Image description

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ।

 

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা একটি মামলার প্রেক্ষাপটে ইন্টারপোলের সহযোগিতায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

 

বেনজীরের বিরুদ্ধে দুদকের করা পাসপোর্ট জালিয়াতির মামলায় গত বছর রেড নোটিশ জারি করা হয়েছিল। সংস্থাটির ইতিহাসে রেড নোটিশের মাধ্যমে কোনো আসামি গ্রেপ্তারের ঘটনা এটিই প্রথম।

 

২০২৪ সালের ১৪ অক্টোবর বেনজীরের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদকের। মামলার অভিযোগে বলা হয়, পরিচয় গোপন করে সরকারি চাকরিজীবী হওয়া সত্ত্বেও তিনি ‘নীল’ বা ‘লাল’ পাসপোর্ট গ্রহণ করেননি। বরং ক্ষমতার অপব্যবহার করে বেসরকারি চাকরিজীবী পরিচয়ে সাধারণ পাসপোর্ট তৈরি করেন।

 

দুর্নীতি দমন কমিশনের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানা গেছে, বেনজীর আহমেদ দুদকের ছয়টি মামলার আসামি। এর মধ্যে একটি ছিল পাসপোর্ট জালিয়াতির মামলা, যেটাতে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। সেই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি পাঁচটি মামলা তদন্তনাধীন আছে।

 

গত ২০ মার্চ আদালতের আদেশ ও ওয়ারেন্ট অব অ্যারেস্টের ব্যবস্থা গ্রহণের আলোকে বাংলাদেশ পুলিশকে অনুরোধ করে এক চিঠি পাঠায় দদুক।

 

তদন্তকারী কর্মকর্তা ও উপপরিচালক মুহাম্মদ জয়নাল আবেদীন স্বাক্ষরিত ওই কমিশন উল্লেখ করেছে, সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১ এর মামলা নং ১০, তারিখ : ১৪-১০-২০২৪ ধারা: দণ্ডবিধির ৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/১০৯ ও ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা এবং দ্য বাংলাদেশ পাসপোর্ট অর্ডার ১৯৭৩ এর ১১ ধারা।

চিঠিতে আরও বলা হয়, মামলাটি তদন্ত করে তদন্ত প্রতিবেদন/সাক্ষ্য স্মারক দাখিলের জন্য নিম্ন স্বাক্ষরকারী তথা মুহাম্মদ জয়নাল আবেদীনকে তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে।

 

দুদক জানায়, মামলার তদন্তকালে জানা যায়, এজাহারনামীয় আসামি বেনজীর আহমেদ, সাবেক আইজিপি বিদেশে পালিয়ে গেছেন। তাই ন্যায় বিচারের স্বার্থে আসামির অবস্থান চিহ্নিত করে তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের মুখোমুখি করার জন্য তার নামে আদালত ওয়ারেন্ট অব ইস্যু করেছেন।

 

এ অবস্থায় আদালতের আদেশ, ওয়ারেন্ট অব এরেস্ট ও এজাহারের কপি ও পূরণকৃত রেড নোটিশ ফরম ড্রাফট সংযুক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধসহ পাঠানো হলো।

 

বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আইজিপির দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার ও র‌্যাবের মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে র‌্যাবের সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। তাদের মধ্যে বেনজীর আহমেদেও ছিলেন।

 

২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার কয়েক মাস আগে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে তা নিয়ে তদন্তে নামে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তখনই তিনি দেশ ছেড়েছিলেন। এরপর তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়। পরে তাদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।