কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তে বিএসএফের পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় ৫৫ ঘণ্টা ধরে শূন্যরেখায় আটকে আছে ৯ জন। সেখান থেকে একটু পরপরই ভেসে আসছে শিশুর কান্নার শব্দ। ইতোমধ্যে এক নারী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলেও জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
রোববার (১৪ জুন) রৌমারীর শৌলমারী ইউনিয়নের গইটাপাড়া সীমান্তের ১০৬০ এবং ভন্দুর চর এলাকায় ১০৬৫ নম্বর আন্তর্জাতিক পিলার এলাকা দিয়ে ওই ৯ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করে বিএসএফ। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) বাধায় তারা শূন্যরেখায় ভারতে অংশ অবস্থান নেন।
সীমান্তের বাসিন্দারা জানান, প্রথমে গইটাপাড়া এলাকায় ৬ জনকে পুশইনের চেষ্টা চালানো হয়। পরে ভন্দুর চর এলাকা দিয়ে তিন যুবককে পুশইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। বিজিবির বাধায় সবাই শূন্যরেখায় আটকে আছে।

কুড়িগ্রামের গইটাপাড়া সীমান্তে আটকে আছে শিশু ও নারী। সংগৃহীত ছবি
স্থানীয়রা জানান, গইটাপাড়া শূন্যরেখায় আটকে পড়ারা হলেন বেলাল হোসেন (২৮), তাঁর স্ত্রী সুমি বেগম (২৪), তাঁদের দুই মেয়ে ফাতেমা (৪) ও ৫ মাসের ফাহিমা এবং সজীব (১৮) ও হিমেল (২৬) নামে দুজন। তাদের মধ্যে সুমি বেগম অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
গইটাপাড়া সীমান্তে দেখা যায়, আন্তর্জাতিক পিলারের পাশে প্রখর রোদে একটি শিশু কোলে ও আরেকজন পাশে নিয়ে বসে আছেন এক নারী ও তিন পুরুষ। তাদের কাছাকাছি অস্ত্র হাতে দাঁড়িয়ে আছেন বিএসএফ জওয়ানরা, অন্যদিকে সীমান্ত পাহারা দিচ্ছেন বিজিবি সদস্যরা। তবে দলটিকে পানি ও শুকনো খাবার দিচ্ছেন গ্রামবাসীরা।
স্থানীয় শৌলমারী ইউপির সদস্য সোনা মিয়া বলেন, ‘শূন্যরেখায় কোলের ছোট বাচ্চাটার জন্য কষ্ট হচ্ছে। এই গরমে না পারছে তারা ভারতে যেতে, না পারছে বাংলাদেশে আসতে। এমন অমানবিক দৃশ্য নিজের চোখে দেখে ভীষণ খারাপ লাগছে।'

কুড়িগ্রামের গইটাপাড়া সীমান্তের শূন্যরেখা আটকা লোকজনকে পাহারা দিচ্ছি বিএসএফ। সংগৃহীত ছবি
গইটাপাড়া এলাকার বাসিন্দা মাসুদ হোসেন বলেন, ‘গতকাল (সোমবার) রাতে খুব কান্না করেছে দুধের শিশুটি। তার জন্য সেখানে থাকা খুব কষ্ট হয়ে যাচ্ছে। শিশুটির শরীর ফুলে গেছে। শিশুটির মা-ও কান্না করছে। গরমের মধ্যে আর কত থাকা যায়, বলেন? বড় মানুষই এই রোদে বাইরে থাকতে পারে না। আমরা ছাতা, খাবার ও পানি দিয়েছি।’
এদিকে সমস্যা নিরসনে রোববার থেকে আজ পর্যন্ত বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে একাধিক পতাকা বৈঠক হয়েছে। এর মধ্যে রোববার তিন দফা ও সোমবার সীমান্তরক্ষীদের উচ্চপর্যায়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়। তবে প্রতিবারই তাদের ভারতে ফিরিয়ে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে বিএসএফ। একইভাবে যেকোনো অনুপ্রবেশ রোধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বিজিবি। এতে কোনো সুরাহা ছাড়াই শেষ হয়েছে বৈঠক।
জামালপুর ৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান বলেন, ‘বিএসএফ ৯ জনকে পুশইনের চেষ্টা করেছিল। আমরা সতর্ক অবস্থান নিয়ে তাকে প্রতিহত করেছি। তারা এখনো শূন্যরেখায় রয়েছে। তবে বর্তমানে আমাদের সীমান্ত পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে ও শান্ত রয়েছে।’