বন্ধ ও লোকসানি রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানাগুলোয় প্রাণ ফেরাতে আগ্রহী বিনিয়োগকারীদের সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বললেন, ‘আমরা চাই আপনারা এগিয়ে যান, সমৃদ্ধ হোন। আমরা আপনাদের সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা করব।’
গতকাল শনিবার ঢাকার তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য আয়োজিত রোডশোতে ব্যবসায়ী নেতাদের উদ্দেশে এসব কথা বলছিলেন প্রধানমন্ত্রী।
শিল্প মন্ত্রণালয়, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল। প্রধানমন্ত্রী বললেন, ‘একটি রাজনৈতিক সরকারের প্রধান দায়িত্ব হলো প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার পথ তৈরি করা।’ তবে একা সরকারের পক্ষে এ কাজ করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বললেন, ‘বাস্তবতা হলো, আমরা একসঙ্গে সব সমস্যার সমাধান করতে পারব না। তবে ধীরে ধীরে এবং পরিকল্পিতভাবে সেগুলোর সমাধান করা সম্ভব।’
সবাইকে মিলে কাজ করার আহ্বান জানালেন প্রধানমন্ত্রী। বললেন, ‘সমস্যা আছে, চ্যালেঞ্জও আছে। কিন্তু আমরা এটাও উপলব্ধি করেছি যে, সবাই একসঙ্গে কাজ করলে এসব বাধা অতিক্রম করা সম্ভব।’
অনুষ্ঠানে ব্যবসায়ী নেতা ও বিনিয়োগকারীদের সামনে ৪৪টি কারখানার বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করা হয়। সেখানে কারখানাগুলোর অবস্থান, বিদ্যমান অবকাঠামো, বিনিয়োগ প্রণোদনা, পরিবহন-সংযোগ এবং উৎপাদন সম্প্রসারণের সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়।
পরে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন এবং নিজেদের মতামত তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী; বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির; প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর; ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ; বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন; বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান; প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
দেশের শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ, প্রাণ-আরএফএল, এসিআই লিমিটেড, ওয়ালটন, রানার, টি কে গ্রুপ, ব্র্যাক, নাবিল গ্রুপ, স্কয়ার গ্রুপ, ট্রান্সকম গ্রুপ, আকিজ গ্রুপ এবং লাল তীরের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
এ ছাড়া জাপানের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে ছিল মারুবেনি করপোরেশন, টয়োটা সুশো করপোরেশন, সুমিতোমো করপোরেশন, এমইউএফজি ব্যাংক লিমিটেড, মিতসুই অ্যান্ড কো. (এশিয়া প্যাসিফিক) পিটিই লিমিটেড, সোজিৎস এশিয়া পিটিই লিমিটেড, জেট্রো বাংলাদেশ কার্যালয় এবং বাংলাদেশে জাপান দূতাবাসের কর্মকর্তারা।
খেলাধুলার পাশাপাশি লেখাপড়াও এগিয়ে যেতে হবে: শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার পাশাপাশি লেখাপড়া, গান ও সংস্কৃতিচর্চার মাধ্যমে পারদর্শী হয়ে শক্তিশালী দেশ গড়ার আহ্বান জানালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। খুদে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বললেন, ‘শুধু খেললে হবে না, লেখাপড়া ও সৃজনশীল কাজেও এগিয়ে যেতে হবে।’ গতকাল শনিবার বিকালে বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের চূড়ান্ত খেলা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বললেন।
প্রধানমন্ত্রী বলছিলেন, ‘ছোট্ট বন্ধুরা খেলাধুলার পাশাপাশি লেখাপড়া ও সাংস্কৃতিক কাজেও পারদর্শী হতে হবে। তবে অবশ্যই নানা ধরনের খেলা খেলতে হবে। এ বছর এই গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট মাধ্যমিক পর্যায়ে আয়োজন করার পরিকল্পনা আছে। পরের বছর প্রাইম মিনিস্টার কাপের আয়োজন করা হবে।’
এ সময় সবুজ মাঠে ফুটবল খেলতে কেমন লাগল, খুদে শিক্ষার্থীদের কাছে তা জানতে চান তারেক রহমান। তিনি বললেন, ‘এ বছর ২২ লাখ বালক-বালিকা এ ফুটবল টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করেছে। তবে শুধু ফুটবল খেললে হবে না। ক্রিকেট খেলতে হবে, সাঁতার কাটতে হবে। তোমরা দেশের ভবিষ্যৎ। তাই তোমাদের সবকিছুতে এগিয়ে যেতে হবে, সবকিছুতে পারদর্শী হতে হবে।’
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী আরও বললেন, ‘নির্বাচনের আগে আমরা বলেছিলাম, আমরা বিজয়ী হলে দেশের খেলাধুলাকে এগিয়ে নেব। সেই প্রতিশ্রুতি নিয়ে আমরা কাজ করার চেষ্টা করে যাচ্ছি।’
দেশের প্রাথমিক শিক্ষার সবচেয়ে বড় এ ক্রীড়া আয়োজন গত ৬ এপ্রিল শুরু হয়। এ প্রতিযোগিতায় দেশের ৬৫ হাজার ৩৪২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ১১ লাখের বেশি ছাত্র এবং ১১ লাখের বেশি ছাত্রী অংশগ্রহণ করেছে। গ্রামপর্যায় থেকে শুরু হয়ে ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা শেষে চারটি দল জাতীয় পর্যায়ের ফাইনালে জায়গা করে নেয়।