বিধাসভা নির্বাচনে হারের পর থেকেই ‘শনি’ যেন পিছুই ছাড়ছে না তৃণমূল কংগ্রেসের সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ে। দলে ভাঙন, বিদ্রোহ, দলীয় কার্যালয় হাতছাড়া, পৌরসভা থেকে মেয়রদের পদত্যাগ, নিরাপত্তা রক্ষীদের প্রত্যাহারের পর এবার দলের আর্থিক ও আইনি নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক এই মুখ্যমন্ত্রী।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে থাকা বিপুল অর্থের লেনদেন বন্ধ রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের কোষাধ্যক্ষ অরূপ বিশ্বাস।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভারতের দ্বিতীয় সম্পদশালী মমতার দল তৃণমূল কংগ্রেসের ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলোতে রয়েছে মোট ৬২৫ কোটি ৭৯ লাখ ৮৭ হাজার ২৬৪ রুপি লিকুইড মানি। তৃণমূলের ব্যাংকগুলোতে ফিক্সড ডিপোজিট হিসেবে রয়েছে ২৫০ কোটি ৭৭ লাখ ২৮ হাজার ৩২২ রুপি। ব্যাংক ব্যালান্স মিলিয়ে তৃণমূলের অ্যাকাউন্টে থাকা মোট রুপির পরিমাণ ৮৭৬ কোটি ৫৭ লাখ ১৫ হাজার ৫৮৬ রুপি।
এছাড়াও সর্বশেষ অডিট রিপোর্ট অনুযায়ী, চেক হিসেবে তৃণমূলের ঘরে রয়েছে আরও ৫০ কোটি রুপি। এর বাইরে দলটির কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক কার্যালয় মিলিয়ে নগদ বা ক্যাশ হিসেবে রয়েছে ৩১ লাখ ২৮ হাজার ২৮ রুপি।
তৃণমূল কংগ্রেস বর্তমানে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ দাবি করা ঋতব্রত গোষ্ঠী ব্যাংকে গচ্ছিত বিপুল নগদ অর্থ ও সই করা চেক অবৈধভাবে ব্যবহার করে টাকা তুলে নিতে পারে বলে তীব্র আশঙ্কা করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে থাকা (কালীঘাট অংশ) নেতারা।
এমন পরিস্থিতিতে দলের তহবিল রক্ষা ও এর ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে ‘যুদ্ধকালীন’ তৎপরতা শুরু করেছে মমতার নেতৃত্বাধীন অংশটি। দলীয় ফান্ড হাতছাড়া হওয়া আটকাতে খোদ তৃণমূল কংগ্রেসের (কালীঘাট) কোষাধ্যক্ষ অরূপ বিশ্বাস সংশ্লিষ্ট বেসরকারি ব্যাংকের অ্যাকাউন্টগুলো অবিলম্বে ফ্রিজ বা লেনদেন বন্ধ করার আনুষ্ঠানিক আবেদন জানিয়েছেন।
কোনরকম রাখঢাক না করে ও নিজেকে দলের কোষাধ্যক্ষ দাবি করে ব্যাংকে দেওয়া ওই চিঠিতে অরূপ বিশ্বাস জানান, বর্তমানে তৃণমূলের ভেতরে ‘প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠী’ বা ‘রাইভাল গ্রুপ’ তৈরি হয়েছে, যারা নিজেদেরই দলের আসল প্রতিনিধি বলে দাবি করছে। এই পরিস্থিতিতে তহবিলের নিয়ন্ত্রণ বেহাত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সবদিক বিবেচনা করে দলের অ্যাকাউন্টের সমস্ত ডেবিট ট্রানজ্যাকশন ও অপারেশনাল স্ট্যাটাস অবিলম্বে স্থগিত রাখা হোক।