Image description

পার্বত্য চট্টগ্রামের একমাত্র মেডিকেল কলেজ হিসেবে ২০১৪ সালে যাত্রা করে রাঙ্গামাটি মেডিকেল কলেজ। ওই বছরই রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিট ভবনে স্থাপিত অস্থায়ী ক্যাম্পাসে কলেজটি শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করে।

এরপর পুরো এক যুগ পার হলেও মেডিকেল কলেজটির জন্য কোনো স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ হয়নি। এমনকি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে নেই পর্যাপ্ত জনবলও। কলেজের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, বেসিক ও ক্লিনিক্যাল বিষয়ে শিক্ষকের ৫৮টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ২৫ জন। অধ্যাপক পদ শূন্য আছে ৭টি। এছাড়া সহযোগী ও সহকারী অধ্যাপকের ১৩টি করে পদ শূন্য রয়েছে। ৩৩ শূন্য পদে বর্তমানে ১৮ জন শিক্ষক সংযুক্তিতে দায়িত্ব পালন করছেন।

শুধু রাঙ্গামাটি মেডিকেল কলেজ নয়, দেশের আরো ছয়টি সরকারি মেডিকেল কলেজ কার্যক্রম চালাচ্ছে অস্থায়ী ক্যাম্পাসে। এছাড়া দেশের ৩৭টি সরকারি মেডিকেল কলেজের প্রায় সবগুলোতে রয়েছে শিক্ষকসহ জনবল সংকট। স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিজিএমই) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সরকারি মেডিকেল কলেজগুলোর মোট শিক্ষক পদের ৪৩ দশমিক ৩৮ শতাংশই বর্তমানে শূন্য। স্থায়ী ক্যাম্পাস না থাকা, শিক্ষক সংকটের পাশাপাশি অনেক মেডিকেল কলেজে আছে শ্রেণীকক্ষ, আবাসন ও ল্যাব সংকট। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতো সংবেদনশীল ও বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রমে এ ধরনের মৌলিক সুবিধার অভাব দেশে দক্ষ চিকিৎসক তৈরিতে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে। এতে স্বাস্থ্য খাত ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রস্তুত হতে পারছে না বলেও মত তাদের।

 

এমন পরিস্থিতিতে বিদ্যমান কলেজগুলোর সংকট সমাধানের আগেই নতুন মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগী হয়েছে সরকার। স্বাস্থ্য শিক্ষাসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার রাজনৈতিক বিবেচনায় পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত না করে একের পর এক সরকারি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করেছিল। এতে স্বাস্থ্য শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে দেশের স্বাস্থ্যসেবায়। সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার সমালোচনা সত্ত্বেও নতুন মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার অনুমোদন দিয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে মুন্সিগঞ্জে একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার শর্তসাপেক্ষ অনুমোদন দেয়া হয়। এরপর নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে নতুন সরকারি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগী হয়েছে বর্তমান সরকারও। এক মাসের ব্যবধানে দুটি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

 

গত ১৪ মে ঠাকুরগাঁওয়ে নতুন একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার অনুমোদন দেয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সিদ্ধান্তটি অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই সেখানে শিক্ষার্থী ভর্তি করা যাবে। সর্বশেষ গত ১৫ জুন নরসিংদী জেলায় নতুন একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে দেশে সরকারি মেডিকেল কলেজের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৯-এ।

 

এর আগে ২২ এপ্রিল স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জাতীয় সংসদে জানান, সরকার আরো সাতটি জেলায় নতুন মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করছে। তবে বিদ্যমান মেডিকেল কলেজগুলোয় শিক্ষক ও অবকাঠামোগত সংকট নিরসনের আগেই নতুন কলেজ স্থাপনের এমন উদ্যোগ চিকিৎসা শিক্ষার মান নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Untitled-2

 

