যশোরের বেনাপোল বন্দর থেকে আমদানি পণ্য পাচারের একটি ছবি ছড়িয়ে পড়েছে। সমালোচনার মুখে বন্দরের পণ্যাগারের দুই শ্রমিককে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বন্দর থেকে পণ্য পাচারের সঙ্গে বন্দর, কাস্টমস, সিঅ্যান্ডএফ, পরিবহন সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তি এবং শেডে অবস্থানরত কিছু এনজিও কর্মী জড়িত। একটি চক্রের সহায়তায় শ্রমিকদের ব্যবহার করে এসব পণ্য বাইরে বের করা হয় এবং বিনিময়ে অর্থ লেনদেন হয়।
বেনাপোল আমদানি-রপ্তানি সমিতির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান বলেন, বন্দর ও কাস্টমসের দুর্বল নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং দুর্নীতির কারণে অপরাধীরা উৎসাহিত হচ্ছে। এতে বৈধ ব্যবসায়ীরাও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। আমরা এ অবস্থার পরিবর্তন চাই।
কাস্টমস সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে বিভিন্ন কারণে আমদানি খাত থেকে রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা কম হয়েছে। পণ্য পাচারসহ বিভিন্ন অভিযোগে বন্দর, সিঅ্যান্ডএফ ও পরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তিনটি মামলায় মোট ৪৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।
বেনাপোল বন্দরের ব্যবসায়ী জামাল হোসেন বলেন, বন্দরে দীর্ঘদিন ধরেই পণ্য পাচারের অভিযোগ রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এটি উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে, যা সরকারের রাজস্ব আদায়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ বিষয়ে বেনাপোল বন্দরের পরিচালক শামিম হোসেন বলেন, পণ্য পাচারের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযুক্ত শ্রমিকদের কাজ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে যার সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।