধানে বিভিন্ন সার্চ ইঞ্জিনে সংশ্লিষ্ট একাধিক কীওয়ার্ড ব্যবহার করেও ২০২১ সালের এই প্রতিবেদন প্রকাশের আগে বাংলাদেশের কোনো সংগঠনের সঙ্গে হামাসের সম্পৃক্ততার দাবি তুলে প্রকাশিত কোনো সংবাদ প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি।

 

গাজা যুদ্ধের পর থেকে বাড়ছে এই প্রচারণা

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বাংলাদেশকে হামাসের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে প্রচারিত বয়ানটি নতুন মাত্রা পেতে শুরু করে।

গাজায় ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদে বাংলাদেশের সাধারণ ছাত্র-জনতা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন রাস্তায় নেমে আসে সে বিষয়ে ২০২৩ সালের ১৪ অক্টোবর 'উইকলি ব্লিটজ' একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যার শিরোনাম ছিল: "Jihadists, Islamists and Leftists in Bangladesh express solidarity with Hamas’s terrorist attacks on Israel"।

উইকলি ব্লিটজ সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক রাজনৈতিক ও মানবিক সংহতিকে– যেমনটা বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই হয়েছে– "হামাসের সন্ত্রাসী হামলার প্রতি জিহাদি, ইসলামিস্ট ও বামপন্থীদের সমর্থন" হিসেবে প্রচার করে।

 

 

এরপর ২০২৩ সালের নভেম্বরে “Bangladesh café expresses solidarity with Hamas” শিরোনামে উইকলি ব্লিটজের প্রতিবেদনে ঢাকার কলাবাগানের 'বাবুমশাই হেরিটেজ' নামের একটি ক্যাফে মেঝেতে ইসরায়েলি পতাকা ফেলে রেখেছে উল্লেখ করে বলা হয় “It is also learnt that the owner of Babumoshai Heritage maintains regular communication with Palestinian “envoy” in Dhaka, Yousef SY Ramadan and funds for Hamas are being collected from Bangladeshi locals through this outlet.”

 

প্রমাণ ছাড়াই সবাইকেই ‘হামাস’ মনে করে ব্লিটজ ও শোয়েব চৌধুরী

২০২৩ সালের ২৬ নভেম্বর প্রবাসী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের সামিকে ধারাবাহিকভাবে "হামাস সমর্থক" ও "জিহাদি-সন্ত্রাসী" হিসেবে উল্লেখ করে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে ব্লিটজ। 

সাংবাদিকতার অধিকার নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংগঠন 'কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস' (CPJ) জুলকারনাইন সামির পক্ষ নিয়ে বিবৃতি দিলে, সিপিজে-কেও "হামাসের সন্ত্রাসীকে রক্ষাকারী সংগঠন" উল্লেখ করে সালাহ উদ্দিন শোয়েব চৌধুরীর এই পত্রিকা।

২০২৩ সালের ২১ ডিসেম্বর সালাহ উদ্দিন শোয়েব চৌধুরীর Weekly Blitz এ "Ignominious Ilhan Omar joins hands with Islamists in Bangladesh" শিরোনামের একটি প্রতিবেদনে বিএনপিকে ‘হিজবুল্লাহ ও হামাসের প্রতি প্রবলভাবে ঝুঁকে থাকা’ দল হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়, “Bangladesh Nationalist Party is heavily inclined towards Lebanese Hezbollah and Hamas.”

পরবর্তীতে Weekly Blitz এ প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প এবং বিভিন্ন সামাজিক-রাজনৈতিক ইস্যুকেও হামাসের সাথে জড়িয়ে প্রচার করতে থাকে।

২০২৪ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ফ্রান্সে অবস্থানরত পিনাকী ভট্টাচার্যকে হামাস, ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদ এবং আল-কায়েদার পক্ষে প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর দায়ে অভিযুক্ত করে এক্সে পোস্ট করেন উইকলি ব্লিটজ এর সম্পাদক সালাহ উদ্দিন শোয়েব চৌধুরী।

২০২৪ সালের এপ্রিলে ১৪ এপ্রিল উইকলি ব্লিটজ "Organized racket runs anti-Semite and anti-Bangladesh disinformation, gives instigation to radical Islamists" শিরোনামের প্রতিবেদনে প্রবাসী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের সামিকে "জিহাদি-সন্ত্রাসী" উল্লেখ করে বলা হয়, "According to information, an individual named Zulkarnain Saer Sami, who is listed as “Jihadist-terrorist” by Terrorism Research & Analysis Consortium (TRAC)”.

