Image description

প্রবাস বা জেল থেকে দীর্ঘদিন পর বাড়ি ফিরলে কোথাও কোথাও দুধ দিয়ে গোসল করানোর রেওয়াজ দেখা যায়। সম্প্রতি ফুটবল বিশ্বকাপ খেলাকে কেন্দ্র করে এক দলের সমর্থক অন্য দলের সমর্থক হতে গিয়ে দুধ দিয়ে গোসল করছেন। প্রশ্ন হলো, ইসলামে দুধ দিয়ে গোসল করা জায়েজ কি না?

 

দুধ আল্লাহর নেয়ামত। এটি পবিত্র খাবার। দুধের মতো পবিত্র জিনিস দিয়ে গোসল করার ধারণা সঠিক নয়। দুধ দিয়ে গোসলের মাধ্যমে অর্থ ও খাদ্যের অপচয় হয়। ইসলামে অপচয় নিষিদ্ধ। আল্লাহ বলেন, ‘হে আদমসন্তান, তোমরা খাও এবং পান করো, তবে অপচয় করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ অপচয়কারীদের ভালোবাসেন না।’ (সুরা আরাফ, আয়াত: ৩১)

 

কোরআনে আরও আছে, ‘নিশ্চয়ই যারা অপচয় করে, তারা শয়তানের ভাই এবং শয়তান তার রবের প্রতি অতিশয় অকৃতজ্ঞ।’ (সুরা বনি ইসরাইলন, আয়াত: ২৮)

 

আল্লাহ তাআলা ইমানদার বান্দাদের বৈশিষ্ট্য প্রসঙ্গে বলেন, ‘তারা যখন ব্যয় করে, তখন অপব্যয় করে না এবং কৃপণতাও করে না; বরং তারা এতদুভয়ের মধ্যবর্তী অবস্থায় থাকে।’ (সুরা ফুরকান, আয়াত: ৬৭)

 

ইসলামে যেহেত ‍অপচয় নিষিদ্ধ ও হারাম, তাই দুধ দিয়ে গোসল করা যাবে না। এ কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে। অতীতের ভুল থেকে মুক্তি পাওয়ার যে ধারণা নিয়ে মানুষ দুধ দিয়ে গোসল করে, এটি সঠিক নয়—এটি কুসংস্কার।

 

ফাতাওয়া ও মাসায়েলের মুফতি আবু সাঈদ মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, ‘দুধ আল্লাহ তাআলার বড় নেয়ামত। এটি পানীয় ও খাদ্য হিসেবে ব্যবহারের জন্য আল্লাহ মানুষকে দিয়েছেন। দুধ দিয়ে গোসল করলে দুধ নষ্ট হয়। সেটি আর তখন মানুষের খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয় না। এটি অপচয় হয়ে যায়। অপচয় ইসলামে নিষিদ্ধ। তাই দুধ দিয়ে গোসল করা জায়েজ নেই। এটি পরিত্যাজ ও গুনাহের কাজ।’

 

তার মতে, দুধ দিয়ে গোসল করলে অতীতের ভুল, গুনাহ বা কোনো অশুভ প্রভাব দূর হয়ে যায়—এ রকম বিশ্বাস করা শরিয়তবিরোধী কাজ। এতে আকিদায় সমস্যা হয়।

 

আবু সাঈদ মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, ‘সমাজে দুধ ঢেলে গোসল করানোর যে রেওয়াজ দেখা যায়, তা খাদ্য অপচয়ের কারণে শরিয়তসম্মত নয়। আর এর মাধ্যমে অতীত ভুল বা গুনাহ দূর হয়—এ ধারণা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।’