বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা এম ইলিয়াস আলী গুমের সঙ্গে বরখাস্ত সেনাকর্মকর্তা মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এক সাক্ষীর জবানবন্দিতে উঠে এসেছে। গুমের ঘটনায় অভিযুক্ত জিয়াউলের একসময় দেহরক্ষীর দায়িত্বে থাকা সেনাসদস্য ইমরুল কায়েস রোববার ট্রাইব্যুনাল-১-এ আওয়ামী সরকারের সময়ে শতাধিক মানুষকে গুম, নির্যাতন ও হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জবানবন্দি দেন।
এ সময় জিয়াউল আহসানকে কারাগার থেকে কড়া পুলিশি পাহারায় ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় হাজির করা হয়। ইলিয়াস আলী গুম ও খুনের সময় তিনি র্যাবের গোয়েন্দা শাখার প্রধান ছিলেন। পরে শেখ হাসিনা সরকারের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার বিরুদ্ধে অসংখ্য মানুষকে গুম, নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগ রয়েছে।
জবানবন্দিতে ইমরুল কায়েস বলেন, ওই ঘটনার কিছুদিন পর তিনি জিয়াউল আহসানের সঙ্গে সুন্দরবনে কয়েকবার অপারেশনে যান। একটি অপারেশনের বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, তারা বোটে করে অপারেশনস্থলে যান। তখন নদীতে ভাটা ছিল। তাদের সঙ্গে র্যাব-৮-এর সদস্যরাও ছিলেন। বোট থামার পর জঙ্গলের ভেতর থেকে দুই-তিন রাউন্ড গুলির শব্দ শোনা যায়। ফায়ারের নির্দেশ পেয়ে র্যাব ইন্টেলিজেন্স ও র্যাব-৮-এর সদস্যরা গুলি চালান। ভাটার কারণে কাদায় হাঁটু পর্যন্ত দেবে যাচ্ছিল। পরে ফায়ার বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, সেখানে জিয়াউল আহসান, র্যাবের এডিজি (অপস) মুজিব, কমান্ডার সোহায়েল এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। জঙ্গলের ভেতরে গিয়ে তারা গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দুই-তিনটি লাশ দেখতে পান। সেখানে একটি গাছের ওপরে অবজারভেশন পোস্ট (ওপি) ছিল, যার চারপাশে বুলেটপ্রুফ পাত লাগানো ছিল। এছাড়া দুটি বোটে সিগারেট, মদের বোতল ও বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী দেখতে পান। তার কাছে অপারেশনটি সাজানো বলে মনে হয়েছিল।
অপারেশন রেবেল হান্টে ১০ জনকে হত্যা
ইমরুল কায়েস সাক্ষ্যে বলেন, বিডিআর হত্যাকাণ্ড-এর পর ‘অপারেশন রেবেল হান্ট’ নামে সারা দেশে পলাতক বিডিআর সদস্যদের ধরতে অভিযান চালানো হয়। ওই সময় জিয়াউল আহসান ৮ থেকে ১০ জন বিডিআর সদস্যকে হত্যা করেন বলে তিনি দাবি করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কিছু ব্যক্তিকে ইনজেকশন পুশ করে এবং অন্যদের পোস্তগোলা ব্রিজসংলগ্ন আর্মি ক্যাম্প এলাকা থেকে বোটে করে নদীতে নিয়ে সিমেন্টের বস্তা বেঁধে মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করে নদীতে ফেলে দেওয়া হতো।
উত্তরায় চারজনকে ক্রসফায়ারে হত্যা
ইমরুল কায়েস বলেন, ২০১১ সালের রমজান মাসের শেষ দিকে তিনি লাইনে ছিলেন। একদিন ইফতারের আগে জিয়াউল আহসান তাকে ক্যামেরা নিয়ে উত্তরার নর্থ টাওয়ারে যেতে বলেন। সেখানে গিয়ে তিনি জিয়াউলকে পাননি। পরে ফোনে আরও সামনে যেতে বলা হলে তিনি সেখানে যান এবং চারজনকে ক্রসফায়ারে হত্যা করা হয়েছে দেখতে পান।
তার দাবি, জিয়াউল আহসান তাকে বলেন, নিহতরা ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তবে তার কাছে ওই অপারেশনও সাজানো বলে মনে হয়েছিল।