 

 

এর কিছুদিন পরই, ১ মে "Fake journalist claims to have studied at Bangladesh Military Academy" শিরোনামে আরেকটি প্রতিবেদন, সামির বিরুদ্ধে হামাসকে অর্থায়নের অভিযোগ আনা হয়।

২০২৪ সালের ১৮ মে অস্ট্রেলিয়া ভিত্তিক অনলাইন সংবাদ প্ল্যাটফর্ম 'Oz Arab Media' ব্লিটজ–এর একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে যার শিরোনাম ছিল: "Newspaper owned by top apparel exporter in Bangladesh runs propaganda in favor of Hamas"। 

'দৈনিক সমকাল'-এর একজন সম্পাদকের ফিলিস্তিনপন্থী বক্তব্যের জেরে পত্রিকাটির মালিকানা প্রতিষ্ঠান 'হা-মীম গ্রুপ'-কে হামাসের প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর দায়ে অভিযুক্ত করা হয়।

প্রতিবেদনে হা-মীম গ্রুপের পশ্চিমা ক্রেতাদের নাম উল্লেখ করে বলা হয়, "It is a mystery as to why Bangladesh’s leading apparel manufacturer and exporter Ha-Meem Group, which is earning hundreds of millions of dollars every year by exporting apparel products to buyers in the United States, Britain and the European Union is openly running propaganda through its newspaper and been also terming Hamas as a resistance group.”

পশ্চিমা কোম্পানিগুলো কীভাবে এমন একটি প্রতিষ্ঠানের সাথে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে যারা হামাসের পক্ষে প্রচারণা চালায় এই প্রশ্নও তোলা হয়।

পরবর্তীতে ওই বছরের ২ জুন সালাহ উদ্দিন শোয়েব চৌধুরীর লেখা "Rohingya camps turning into hub of international terrorism thus posing serious security threat to the region" শিরোনামের প্রতিবেদনে দাবি করা হয় যে, রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে আল-কায়েদা ও আইসিসের পাশাপাশি 'হামাস' এবং 'হিজবুল্লাহ'-এর মতো আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো অনুপ্রবেশ করেছে। 

 

 

এই ধারাবাহিকতা দেখা যায় ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ঠিক আগে। 

ওই বছর ২ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার কোটা সংস্কার আন্দোলন দমনের একপর্যায়ে জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। ব্লিটজ "Bangladesh government designates and bans Jamaat-e-Islami as terrorist organization" শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে জামায়াতে ইসলামীর সাথে গাজাভিত্তিক হামাস এবং ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদের (PIJ) সম্পর্ক রয়েছে উল্লেখ করে বলা হয়, "Jamaat-e-Islami maintains deeper links with various militancy outfits, including Gaza-based Hamas and Palestinian Islamic Jihad (PJI)." 

উপরে উল্লিখিত এসব প্রতিবেদনে বাংলাদেশের নানাপন্থী ও পেশার ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ‘হামাস’ হিসেবে চিহ্নিত করলেও তাদের সাথে ফিলিস্তিনি সংগঠনটির সরাসরি সংযোগের কোন প্রমাণ হাজির করেনি দ্য ব্লিটজ বা এর সম্পাদক শোয়েব চৌধুরী।

 

৫ আগস্টের পটপরিবর্তন ও ভারতীয় মিডিয়ায় ‘হামাস’ প্রসঙ্গ

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতন এবং ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর 'বাংলাদেশে হামাস' বয়ানটি নতুন মাত্র পায়। ভারতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে একই ধরনের দাবি ও বিশ্লেষণ প্রকাশ হতে শুরু করে।

এই প্রচারণার শুরুটা হয় আগস্ট মাসেই। শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ঠিক পরদিন ৬ আগস্ট ভারতীয় ক্ষমতাসীন দল বিজেপিপন্থী সংবাদমাধ্যম OpIndia একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যার শিরোনাম ছিল: "Jamaat-e-Islami wreaks havoc after Sheikh Hasina’s ouster: Their Jihadi activity in India, funding to Hamas, genocide of Hindus, and the security risk to India"। 

জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশে তাণ্ডব চালাচ্ছে উল্লেখ করে বলা হয়, “ "In 2006, JeI reportedly transferred $1,00,000 to the terror outfit, Hamas, to continue their Jihad against Jews and the State of Israel." ”

ওই বছরের ৯ অক্টোবর India Today "Dhaka's Islamist event draws radical leaders from Hamas, Pak; India on alert" শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বাংলাদেশের হামাসের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতির দাবি করে বলা হয়, "The Dhaka event, held on October 7, was attended by senior Hamas leaders, including Sheikh Khaled Quddumi, a spokesperson and senior leader, and Sheikh Khaled Mishal, Chairman of Hamas' Political Bureau." 

 

 

একই দিন ভারতীয় বাংলা সংবাদমাধ্যম Bangla Aajtak "Hamas in Bangladesh: ঢাকার সভায় হামাস-আল কায়েদা-তালিবান একসঙ্গে, ভারতের বিরুদ্ধে ছক?" শিরোনামের প্রতিবেদনে একই দাবি করে।

১১ অক্টোবর Hinduexistence নামের একটি ওয়েবসাইটে "Dhaka Islamist Meet: Global Jihad Network Finds Common Ground in Prof. Muhammad Yunus’ Bangladesh." শিরোনামের প্রতিবেদনে দড. ইউনূস গ্লোবাল জিহাদ নেটওয়ার্ককে ঢাকায় একত্রিত হওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছেন দাবি করে বলা হয়, "The situation took a dire turn in Yunus regime as prominent radical Islamist leaders from Hamas, the Taliban, and Pakistan gathered in Dhaka, Bangladesh, for a sermon reportedly linked to al-Qaeda."

২২ অক্টোবর  মার্কিন সংবাদমাধ্যম Newsmax "Bangladesh Terror Confab Shows Hamas Not Limited to Gaza" শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যেখানে দাবি করা হয় যে হামাস এখন আর কেবল গাজায় সীমাবদ্ধ নেই, বরং তারা ঢাকায় আল-কায়েদা ও তালেবান সংশ্লিষ্ট নেতাদের সাথে বৈঠক করছে।

প্রতিবেদনটি লিখেছেন ইসরায়েলপন্থী লেখক জন রোসোমান্ডো।

১৯ ডিসেম্বর ভারতীয় সংবাদমাধ্যম Zee News একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যার শিরোনাম ছিল: "Muhammad Yunus-Led Bangladesh Govt Following Pakistan's Path With New 'Anti-India' Plot?" ইউনূস সরকার পাকিস্তানের পথ অনুসরণ করে ভারতের বিরুদ্ধে নতুন ষড়যন্ত্র করছে উল্লেক করে বলা হয়, "A radical Palestinian-like ideology has found its way into Bangladesh. Several images have emerged from the Jamia Millia Islamia Madrasa in Jessore, Bangladesh. In the image, the appearance of the speaker resembles that of Abu Ubaida, spokesperson of Hamas's Al-Qassam Brigades."

 

২০২৫ সালে বাংলাদেশকে ‘হামাসের নিরাপদ স্বর্গ’ হিসেবে উপস্থাপনের প্রচেষ্টা

২০২৫ সালে ‘বাংলাদেশে হামাস’ বয়ানের পরিধি আরও বিস্তৃত হয়। ড. ইউনূসের পাশাপাশি শেখ হাসিনা এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে হামাস-সংশ্লিষ্ট অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত করা শুরু হয়।

১৯ জানুয়ারি Weekly Blitz, ভারতের Organiser.org এবং Highland Post-এ প্রায় একই ধরনের শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়"The shadow war on Bangladesh: Pakistani ISI and Hamas attempt to turn the country into a Caliphate". 

এসব প্রতিবেদনে অজ্ঞাত সূত্রের বরাতে দাবি করা হয়, পাকিস্তানের আইএসআই এবং ফিলিস্তিনের হামাস একজোট হয়ে ড. ইউনূসের নেতৃত্বে বাংলাদেশকে একটি 'ইসলামিক রিপাবলিক' বা 'খিলাফত' এ পরিণত করার চেষ্টা করছে।

 

 

১১ ও ১৬ ফেব্রুয়ারি সালাহ উদ্দিন শোয়েব চৌধুরী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দাবি করেন,বাংলাদেশে হামাসের সমর্থকরা প্রকাশ্যে পেশিশক্তি প্রদর্শন করছে এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর প্রতিকৃতিতে জুতো ছুঁড়ছে। 

একই সময়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম 'ইন্ডিয়া টুডে' "Hamas Flag in Dhaka?" শিরোনামে অনুরূপ খবর প্রচার করে। যেখানে সালাহ উদ্দিন শোয়েব চৌধুরীকে কথা বলতে দেখা যায়।

২২ ফেব্রুয়ারি আরেকটি পোস্টে তিনি দাবি করেন, ঢাকার নটর ডেম কলেজে হামাস ও হিজবুত তাহরীরের সদস্যরা প্রকাশ্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়েছে । একইভাবে ৬ মার্চ শোয়েব চৌধুরী এক্স পোস্টে মার্কিন প্রশাসনের কাছে আকুতি জানিয়ে বাংলাদেশকে 'খিলাফত' হওয়া থেকে বাঁচানোর আহ্বান জানান।

ঠিক এর দুদিন পর, ৮ মার্চ 'উইকলি ব্লিটজ' এবং ভারতের 'ন্যাশনাল হেরাল্ড ইন্ডিয়া'  দাবি করে , ইউনূস সরকার প্রকাশ্যে হামাস ও আল-কায়েদাকে সমর্থন দিচ্ছেন এবং রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় এই গোষ্ঠীগুলো তাদের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করছে। যদিও এসব প্রতিবেদনে সরকারি সমর্থনের কোন প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।

১২ মার্চ 'হাইল্যান্ড পোস্ট' এবং ১৫ মার্চ 'নিউজ১৮' প্রায় একই সুরে দাবি করে , বাংলাদেশ হামাস ও আল-কায়েদার নিরাপদ স্বর্গে পরিণত হয়েছে এবং এই 'ইউনূস-ইসলামিস্ট আঁতাত' ধ্বংস করতে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

২১ মার্চ শোয়েব চৌধুরী এক্সে দাবি করেন, বাইডেন প্রশাসন বাংলাদেশের আল-কায়েদা এবং হামাসকে শক্তিশালী করতে মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে। ৮ ও ৯ এপ্রিল শোয়েব চৌধুরী এবং ভারতীয় সংবাদমাধ্যম 'ডিএনএ ইন্ডিয়া' দাবি করে যে, ফিলিস্তিনকে সমর্থনকারী বিক্ষোভকারীরা বাংলাদেশে 'নাৎসি' পতাকা প্রদর্শন করছে এবং দেশজুড়ে তাণ্ডব চালাচ্ছে। এসব দাবির পক্ষে কোন প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।

ঢাকায় ফিলিস্তিনের পক্ষে আয়োজিত 'মার্চ ফর গাজা' র‍্যালিকে ১২ এপ্রিল  'উইকলি ব্লিটজ' সরাসরি 'হামাস ও আল-কায়েদার র‍্যালি' হিসেবে উল্লেখ করে প্রচার করতে থাকে। এরপর ১৩ এপ্রিল এক্স পোস্টে, বাংলাদেশ এখন হামাস এবং আল-কায়েদার 'নিরাপদ স্বর্গে' পরিণত হয়েছে বলে দাবি করা হয়।


নিষেধাজ্ঞার আলোচনায় ‘বাংলাদেশ-হামাস’ বয়ান

২৯ মার্চ 'উইকলি ব্লিটজ' পেন্টাগনের সাবেক কর্মকর্তা এবং মার্কিন থিংক ট্যাংক 'আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউট' (AEI)-এর সিনিয়র ফেলো মাইকেল রুবিনের একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশ করে। মাইকেল রুবিন ভারতের ক্ষমতাসীন দলের পক্ষে নিয়মিত লেখালেখি করে থাকেন।

সেখানে ড. ইউনূসকে হামাস ও আল-কায়েদার মিত্র হিসেবে উপস্থাপন করে তার ওপর 'গ্লোবাল ম্যাগনিটস্কি অ্যাক্ট'-এর অধীনে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার দাবি তোলা হয়।

