নোয়াখালী জেলা শহরের জজ আদালতের বিপরীতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাশে অবস্থিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে জানা গেছে।
শুক্রবার (১২ জুন) দিনগত ভোর রাতে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ঘটনার পর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভোর রাতে তিন থেকে চারজন যুবক নোয়াখালী জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার সংলগ্ন জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। গভীর রাতে এলাকাটি জনশূন্য থাকায় আগুন কিছু সময় জ্বলে নিজে থেকেই নিভে যায়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ২৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, আগুন দেওয়ার সময় এক যুবক বলছেন, ‘স্বাধীন সার্বভৌম এই দেশ থেকে রাজাকারের চিহ্ন মুছে ফেলার জন্য বাংলাদেশ ছাত্রলীগই যথেষ্ট। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু। শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে।’
ভিডিওটির শেষাংশে আরও কয়েকজনকে বলতে শোনা যায়, ‘নোয়াখালী থেকে রাজাকার বিতাড়িত করার জন্য বাংলাদেশ ছাত্রলীগ প্রস্তুত। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু। শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে। শেখ হাসিনার স্মরণে, ভয় করি না মরণে। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।’
ঘটনার বিষয়টি বিকেলে জানাজানি হলে স্থানীয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তারা অবিলম্বে ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে সকালে সুধারাম মডেল থানা পুলিশ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর সূত্র ধরে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা করছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নোয়াখালীর সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম বলেন, ভোর রাতে কোনো এক সময় জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। খবর পাওয়ার পরই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। সিসিটিভি ফুটেজ, ভিডিও এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যের ভিত্তিতে নাশকতার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও বলেন, ‘জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। এ ঘটনার পর শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।’