বর্তমানে যেসব কলেজ অস্থায়ী ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম চালাচ্ছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে রাঙ্গামাটি মেডিকেল কলেজ, চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ, মাগুরা মেডিকেল কলেজ, নওগাঁ মেডিকেল কলেজ, নেত্রকোনা মেডিকেল কলেজ, নীলফামারী মেডিকেল কলেজ ও সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজ। স্থায়ী ক্যাম্পাস না থাকায় এসব মেডিকেল কলেজের সবগুলোতেই শ্রেণীকক্ষ, আবাসন ও ল্যাব সংকট রয়েছে।

রাঙ্গামাটি মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. প্রীতি প্রসূন বড়ুয়া বণিক বার্তাকে বলেন, ‘শিক্ষক সংকট, শ্রেণীকক্ষের সংকট, ল্যাবের যন্ত্রপাতির অপ্রতুলতা ও ল্যাব-টেকনিশিয়ানের সংকট তো রয়েছে। তবে এ মুহূর্তে আমাদের শিক্ষক সংকটের বিষয়টি নিরসন হওয়া খুব জরুরি। আমাদের এখানে অনেকগুলো বিভাগে এখন কোনো শিক্ষক নেই। শিক্ষক সংকটের বিষয়টি শিক্ষক পদায়ন হলে শিগগিরই নিরসন করা সম্ভব।’

প্রতিষ্ঠার পর আট বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো স্থায়ী ক্যাম্পাস পায়নি নেত্রকোনা মেডিকেল কলেজ। এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘স্থায়ী ক্যাম্পাস না থাকায় আমরা প্রয়োজনীয় অনেক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। ভালো অডিটোরিয়াম, সমৃদ্ধ লাইব্রেরি ও পর্যাপ্ত আবাসিক হলসহ নানা সংকটের মধ্য দিয়েই আমাদের শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হচ্ছে।’

কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. মুহাম্মদ সাইফুল হাসান বলেন, ‘মেডিকেল কলেজের জন্য প্রস্তাবিত দুটি জায়গার কোনোটিই এখনো চূড়ান্ত হয়নি। পাশাপাশি বিভিন্ন বিভাগে শিক্ষকসহ অন্যান্য সংকট রয়েছে। আমরা চাই, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দ্রুত সময়ের মধ্যে ভূমি নির্ধারণ করে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ ও আধুনিক নিজস্ব ক্যাম্পাস নিশ্চিত করুক।’

তুলনামূলক নতুন মেডিকেল কলেজগুলোতে শিক্ষক সংকট বেশি। এমনকি অনেক সময় শিক্ষকদের পদায়ন দেয়া হলেও ঢাকার বাইরের মেডিকেল কলেজ হওয়ায় তারা যোগদান করেন না।

স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শুধু প্রভাষক ব্যতীত অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক এবং সহকারী অধ্যাপক তিন পদেই ৫০ শতাংশের বেশি শূন্য পদ রয়েছে। সবচেয়ে বেশি ফাঁকা অধ্যাপকের পদ, এর হার ৬৮ শতাংশের বেশি।

চাঁদপুর মেডিকেল কলেজে অনুমোদিত লোকবল ১০৯ জনের। এর বিপরীতে কর্মরত আছেন ৪৭ জন। কলেজের অধ্যক্ষ ডা. সাহেলা নাজনীন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘মেডিকেল কলেজ অধিকরণের কাজ চলমান আছে। পুরোপুরি শেষ হয়নি। তবে স্থায়ী ভবন নির্মাণের চেয়ে এখন বেশি প্রয়োজন পর্যাপ্ত জনবল। বিভিন্ন বিভাগে শিক্ষক সংকট থাকায় একজন শিক্ষককে ৩-৪টা দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। শূন্য পদ পূরণের জন্য আমি অনেকবার চিঠি পাঠিয়েছি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে। তিনজন শিক্ষককে এখানে পোস্টিংও দেয়া হয়েছে কিন্তু তারা অদ্যাবধি যোগদান করেননি। সবাই মূলত ঢাকায় পোস্টিং নিতে চান।’

