ফ্রান্সে চলমান জি৭ শীর্ষ সম্মেলনে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির সাথে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দুই নেতাই মার্কিন-ইরান চুক্তি এবং মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক ভূ-রাজনীতি নিয়ে একাধিক বিস্ফোরক ও তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র এবং বিশেষ করে তিনি নিজে পাশে না থাকলে আজ ইসরাইলের কোনো অস্তিত্ব থাকত না। ইরান যদি পারমাণবিক অস্ত্র পেয়ে যেত, তবে ইসরাইল পৃথিবীর বুক থেকে মুছে যেত উল্লেখ করে ট্রাম্প আবারও দাবি করেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা থেকে মাত্র দুই সপ্তাহ দূরে ছিল। তবে চলমান যুদ্ধ ইরানের পূর্ববর্তী নেতৃত্বকে নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছে দাবি করে ট্রাম্প বলেন, ইরানে এখন একটি যৌক্তিক ও বুদ্ধিমান নেতৃত্ব রয়েছে।
লেবানন ইস্যুতে নেতানিয়াহুর ভূমিকার সমালোচনা করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘লেবাননের ব্যাপারে নেতানিয়াহুকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।’ ইরানের সাথে চুক্তি ঘোষণার ঠিক আগমুহূর্তে বৈরুতে ইসরাইলি বিমান হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি বৈরুতে হামলাটি একেবারেই পছন্দ করিনি এবং আমি তাঁদের (ইসরাইল) সেটা পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছি।’
লেবানন পরিস্থিতিকে একটি ‘ছোটখাটো যুদ্ধ’ হিসেবে অভিহিত করে ট্রাম্প ইসরাইলকে একটি অদ্ভুত পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, ‘আমি ইসরাইলকে পরামর্শ দিয়েছি যেন হিজবুল্লাহর বিষয়টি সিরিয়ার ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়, কারণ তারা এই কাজটি আরও ভালোভাবে করতে পারবে।’
কাতারের প্রশংসা ও আমিরের প্রতিক্রিয়া
বৈঠকে কাতারের ‘সাহসিকতা’ এবং মধ্যস্থতার ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘কাতার যেভাবে পুরো পরিস্থিতি সামাল দিয়েছে, তাতে আমরা অত্যন্ত মুগ্ধ। তারা অত্যন্ত শক্ত ও দৃঢ় অবস্থান দেখিয়েছে।’
অন্যদিকে, কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি এই মার্কিন-ইরান চুক্তিকে এই অঞ্চলের জন্য একটি অত্যন্ত ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেন। ট্রাম্পের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি। এখনও অনেক কাজ বাকি আছে, তবে এই গতি যদি বজায় থাকে, তবে আমরা এই অঞ্চলে দারুণ কিছু অর্জন করতে পারব।’ সূত্র: আল জাজিরা
শীর্ষনিউজ