ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার শশীভূষণ থানাধীন রসুলপুর ইউনিয়নে এক ব্যক্তির মৃত্যুর পর সম্পত্তি ও লাশ দাফনের স্থান নিয়ে সন্তানদের মধ্যে দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরে পুলিশ পাহারায় মরদেহ দাফন সম্পন্ন করা হয়।
রসুলপুর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের আ. জলিল পণ্ডিত বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার (২০ জুন) রাত আনুমানিক ৩টার দিকে আ. জলিল পণ্ডিত হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মারা যান। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে চার স্ত্রীর সন্তানরা বাড়িতে এসে ওয়ারিশ ও সম্পত্তির হিসাব নিয়ে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন।
এ সময় ছোট স্ত্রীর ঘরের মেয়ে খাদিজা আক্তার স্মৃতি দাবি করেন, তার বাবার কোনো সম্পত্তি নেই এবং অন্য কেউ কোনো অংশ পাবে না। এ নিয়ে প্রথম দফায় সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়।
অন্যদিকে ছোট ঘরের প্রাক্তন জামাতা খোকন অভিযোগ করেন, তার উপার্জিত অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার শ্বশুর ও স্ত্রী স্মৃতির কাছে গচ্ছিত ছিল, যা দিয়ে দুটি বসতঘর ও জমি কেনা হয়। ২০২৫ সালে তার স্ত্রী তাকে তালাক দেওয়ার পর তিনি সম্পদ ফেরত না পাওয়া পর্যন্ত মরদেহ দাফন করতে দেবেন না বলে জানান।
পরবর্তীতে দাফনের সময় পুনরায় বড় তিন স্ত্রীর সন্তানরা দাবি করেন, আ. জলিল পণ্ডিত জীবিত অবস্থায় বাড়ির সামনে দাফনের অসিয়ত করে গেছেন। অন্যদিকে ছোট ঘরের সন্তানরা বাড়ির বাইরে দাফনের দাবি জানালে আবারও সংঘর্ষ বাধে।
খবর পেয়ে শশীভূষণ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং পুলিশি পাহারায় বাড়ির সামনেই মরদেহ দাফন সম্পন্ন করে।
এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে স্থানীয়রা জানান।
শশীভূষণ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ফিরোজ আহমেদ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি, অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শীর্ষনিউজ