Image description

এতে কোনোই সন্দেহ নেই যে, আল্লাহ তাআলা কতক মাস, দিন ও রাতকে অন্যান্য মাস, দিন ও রাতের চেয়ে বেশি মর্যাদাপূর্ণ বানিয়েছেন এবং তাতে ভাল কাজের অধিক বরকত রেখেছেন। কিন্তু কোনো মাস, দিন ও রাত বা কোনো সময়কে অকল্যাণকর বা অশুভ বানাননি। সময় মাত্রই আল্লাহ তাআলার নেয়ামত ও করুণা। উত্তম ও সঠিক কাজের মাধ্যমে মানুষ যে কোনো সময়কেই ফলপ্রসূ ও বরকতময় করতে সক্ষম।

কোনো মাস, দিন বা রাতকে অশুভ মনে করা বিশেষ কোনো সময়কে বিশেষ কাজের জন্য অশুভ ও অলক্ষুণে মনে করা-সবই জাহেলিয়াতের কুসংস্কার। যেমন ইসলামপূর্ব যুগের কোনো কোনো লোকের এই ধারণা ছিল যে, শাওয়াল মাসে বিবাহ-শাদির অনুষ্ঠান অশুভ ও অকল্যাণকর। উম্মুল মুমিনীন আয়েশা সিদ্দীকা (রা.) এই ভিত্তিহীন ধারণাকে এই বলে খন্ডন করেছেন যে- ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে শাওয়াল মাসেই বিবাহ করেছেন এবং শাওয়াল মাসেই বিবাহ-রজনী উদযাপন করেছেন। অথচ তার অনুগ্রহ লাভে আমার চেয়ে অধিক সৌভাগ্যবতী স্ত্রী আর কে আছে? (মুসলিম, হাদিস : ১৪২৩)

বর্তমানে কিছু লোক মুহাররম মাসের ব্যাপারে এজাতীয় ধারণা পোষণ করে। সম্ভবত তাদের এই ভ্রান্ত ধারণার পেছনে এ মাসে হোসাইন (রা.)-এর শাহাদাত বরণের ঘটনা কার্যকর। অথচ সময় কখনো অশুভ হয় না। বিশেষ করে মুহাররম মাস তো ‘আশহুরে হুরুম’ তথা মর্যাদাপূর্ণ চারটি মাসের অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি মাস। রমজান মাসের পর এ মাসের গুরুত্ব ও ফজিলতই সবচেয়ে বেশি। হোসাইন (রা.)-এর শাহাদাত বরণের মাধ্যমে এ মাস কীভাবে অশুভ হতে পারে? অশুভ ও অকল্যাণ তো ওই সব লোকের বদআমলের মধ্যে নিহিত, যারা তাকে অন্যায়ভাবে শহীদ করেছে। বছরের কোন্ মাসটি এমন আছে, যাতে কোনো মহান ব্যক্তির শাহাদাতের ঘটনা ঘটেনি? তবে কি বছরের সকল মাসই অশুভ ও অকল্যাণকর হয়ে যাবে?

সফর মাসের ব্যাপারেও জাহেলি যুগে এই ভ্রান্ত বিশ্বাস ছিল যে, এ মাসটি অশুভ। নাউযুবিল্লাহ! এজাতীয় শুভাশুভের ধারণা একটি কুসংস্কার, যাকে ইসলাম বাতিল সাব্যস্ত করেছে এবং এভাবে বান্দাদেরকে এক বিরাট মুসীবত থেকে মুক্তি দিয়ে আরাম ও স্বস্তির জীবন-যাপনের পথ সুগম করেছে। 

(উৎস: আল-কাউসার, সফর, ১৪৩৫/ডিসেম্বর ২০১৩ হিজরী সংখ্যা)