গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটার পর ছেলেকে ত্যাগের করার ঘোষণা দিয়েছেন আব্দুল ওহাব শেখ নামে একজন। এজন্য ছেলের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকায় অভিযোগ তোলেন তিনি।
গতকাল সোমবার (২২ জুন) রাতে উপজেলার গওহরডাঙ্গা চৌরঙ্গী এলাকার একটি আসবাবের দোকানের অফিস কক্ষে সংবাদ সম্মেলন করে এমন ঘোষণা দেন ওহাব শেখ। তবে ওই ঘোষণার পর মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুর আড়াইটার দিকে টুঙ্গিপাড়া ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ কাবুল হাসান রিপন এক ফেসবুক পোস্টে ছেলেকে ত্যাগের কারণ সামনে আনেন।
আত্মগোপনে থাকা ওই ছাত্রলীগ নেতা তার শেখ রিপন নামে অ্যাকাউন্টে লিখেছেন, ‘কাল আমার সাথে আওয়ামী লীগের ৭৭তম জন্মদিনের কেক কাটার কারণে আজ তার (সজীব) বাবা তাকে ত্যাজ্য করে দিছে।’
আব্দুল ওহাব শেখ (৬৫) উপজেলার পাটগাতী ইউনিয়নের গওহরডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর ছেলে সজীব শেখ ছাত্রলীগের কোনো পদে নেই। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আব্দুল ওহাব জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতি করেন। তাঁর বড় ছেলে টুঙ্গিপাড়া পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি। কিন্তু ছোট ছেলে সজীব শেখ ‘সঙ্গদোষে’ নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বিষয়টি জানতে পারেন তিনি।
ওহাব শেখ বলেন, ‘অনেক বোঝানোর অনেক চেষ্টা করা হলেও সে (সজীব) কিছুতেই বুঝতে চায় না। তাই আমরা সপরিবারে ছেলে সজীব শেখকে ত্যাগ করলাম। এখন থেকে সজীবের কোনো কার্যক্রমে আমাদের কোনো দায়ভার থাকবে না, তার দায়িত্ব সম্পূর্ণ নিজের।’
এদিকে, ২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আগের দিন দলটির সহযোগী সংগঠনে যুক্ত থাকায় ছেলেকে ত্যাগের ঘোষণা স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনার তৈরি করে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচিত হয়। গাজী জাহিদুল ইসলাম সোহাগ নামে একজন লেখেন, ’১৫ বছরে ত্যাগ করেননি, এখন কেন হঠাৎ ত্যাগ! তাহলে ১৫ বছরের খেসারত দিতে হবে। ১৫ বছরের সুযোগ-সুবিধা ফেরত দিয়ে তারপর সংবাদ সম্মেলন করা উচিত।’