ইটের আঘাতে অবশেষে নিথর হলো রাফির জীবন। দীর্ঘদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে শেষ পর্যন্ত না ফেরার দেশে চলেই গেলেন তিনি।
সোমবার (২২ জুন) কাফরুল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজ্জাদ হোসেন রাফির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গত ৯ জুন রাত আনুমানিক ১টা ২০ মিনিটের দিকে মোটরসাইকেলে নিজ বাসায় ফিরছিলেন ভুক্তভোগী রাফি। তিনি কাফরুল থানার ইব্রাহিমপুর এলাকায় পৌঁছালে শত্রুতার জেরে রাফির মাথার ডান পাশে ইট দিয়ে আঘাত করেন দুষ্কৃতকারীরা।
এই মামলায় মো. পারভেজ, আনোয়ার হোসেন বাবু ও মো. ফয়সাল ওরফে কালু নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, আসামি কালু প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানান, ব্যবসা নিয়ে রাফির সঙ্গে তাদের বিরোধ চলছিল। কয়েকদিন আগে এ নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। ঘটনার দিন রাফি একা মোটরসাইকেল চালিয়ে আসছিলেন। এ সময় ওই রাস্তায় কালু, পারভেজসহ তার সহযোগীরা আড্ডা দিচ্ছিলেন। রাফিকে একা দেখে তারা আটকাতে যান। আটকাতে ব্যর্থ হলে একটু সামনে অবস্থান করা পারভেজ ইটের টুকরো দিয়ে মাথায় আঘাত করেন। এতে রাফি পড়ে যান এবং মাথায় গুরুতর আঘাত পান। পরবর্তীতে তারা রাফিকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ)তে স্থানান্তর করা হয়।
দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর সোমবার তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর খবরে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ রাজধানীজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। চলন্ত মোটরসাইকেল আরোহীর ওপর এমন নৃশংস হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। ঘটনার পরপরই তদন্তে নামে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের অভিযান শুরু করে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।