Image description

দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দুবাইয়ে গ্রেপ্তারের খবরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা। দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে আত্মগোপনে থাকা এই বিতর্কিত সাবেক পুলিশ প্রধানের গ্রেপ্তারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও প্রবাসী আড্ডায় বিষয়টি নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা।

 

গত ১২ জুন আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই গ্রেপ্তারের বিষয়টি জানানো হয়। সাবেক পুলিশ প্রধান গ্রেপ্তারের পর তার অবৈধ সম্পদ নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। এর আগে বিদেশে তার সম্পদ খুঁজতে বাংলাদেশ দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটে (বিএফআইইউ) চিঠি দিয়েছিল।

 

দুদকের কাছে তথ্য রয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, দুবাই, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় বেনজীরের সম্পদ থাকতে পারে। জানা গেছে, দুবাইয়ের ডেইরা এলাকায় কনকর্ড ক্রিক ভিউ নামে একটি অভিজাত পাঁচতারকা হোটেলে বিনিয়োগ ছিল বেনজীর আহমেদের, যা সম্প্রতি বিক্রি করে তিনি ৯০ লাখ দিরহাম, অর্থাৎ বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৯ কোটি টাকা তুলে নিয়েছেন। এ ছাড়া দুবাইয়ের আবাসন খাত ও স্বর্ণ ব্যবসায় বেনজীর আহমেদের শতকোটি টাকার বিনিয়োগ রয়েছে বলে প্রবাসে প্রচার রয়েছে।

 

প্রবাসীদের প্রতিক্রিয়া

আবুধাবিতে কর্মরত প্রবাসী শ্রমিক মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘আমরা বিদেশে কষ্ট করে রেমিট্যান্স পাঠাই, আর দেশের একশ্রেণির ক্ষমতাবান মানুষ সেই টাকা পাচার করে বিদেশে বিলাসী জীবন যাপন করেন। তার গ্রেপ্তারের খবরে আমরা খুশি, অন্তত একটা বার্তা গেল যে কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়।’

 

দুবাইয়ে দীর্ঘদিন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত প্রবাসী ব্যবসায়ী মির্জা আবু সুফিয়ান বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে লুট করে বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ে সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন। এত বড় একজন খুনি-দুর্নীতিবাজ লোককে আমিরাত পুলিশ আটক করেছে, এ জন্য আমিরাত সরকারকে ধন্যবাদ জানাই। সঙ্গে সঙ্গে দাবি করছি, অবিলম্বে তাকে দেশে ফেরত নিয়ে সরকার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিক।’

 

আবুধাবির পরিচিত কমিউনিটি নেতা মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘পদের অপব্যবহার করে দেশের মানুষকে জিম্মি করে রাখা বেনজীর আহমেদ গ্রেপ্তার হয়েছেন জেনে স্বস্তি বোধ করছি। তাকে এবং তার মতো বিদেশে পলাতক অন্য খুনিদের অবিলম্বে দেশে ফিরিয়ে নিয়ে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানাই।’

 

কিছুটা ভিন্ন মত পাওয়া গেছে কলম একাডেমির সভাপতি আবু তৈয়ব চৌধুরীর কাছ থেকে। তিনি মনে করেন, ‘রাজনৈতিক বিবেচনায় নয়, বরং প্রকৃতপক্ষে তার অপরাধ বিবেচনা করে সুবিচার নিশ্চিত করতে হবে।’

 

একইভাবে এশিয়া পোস্টে বেনজীর আহমেদের আটকের সংবাদে প্রবাসীরা ফেসবুকে নানা মন্তব্য করেছেন। মোস্তাফিজুর রহমান নামের একজন লিখেছেন, ‘এই মাফিয়া অর্থ-সন্ত্রাসীকে কঠিনতর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যা দেখে ভবিষ্যতে কোনো পুলিশ কর্মকর্তা এ ধরনের অপরাধ করার সাহস না পান।’ আবার অনেকে অনলাইনে সন্দেহ প্রকাশ করে মন্তব্য করেছেন, ‘বেনজীর আহমেদকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বা হবে। বেনজির আহমেদকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে নিতে সরকারের একটি বিশেষ দল আরব আমিরাতে রয়েছে।’