বিএনপি নেতাকর্মীরা দীর্ঘ ২০ বছর ধরে নির্যাতিত ও বঞ্চিত। এখন আর সেই নির্যাতনের পুনরাবৃত্তি বরদাস্ত করা হবে না বলে জানিয়েছেন কুষ্টিয়া-২, ৩ ও ৪ আসনের সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য মোছা. ফরিদা ইয়াসমিন।
তিনি প্রশাসনের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘প্রশাসনের সব কর্মকর্তাকে জনগণের কল্যাণে কাজ করতে হবে। প্রশাসন যদি বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতনের ষড়যন্ত্র করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই কুমারখালী-খোকসাতে যদি থাকতে হয়, তাহলে এখানকার বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে কাজ করতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই।’
আজ শনিবার সন্ধ্যায় কুষ্টিয়ার কুমারখালী জেলা পরিষদ ডাক বাংলোতে বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেছেন, ‘আমি চেয়েছি সবাইকে এক ছাতার নিচে একত্রিত করতে। কিন্তু আপনারা যদি সেই সহযোগিতা না করেন, তবে আমি রিপোর্ট করতে বাধ্য হব। আমি কোনোদিন কারোর বিপক্ষে যেতে চাই না, কিন্তু আমাকে বাধ্য করবেন না। আমি রাজনীতি, সংগ্রাম ও লড়াই করে এখানে এসেছি, কাউকে তোয়াজ করে নয়। অতএব আমার ব্যাপারে আমি সকলকে সাবধান থাকতে বলব।’
অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও ঐক্যের ওপর জোর দিয়ে সংসদ সদস্য আরও বললেন, ‘আমার নেতাকর্মী ২০ বছর ধরে নিগৃহীত। আপনারা (প্রশাসন) তো সুখে ছিলেন। কেন এখন সেই পুনরাবৃত্তি? আমি এখানে কারও পূজা করতে আসিনি, সবাইকে নিয়ে কাজ করতে এসেছি। এক ছাতার নিচে সবাইকে আসতে হবে। যারা দলের নির্দেশ অমান্য করবেন বা সমন্বয় করবেন না, তাদের জবাবদিহি করতে হবে। এছাড়া যারা অতীতে দলের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন, তাদের আগামী দিনে ওঠার আর কোনো সিঁড়ি থাকবে না।
তিনি উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে স্পষ্ট করেন, ‘আমি কাউকে বাদ দিতে চাই না, সবাইকে নিয়ে হাঁটতে চাই। কিন্তু আপনারা কেন সভায় অনুপস্থিত ছিলেন, এর কৈফিয়ত দিতে হবে। আগামী ১৭ বা ১৮ তারিখের দিকে আমি আবার আসব এবং প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে নিয়ে সভা করব। আমাদের লক্ষ্য একটাই, দলকে শক্তিশালী করা এবং আগামী দিনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া।
কুমারখালী উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ও কুষ্টিয়া আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাতিল মাহমুদের সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ নওয়াব আলী, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ আব্দুর রাজ্জাক বাচ্চু, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন জিলাল, কুমারখালী পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ তরিকুল ইসলাম লিপন এবং পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি কে এম আলম টমে।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা, উপজেলা, পৌর ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বিএনপি এবং এর অঙ্গসংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীরা।