যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে চুক্তি চূড়ান্ত করতে ইতোমধ্যে ইরানে পৌঁছেছেন কাতারের প্রতিনিধি দল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চুক্তি স্বাক্ষর নিয়ে আশাবাদের পর তাদের তেহরান সফরের খবর সামনে এলো।
রোববার (১৪ জুন) ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় দেশই সমঝোতা স্মারকে সই করতে পারে। যদিও এর আগে চুক্তি স্বাক্ষরের এই সময়সূচি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছিল ইরান।
ইরানের আধা-সরকারি সংস্থা ফার্স জানিয়েছে, সমঝোতা স্মারকটির রাজনৈতিক, আইনি ও প্রযুক্তিগত দিকগুলোর পর্যালোচনা বিশেষজ্ঞ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী পর্যায়ে এখনও পর্যালোচনা চলছে। তবে এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি ইরানি নেতারা।
রয়টার্সকে ইরানের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের চূড়ান্ত খসড়ায় তেহরানের পারমাণবিক কার্যক্রম থেকে শুরু করে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং তেলের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার মতো বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। উভয় পক্ষের সম্মতির পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে আলোচনা করা হবে।
ইরানি কর্মকর্তা বলেছেন, খসড়া স্মারকলিপিতে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে-
হরমুজ প্রণালি
ইরান অবিলম্বে সকল বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেবে ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে তার নৌ অবরোধ তুলে নেবে।
সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষরিত হওয়ার পরপরই মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং ৩০ দিনের মধ্যে তা সম্পন্ন হবে।
নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার
চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরানের ওপর কোনো নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করতে যুক্তরাষ্ট্র রাজি হয়েছে।
চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন হলে, একটি সম্মত সময়সূচি অনুযায়ী ইরানের উপর আরোপিত যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘের সকল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্র একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ইরানের ওপর থেকে তেল নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে। ফলে তেহরান তেল বিক্রি করে রাজস্ব আয় করতে পারবে।
যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি নগদ অর্থ প্রদান, আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা এবং আর্থিক ঋণ ব্যবস্থার মাধ্যমে ইরানের জব্দকৃত ২৫ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ছাড় করতে রাজি হয়েছে।
ওয়াশিংটন তার আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে সমন্বয় করে ইরানের জন্য একটি পুনর্গঠন ও উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রস্তুত করবে, যা ৬০ দিনের মধ্যে তেহরানের সঙ্গে আলোচনা ও সম্মতির ভিত্তিতে চূড়ান্ত করা হবে।
পারমাণবিক
তেহরান সম্মত হয়েছে যে, তারা পারমাণবিক অস্ত্র উৎপাদন বা অর্জন করবে না।
চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচির বর্তমান অবস্থা বজায় রাখবে এবং আরও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও পারমাণবিক স্থাপনার সম্প্রসারণ থেকে বিরত থাকবে।
ভবিষ্যত একটি ব্যাপক চুক্তির অধীনে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে তার ভূখণ্ডে উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত হ্রাস করার অনুমতি দিতে রাজি হয়েছে।
সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের ৬০ দিনের মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম এবং উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত পরিচালনার প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করা হবে। একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে এর সমাধান করা হবে।