Image description

আগামী ২ জুলাই থেকে শুরু হতে যাওয়া এইচএসসি পরীক্ষা সব বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী এহছানুল হক মিলন। এমনকি কোনো দুর্যোগ হলেও তা মোকাবিলার জন্য জরুরি ব্যবস্থা থাকবে বলে জানান তিনি।

 

বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা জানান।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “সারা দেশে একক প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়ার লক্ষ্য হলো—বিভিন্ন বোর্ডের মধ্যে বৈষম্য দূর করা। অভিন্ন প্রশ্নে আমরা পরীক্ষার ব্যবস্থা করেছি। দেখি কী হয়। প্রত্যেকটা বোর্ডের একটা প্রতিযোগিতা থাকে। তার জন্য আমাদের এই সিদ্ধান্ত।”

তিনি আরো বলেন, “পরীক্ষার সময় দুর্যোগ হলে আমাদের ব্যবস্থা আছে। আমাদের প্রশ্ন তো আগেই পৌঁছে যাবে। পরীক্ষার সময় সমস্যা হলে তার ব্যবস্থা আমাদের আছে। নির্দেশনা আছে।”

স্কুলে ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতি চালু করায় কোচিং বাণিজ্যের বিস্তার প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষার নামে যা হচ্ছে, তা মূলত একটি নামমাত্র প্রক্রিয়া। আমরা ক্যাচমেন্ট এরিয়া নির্ধারণ এবং আসন সংখ্যা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর কাজ করছি যাতে কোচিং বাণিজ্য বন্ধ হয়। আমরা এই সিস্টেমটি পর্যালোচনা করছি যাতে কোনো অনিয়ম না হয়।”

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন বলেন, “আমরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী বাস্তব জীবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত শিক্ষাব্যবস্থা দিতে চাই।” তিনি বলেন, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে চতুর্থ শ্রেণিতে দুটি বই—ক্রীড়া ও সংস্কৃতি এবং ষষ্ঠ শ্রেণিতে লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস ও ভোকেশনাল শিক্ষা।

প্রশ্নের জবাবে মাহদী আমিন বলেন, লার্নিং হ্যাপিনেস বা আনন্দদায়ক শিক্ষার কনসেপ্টটি আমরা ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে শুরু করছি এবং পর্যায়ক্রমে এটি দশম শ্রেণি পর্যন্ত বিস্তৃত করা হবে।

তিনি বলেন, সংস্কৃতির সংজ্ঞায় আমরা শুধু সংগীত নয়, বরং বই পড়া, সুন্দর হাতের লেখা, আবৃত্তি, কবিতা পড়া, গল্প লেখা এবং বিতর্ক প্রতিযোগিতাকেও অন্তর্ভুক্ত করেছি। একইভাবে খেলাধুলার ক্ষেত্রেও ফুটবল, ক্রিকেট, দাবা ও সাঁতারের মতো বৈচিত্র্যময় ইভেন্ট রাখা হয়েছে যাতে শিক্ষার্থীরা তাদের পছন্দমতো ক্ষেত্রে দক্ষতা অর্জন করতে পারে।

প্রাথমিকের গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট প্রসঙ্গে উপদেষ্টা মাহদী আমিন জানান, গত আড়াই মাস ধরে দেশের তৃণমূল থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত ১১ লাখের বেশি ছাত্র এবং ১১ লাখের বেশি ছাত্রী, ৬৫ হাজার ৩৪২টি স্কুল থেকে একটি ফুটবল প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছে। আগামী ২০ জুন এর ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত থাকবেন।

তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য হলো একটি বৈচিত্র্যপূর্ণ শিক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করা। যার যে বিষয়ে মেধা আছে, রাষ্ট্র তাকে সেই ফিল্ডে বিকশিত হওয়ার জন্য সর্বোচ্চ পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন—প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী প্রমুখ।