ক্ষমতার পালাবদলের পর বিএনপি সরকার এখন আর সংস্কার শব্দটি উচ্চারণই করে না বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াত নেতা শফিকুল ইসলাম মাসুদ। তিনি বলেন, সংস্কারের নাম শুনলেই সরকার আতঙ্কিত হয়ে পড়ে এবং ভয়ে ফুলেফেঁপে ওঠে।
রোববার (১৪ জুন) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘সেন্টার ফর মিডিয়া, ইনফরমেশন অ্যান্ড পাবলিক পলিসি’র আয়োজিত সেমিনারে এ কথা বলেন তিনি।
সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, রাষ্ট্র সংস্কার হলে বিএনপি দলীয়করণ করতে পারবে না; ফলে দুর্নীতি, লুটপাট, দখলবাজি ও চাঁদাবাজির সুযোগ পাবে না। এজন্যই সরকার সংস্কারের বিপক্ষে। তিনি জানান, সংবিধান সংস্কার না করে কেবল সংশোধনে জনগণের প্রত্যাশিত দেশ গঠন করা যাবে না।
সেমিনারে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম পুরোপুরি সরকারের নিয়ন্ত্রণে রেখে স্বাধীন সাংবাদিকতা হয় না। গণমাধ্যমের ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণের ফলে অতীতে স্বাধীন সাংবাদিকতা হয়নি, ভবিষ্যতেও হবে না। শুধু তথ্য ও সম্প্রচার খাতের সংস্কার নয়, বরং পুরো রাষ্ট্রীয় কাঠামো সংস্কার করতে হবে।
বিএনপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘বিএনপির ৩১ দফার প্রথম দফা ছিল সংবিধান সংস্কার কমিশন গঠন। কিন্তু ক্ষমতায় বসে সেই প্রতিশ্রুতি না মেনে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে।’ মিয়া গোলাম পরওয়ার প্রশ্ন তোলেন, সরকারপ্রধান নিজে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার পরও কেন সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন হচ্ছে না?
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন যুক্তরাষ্ট্রের ইস্টার্ন নিউ মেক্সিকো ইউনিভার্সিটির যোগাযোগ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. খাদিমুল ইসলাম।
আলোচনায় অংশ নিয়ে একুশে টিভির হেড অব নিউজ হারুনুর রশিদ বলেন, শুধু ক্ষমতায় থাকলেই ক্ষমতাবান হওয়া যায় না। ‘ডিপ স্টেট’ নামক ক্ষমতাবানরা পর্দার আড়ালে থেকে রাষ্ট্র পরিচালনা করে, যারা ক্ষমতাসীনদের চেয়েও বেশি শক্তিশালী। তিনি আরও বলেন, ‘কোনো সরকারের সময়েই শতভাগ স্বাধীন সাংবাদিকতা দেখা যায়নি। তবে সরকার এবং রাষ্ট্র দুটি আলাদা বিষয়; সরকারের বিরোধিতা করা মানেই রাষ্ট্রের বিরোধিতা করা নয়।’
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি ওবায়দুল রহমান শাহীন বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার কমিশন আমরা মানিনি। কারণ সেই কমিশন বাস্তবতা উপেক্ষা করে নিজেদের চিন্তা-চেতনা চাপিয়ে দিতে চেয়েছে।’
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সভাপতি আবু সালেহ আকন বলেন, তথ্য ও সম্প্রচার সংস্কারের জন্য দুটি বিষয় চূড়ান্ত করতে হবে—গণমাধ্যমের মালিক কারা হবেন এবং সাংবাদিক কারা হবেন। গণমাধ্যমের মালিক দুর্নীতিবাজ আর লুটেরা শ্রেণির লোক, যারা নিজেদের স্বার্থে সাংবাদিকদের তাদের পক্ষে ব্যবহার করে। অন্যদিকে সাংবাদিকদের বেতন কম হওয়ায় বাধ্য হয়ে অন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নেন।
ঢাকা মেইলের নির্বাহী সম্পাদক হারুন জামিল বলেন, গণমাধ্যম ব্যবসায়ীদের হাতে চলে যাওয়ায় নিজেদের ব্যবসা সুরক্ষা দিতে এটি ব্যবহার হচ্ছে। মানুষ আস্থা হারাচ্ছে।
সভাপতির বক্তব্যে সাংবাদিক আবুল আসাদ বলেন, 'আমাদের দেশে কোনো কালেই গণমাধ্যম স্বাধীন ভূমিকা রাখতে পারেনি।’
সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ বেতারের সাবেক মহাপরিচালক মো. সালাহ উদ্দিন এবং মানারাত বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক রফিক রুম্মান প্রমুখ