অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে পেনাল্টি থেকে গোলের দারুণ সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারলেন না লিওনেল মেসি। বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘জে’-এর দ্বিতীয় ম্যাচে ভিএআরের সিদ্ধান্তে পাওয়া পেনাল্টি নিতে গিয়ে লক্ষ্যভ্রষ্ট শট নেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। তাতেই হাতছাড়া হলো বিশ্বকাপ ইতিহাসে এককভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার সুযোগ।
ম্যাচের শুরুতেই বড় সুযোগ পায় আর্জেন্টিনা। অস্ট্রিয়ার বক্সে লাউতারো মার্তিনেস ফাউলের শিকার হন। শুরুতে খেলা চললেও পরে ভিডিও সহকারী রেফারির সাহায্যে পেনাল্টি দেন রেফারি আমিন ওমর। বলের পাশে দাঁড়ান মেসি। তাঁর সামনে সুযোগ ছিল মিরোস্লাভ ক্লোসেকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসে এককভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার।
কিন্তু মেসির শট লক্ষ্যে থাকেনি। বাঁ পায়ের শটে বল বাইরে পাঠান তিনি। এগিয়ে যাওয়ার বড় সুযোগ হারায় আর্জেন্টিনা, আর মেসির ব্যক্তিগত ইতিহাস গড়ার অপেক্ষাও বাড়ে।
আলজেরিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেছিলেন মেসি। সেই তিন গোলে বিশ্বকাপে তাঁর গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ১৬। তাতে জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসের পাশে উঠে আসেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে পেনাল্টি থেকে গোল করতে পারলে ক্লোসেকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসে এককভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে যেতেন তিনি।
এই মিসের সঙ্গে যোগ হলো আরেকটি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিসংখ্যানও। ২০১৮ বিশ্বকাপে আইসল্যান্ডের বিপক্ষে পেনাল্টি মিস করেছিলেন মেসি। ২০২২ বিশ্বকাপে পোল্যান্ডের বিপক্ষে তাঁর পেনাল্টি ঠেকিয়ে দেন ভয়চেখ শচেসনি। এবার ২০২৬ বিশ্বকাপে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষেও পেনাল্টি মিস করলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
তাতে টানা তিন বিশ্বকাপ আসরে নির্ধারিত সময়ে পেনাল্টি মিসের অনাকাঙ্ক্ষিত তালিকায় উঠে গেলেন মেসি। বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়কের ক্যারিয়ারে এটি আরেকটি অস্বস্তিকর মুহূর্ত হয়ে থাকবে।
ঘটনাটি আর্জেন্টিনার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জয় পেলে স্কালোনির দল ৬ পয়েন্টে উঠে শেষ ৩২-এর পথে বড় পদক্ষেপ নেবে। অন্য ম্যাচের ফল মিললে এক ম্যাচ হাতে রেখেই নকআউট নিশ্চিত করার সুযোগও তৈরি হতে পারে। এমন ম্যাচে পেনাল্টি থেকে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ হারানো তাই বড় ধাক্কা।
অস্ট্রিয়া শুরু থেকেই আর্জেন্টিনাকে সহজে খেলতে দিচ্ছিল না। রালফ রাংনিকের দল উঁচু চাপ, দ্রুত শারীরিক চ্যালেঞ্জ এবং সংগঠিত রক্ষণ দিয়ে মেসিদের ছন্দ ভাঙার চেষ্টা করছিল। সেই চাপের মধ্যেই লাউতারোর ফাউল থেকে পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা। কিন্তু মেসির মিসে বড় স্বস্তি পায় অস্ট্রিয়া।
মেসির জন্য এই মিস আরও আলোচিত হবে ব্যক্তিগত রেকর্ডের কারণে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে তিনি ইতিমধ্যেই সবচেয়ে বড় নামগুলোর একটি। ২০২২ সালে বিশ্বকাপ জিতেছেন, ২০২৬ আসর শুরু করেছেন হ্যাটট্রিক দিয়ে। কিন্তু পেনাল্টি থেকে গোল করতে না পারায় ক্লোসেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হলো।
তবে ম্যাচ তখনো শেষ হয়নি। মেসির সামনে সুযোগ খোলা আছে। খোলা খেলা, ফ্রি-কিক বা আরেকটি সুযোগ থেকে গোল পেলে তিনি এখনো এককভাবে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা হতে পারেন। কিন্তু অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে পেনাল্টি মিসটি ততক্ষণে হয়ে গেছে দিনের সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্ত।