এর ধারাবাহিকতায় ৩১ মার্চ মাইকেল রুবিন AEI-এর ওয়েবসাইটে একটি নিবন্ধে দজামায়াতে ইসলামী থেকেই হামাস ও আল-কায়েদার জন্ম হয়েছে এবং ইউনূস তাদের উসকে দিচ্ছেন উল্লেখ করে বলা হয়,  "Just as the Muslim Brotherhood spawned terrorist groups such as Hamas, Gama’a Islamiyya (which killed Egyptian President Anwar Sadat), and al Qaeda, Jamaat-e-Islami also spun off terrorist groups across South Asia such as Jaysh-i-Muhammad, Harkat-ul-Mujahidin, and Tehrik-i-Taliban Pakistan"

এর আগে ৬ ফেব্রুয়ারি 'টিএফআই পোস্ট'  দাবি করে, ২০২৪ সালে ঢাকায় গ্লোবাল টেরর আউটফিটদের সমাবেশের পর হামাস ও লস্কর-ই-তাইয়েবার নেতারা পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে (PoK) একত্রিত হয়েছে।

পরবর্তীতে এপ্রিলে কাশ্মীরের পহেলগামে একটি সন্ত্রাসী হামলা হলে ২৬ এপ্রিল ভারতীয় সংবাদমাধ্যম 'নাগাল্যান্ড ট্রিবিউন' দাবি করে, এই হামলায় হামাসের স্টাইল ব্যবহার করা হয়েছে এবং আইএসআই হামাস নেতাদের ঢাকায় নিয়ে গিয়েছিল। 

২৯ এপ্রিল 'বিনয় সুলতান' নামের একটি এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে পহেলগাম হামলার সাথে হামাস ও বাংলাদেশের কাল্পনিক সংযোগ তুলে ধরে একটি পোস্ট করা হয়।

 

আঞ্চলিক নিরাপত্তার জুজু, 'হিন্দু-শূন্য' করার বয়ান

৬ মে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম 'ইটিভি ভারত' নামহীন গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে দাবি করে, হামাস এবং পাকিস্তানের আইএসআই মিলে বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছে এবং হামাস নেতারা আইএসআই-এর সাথে বাংলাদেশেও সফর করেছে।

পরবর্তীতে ২০ জুলাই 'উইকলি ব্লিটজ'-এ সালাহ উদ্দিন শোয়েব চৌধুরী "A nation hijacked: Islamist blueprint to make Bangladesh ‘Hindu-free’" শিরোনামের একটি লেখায় দাবি করেন, হামাস, আল-কায়েদা ও তালেবানের শীর্ষ নেতারা বাংলাদেশে এসে দেশটিকে 'হিন্দু-শূন্য' করার চক্রান্ত করছে এবং এটি একটি নতুন আন্তর্জাতিক জিহাদি হাব হয়ে উঠছে। 

এর ধারাবাহিকতায় ২১ আগস্ট ব্লিটজ "Yunus regime grants free reign to jihadists who fled prisons..." শিরোনামের আরেকটি প্রতিবেদনে দাবি করেন, ইউনূস সরকার শেখ হাসিনার পতনের সময় জেল পালানো আইএসআইএস, আল-কায়েদা ও হামাস জঙ্গিদের অবাধ স্বাধীনতা দিচ্ছে, যারা ভারত ও অন্যান্য দেশে হামলার ছক কষছে।

 

 

নির্বাচন ও হিন্দু নির্যাতনের খবরের সাথে হামাস কানেকশন

চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি  "Bangladesh Hindu Persecution: 11 Killed In 35 Days" শিরোনামে খবর প্রচার করে, যেখানে বাংলাদেশের হিন্দু নির্যাতনের খবরের সাথে "হামাস-লস্কর-ই-তাইয়েবা-জইশ-ই-মুহাম্মদের" উল্লেখ করা হয়।

একই সময়ে ইসরায়েলি মিডিয়াতেও এই বয়ান প্রকাশ করে। ২১ ও ৩১ জানুয়ারি 'টাইমস অব ইসরায়েল' দুটি আলাদা উপসম্পাদকীয় প্রকাশ করে। সেখানে দাবি করা হয়, বাংলাদেশের আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিস্থিতি ইসরায়েল ও ভারতের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়, কারণ সেখানে হামাস ও অন্যান্য কট্টরপন্থীদের (যেমন: জামায়াতে ইসলামী) বিস্তার ঘটছে এবং তারা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

প্রতিবেদন দুটির লেখক সের্জিও রেস্টেল্লি ইসরায়েলপন্থী ও মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক ভূরাজনৈতিক বিষয় নিয়ে লেখালেখি করে আসছেন। অন্যদিকে, পূর্ণ লাল চাকমা নিজেকে পার্বত্য চট্টগ্রামের একজন খ্রিস্টান লেখক ও অধিকারকর্মী হিসেবে পরিচয় দেন। তিনিও দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলি গণমাধ্যমে মতামতধর্মী নিবন্ধ লিখছেন।

 

অতঃপর ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য 

বছরের পর বছর ধরে 'উইকলি ব্লিটজ' এবং ভারতীয় মিডিয়াগুলোর তৈরি করা এই বয়ান ২০২৬ সালের জানুয়ারির শেষে এসে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ভাষ্যে পরিণত হয়। 

২৮ ও ২৯ জানুয়ারি ভারতে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত রিউভেন আজার দাবি করেন যে, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে হামাসের যোগাযোগ বিশ্বের সব দেশের জন্যই উদ্বেগের কারণ হওয়া উচিৎ। 

সে সময় সংবাদটি প্রকাশ করে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়া', 'ডেইলি পাইওনিয়ার' এবং 'ফার্স্টপোস্ট'।

 

 

রাষ্ট্রদূত আজার ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাম হামলার সাথে ইসরায়েলে ৭ অক্টোবরের হামলার তুলনা করে দাবি করেন, হামাস আন্তর্জাতিকভাবে অন্যান্য সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে অনুপ্রাণিত করছে এবং ভারত ও ইসরায়েল এই বিষয়ে তথ্য আদান-প্রদান করছে।

২০২৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি 'উইকলি ব্লিটজ' এবং এর সম্পাদক সালাহ উদ্দিন শোয়েব চৌধুরী ভারতে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত রিউভেন আজারের একটি দীর্ঘ সাক্ষাৎকার প্রকাশ করেন। 

এই সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রদূত দাবি করেন, হামাস বাংলাদেশে তাদের নেটওয়ার্ক বিস্তার করছে এবং তারা স্থানীয় ইসলামি গোষ্ঠীগুলোর সাথে মিত্রতা গড়ে তুলছে।

এই সাক্ষাৎকারের ঠিক পরদিন ৭ ফেব্রুয়ারি ভারতের একাধিক সংবাদমাধ্যম 'দ্য হ্যান্স ইন্ডিয়া','মাতৃভূমি', 'লোকমত টাইমস' এবং 'মোরং এক্সপ্রেস' ব্লিটজ-কে উদ্ধৃত করে "Infiltration of Hamas into Bangladesh and Pakistan part of plan to expand regional, global terror networks" শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করে।

এর কয়েকদিন পরই ১২ ফেব্রুয়ারি শোয়েব চৌধুরী এক্সে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ট্যাগ করে বাংলাদেশকে আল-কায়েদা, আইসিস এবং হামাসের বন্দিদশা থেকে মুক্ত করার আহ্বান জানান।

১৬ মার্চ শোয়েব চৌধুরী এক্সে তৎকালীন মার্কিন গোয়েন্দা প্রধান তুলসী গ্যাবার্ডকে ট্যাগ করে দাবি করেন, বাংলাদেশ ও ভারত ভূখণ্ডকে হামাস, আল-কায়েদা ও আইসিস যেন ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বিরোধী কার্যক্রমে ব্যবহার করতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর হুশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

১৯ মার্চ আরেকটি পোস্টে তিনি দাবি করেন, শেখ হাসিনা যেমন ফিলিস্তিন ও হামাসের কট্টর সমর্থক ছিলেন এবং হামাস সদস্যদের বাংলাদেশে সামরিক প্রশিক্ষণের সুযোগ দিয়েছিলেন, তেমনি মুহাম্মদ ইউনূসও একই পথে হাঁটছেন। এমনকি তিনি অভিযোগ করেন, ইউনূস মালিকানাধীন 'গ্রামীণ আমেরিকা' গাজায় এক বিলিয়ন টাকা অনুদান দিয়েছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (DB) কামরাঙ্গীরচর ও কেরানীগঞ্জ থেকে 'আল-আকসা' নামক একটি চরমপন্থী দলের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করলে, শোয়েব চৌধুরী এক্সে সেটিকে সরাসরি "Hamas-linked terrorists arrested in Bangladesh!" বলে প্রচার করেন।

 

 

৩০ এপ্রিল উইকলি ব্লিটজে "Masked menace: When martial arts become a cover for extremism in Bangladesh" শিরোনামের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, 'ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেম' (FCS) নামের একটি মার্শাল আর্টস প্রশিক্ষণ কেন্দ্র আড়ালে তরুণদের হামাস, আল-কায়েদা ও টিটিপি-এর মতো আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর মতাদর্শে উদ্বুদ্ধ করছে এবং প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে।

পরবর্তীতে ১২ মে ভারতীয় থিংক ট্যাংক উসানাস ফাউন্ডেশন "Hamas Beyond West Asia" শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে।  এতে দাবি করা হয়, হামাস আর কেবল মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তারা বাংলাদেশেও জাল বিস্তার করেছে। প্রমাণ হিসেবে বাংলাদেশে হামাস নেতা ইসমাইল হানিয়া ও সিনওয়ারের গায়েবি জানাজার ঘটনা তুলে ধরা হয়।

৯ জুন গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে একটি মন্দিরে হিন্দু দেব-দেবীর (শিব, কৃষ্ণ ও রাম) মূর্তি ভাঙার যে উসকানি দেওয়া হচ্ছিল, সেটিকে ব্লিটজের প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক চরমপন্থার সাথে যুক্ত করা হয়। দাবি করা হয়, এই উসকানির পেছনে 'হামাস প্রক্সি' মাওলানা মামুনুল হকের মতো কট্টরপন্থীদের ইন্ধন রয়েছে।

পরবর্তীতে ১৭ জুন ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত রিউভেন আজার ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পুনরায় সতর্ক করে বলেন, ইসরায়েলের কাছে তথ্য আছে হামাস বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে সক্রিয়। 

পরদিন ১৮ জুন ভারতের Vivekananda International Foundation থিংক ট্যাংক একটি আলোচনায় মন্তব্য করে, বাংলাদেশে ইসলামিস্ট, মৌলবাদী ও র‍্যাডিক্যাল গোষ্ঠীগুলোর (যার মধ্যে হামাস অন্তর্ভুক্ত) পুরো একটি ইকোসিস্টেম গড়ে উঠছে।

পরদিন এক্স পোস্টে সালাহ উদ্দিন শোয়েব চৌধুরী দাবি করেন, ঢাকার একটি ফ্লাইওভারে হামাসের শত শত পতাকা ওড়ানো হয়েছে। তিনি লেখেন, "Mega terror outfit #Hamas footprint reaches Pakistan and Bangladesh"

এরপর ২২ জুন 'উইকলি ব্লিটজ'-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয় রাষ্ট্রদূতের ওই সাক্ষাৎকারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হামাস ও আল-কায়েদা ঢাকায় তাদের পেশিশক্তি প্রদর্শন শুরু করেছে। প্রতিবেদনে লেখা হয় “"Within hours of the Israeli ambassador’s interview, Al Qaeda, ISIS, and Hamas-affiliated Islamist and jihadist groups in Bangladesh began flexing their muscles by waving jihadist flags in a number of locations across Dhaka and holding processions. They chanted slogans denouncing democracy and calling for the transformation of Bangladesh into a Caliphate"”

আরও দাবি করা হয়, ইউনূস প্রশাসন পাকিস্তান থেকে আসা কার্গো স্ক্যানিং ছাড়া প্রবেশের অনুমতি এবং ভিসা শর্ত শিথিল করার সুযোগ নিয়ে হামাস জঙ্গিরা 'তাবলিগ জামাত'-এর ছদ্মবেশে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করছে “"allowing cargo arriving from Pakistan to be released by customs authorities at Bangladeshi air and sea ports without scanning or post-landing inspection" "The Yunus administration also lifted the 2019 provision requiring security clearance for Pakistani nationals before obtaining visas and entering Bangladesh"”

এছাড়া হামাস রোহিঙ্গাদের (ARSA) নিয়োগ করে সৌদি আরব, বাহরাইন, ইউএই এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে 'ইরানের সন্ত্রাসী এজেন্ডা' বাস্তবায়নের ছক কষছে বলেও অভিযোগ করা হয়।