নিজস্ব ক্যাম্পাস নেই নওগাঁ মেডিকেল কলেজেরও। কাটেনি জনবল সংকটও। কলেজ প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, কলেজটিতে একজন অধ্যক্ষ, ১২ জন অধ্যাপক, ২৩ জন সহযোগী অধ্যাপক, ২৬ জন সহকারী অধ্যাপক, ২৬ জন প্রভাষক এবং দুজন কিউরেটরসহ মোট অনুমোদিত পদ ৯০টি। তবে এর বিপরীতে কর্মরত আছেন একজন অধ্যক্ষ, তিনজন অধ্যাপক, ৯ জন সহযোগী অধ্যাপক, ছয়জন সহকারী অধ্যাপক, ২৪ জন প্রভাষক এবং দুজন কিউরেটরসহ মাত্র ৪৫ জন। এদের মধ্যে আবার একজন কিউরেটর প্রেষণে আছেন রাজশাহী মেডিকেল কলেজে।

wee

 

নওগাঁ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. মুক্তার হোসেন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘নিজস্ব ক্যাম্পাস না থাকায় শিক্ষার্থীরাই সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। যে ভবনে কলেজের কার্যক্রম চলছে, সেটি খুবই ছোট। পরীক্ষা চলাকালে ক্লাস বন্ধ রাখতে হয়। কনসালট্যান্টদের বসারও পর্যাপ্ত জায়গা নেই। সব শিক্ষার্থীর জন্য আবাসিক সুবিধা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। ছাত্রীদের একটি অংশকে নিরাপত্তার শঙ্কার মধ্যেই বাইরে থাকতে হচ্ছে। প্রয়োজনীয় জনবল ও অবকাঠামো চেয়ে আমরা বারবার মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছি।’

এছাড়া জামালপুর মেডিকেল কলেজ, সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ এবং পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ নিজস্ব ক্যাম্পাস পেলেও জনবল সংকট কাটেনি। সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজে শিক্ষকসহ মোট পদ রয়েছে ১৭৩। এর মধ্যে অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক ও সহকারী অধ্যাপক, প্রভাষকসহ কর্মকর্তা-কর্মচারী মিলে কর্মরত রয়েছেন ৫৯ জন। পদ শূন্য রয়েছে ১১৪টি। পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজে ৯৪টি পদের মধ্যে ৫১টি পদ শূন্য আর জামালপুর মেডিকেল কলেজে ৮৬টি পদের বিপরীতে ৩১টি শূন্য।

শিক্ষকের সঙ্গে আবাসন সংকটেও ভুগছেন অনেক কলেজের শিক্ষার্থীরা। সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজের ১০০ আসনের হোস্টেলে গাদাগাদি করে থাকতে হচ্ছে ৩১৮ জন ছাত্রীকে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী জানান, শিক্ষক ও আবাসন সংকটের কারণে তাদের লেখাপড়া বিঘ্নিত হচ্ছে। বিভাগীয় প্রধানসহ একাধিক বিভাগের অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপক না থাকায় শিক্ষায় ঘাটতি থাকছে। শিক্ষার যথাযথ পরিবেশ নিশ্চিতে শিক্ষক ও আবাসন সংকট দূর করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের সাবেক উপদেষ্টা ও সাবেক স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশনের সদস্য প্রফেসর ডা. মোজাহেরুল হক বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বর্তমানে সরকারি মেডিকেল কলেজের অনেকগুলোই সঠিকভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছে না। একটি মেডিকেল কলেজ যথাযথভাবে পরিচালনার জন্য শুধু ভবন থাকলেই হয় না। প্রয়োজন পর্যাপ্তসংখ্যক শিক্ষক, মানসম্মত হাসপাতাল, ল্যাবরেটরি, প্রশিক্ষণের উপকরণ এবং স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা শিক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের আনুষঙ্গিক সুবিধা। এসব নিশ্চিত করার পরই নতুন মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার কথা ভাবা উচিত। বর্তমানে অনেক কলেজে তীব্র শিক্ষক সংকট রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন দুটি সরকারি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্তকে আমি সঠিক মনে করি না। এখন আমাদের প্রধান কাজ হওয়া উচিত বিদ্যমান সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোকে পুরোপুরি কার্যকর করা এবং সেগুলোর শিক্ষার মান নিশ্চিত করা।’

তিনি আরো বলেন, ‘সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো স্বাস্থ্য খাতের মানবসম্পদ উন্নয়নে দেশে কোনো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেই। আজ থেকে পাঁচ বা ১০ বছর পর আমাদের কী পরিমাণ স্বাস্থ্যকর্মী প্রয়োজন হবে, কতজন চিকিৎসক লাগবে, কোন কোন বিশেষজ্ঞের চাহিদা তৈরি হবে, কতজন নার্স বা মেডিকেল টেকনোলজিস্ট প্রয়োজন হবে—এসব বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট পরিকল্পনা নেই। আমি আশা করি, সরকার আগে স্বাস্থ্য খাতের মানবসম্পদ উন্নয়নের একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ন করবে। এরপর সেই পরিকল্পনার ভিত্তিতে প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেবে।’

মেডিকেল কলেজে শিক্ষার্থীদের যেসব বিষয়ে পাঠদান করা হয় তার মধ্যে আটটি মৌলিক বিষয় রয়েছে। এগুলো বেসিক সাবজেক্ট নামে পরিচিত। স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ৩৭টি সরকারি মেডিকেল কলেজের সবগুলোতেই মৌলিক বিষয়ে শিক্ষকের পদ শূন্য আছে। বর্তমানে মেডিকেল কলেজগুলোয় মৌলিক বিষয়ে মোট শিক্ষক পদ রয়েছে ২ হাজার ৬৯টি। এর বিপরীতে শিক্ষাদান করছেন ১ হাজার ৫৬০ জন। অর্থাৎ মৌলিক বিষয়ে প্রায় এক-চতুর্থাংশ পদ শূন্য। তবে তুলনামূলক নতুন কলেজগুলোতে বেসিক সাবজেক্টে শূন্য পদের হার ৩০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত।

স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘অতীতে পরিকল্পনাহীনভাবে সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত না করেই নতুন মেডিকেল কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার এমনটি করবে না। নতুন দুটি মেডিকেল কলেজ অনুমোদন দেয়া হলেও অবকাঠামো নির্মাণ ও শিক্ষক নিয়োগের পরেই তাদের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হবে। আমরা এরই মধ্যে মেডিকেল কলেজগুলোতে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। যে সাতটি মেডিকেল কলেজে অবকাঠামো নেই সে সাতটি মেডিকেল কলেজের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের জন্য এডিপিতে অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। নতুন যে দুটি মেডিকেল কলেজ অনুমোদন দেয়া হয়েছে তাদের ক্যাম্পাস নির্মাণও একই সঙ্গে হবে। প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য যে অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধা প্রয়োজন সেগুলো আগামী এক বছরে নির্মাণ করে তারপর নতুন মেডিকেল কলেজে শিক্ষার্থী ভর্তি করানো হবে।’

অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন আরো বলেন, ‘শিক্ষক সংকট নিরসনেও উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সম্প্রতি যেসব ডাক্তারকে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে তাদের মধ্যে অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক রয়েছেন; যাদের এখনো পদায়ন হয়নি। তাদের মেডিকেল কলেজগুলোতে পদায়ন করা হবে। নতুন শিক্ষকদের দক্ষ করে তুলতে ডেডিকেটেড প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালু করা হচ্ছে। এ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অবকাঠামোসহ সব প্রস্তুত রয়েছে। এছাড়া মৌলিক বিষয়ে শিক্ষক সংকট দূর করতে এসব বিষয়ের শিক্ষকদের ইনসেনটিভ বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আমাদের যে পরিকল্পনা রয়েছে তা বাস্তবায়ন শেষ হলে স্বাস্থ্য শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ থাকবে না। বরং আমরা আরো বেশিসংখ্যক দক্ষ চিকিৎসক তৈরিতে সক্ষম হব।’

প্রতিবেদনটি তৈরি করতে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন বণিক বার্তার রাঙ্গামাটি, সিরাজগঞ্জ, চাঁদপুর, জামালপুর, নওগাঁ, পটুয়াখালী ও মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি