শিক্ষা খাতে চলতি অর্থবছরের তুলনায় বরাদ্দ ৪৯ হাজার ৪০০ কোটি টাকা বাড়িয়ে প্রস্তাব করা হয়েছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেট উত্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ প্রস্তাব দেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, এটিই সর্বোচ্চ বরাদ্দ। প্রস্তাবিত বরাদ্দ দেশের মোট জিডিপির ২ শতাংশ। সরকার পর্যায়ক্রমে ও ধারাবাহিকভাবে শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ বাড়িয়ে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ ছিল ৮৭ হাজার ২০৬ কোটি টাকা, যা জিডিপির ১ দশমিক ৩৯ শতাংশ।
বাজেটে মেয়েদের জন্য স্নাতক পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা সম্প্রসারণ, ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে সবার জন্য কারিগরি শিক্ষা এবং শিক্ষাক্রমে বাধ্যতামূলক তৃতীয় ভাষা অন্তর্ভুক্তির মতো প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘ফ্যাসিবাদের দীর্ঘ সময়ে ভেঙে পড়া রাষ্ট্রকাঠামোর সবচেয়ে সংকটাপন্ন খাতগুলোর একটি ছিল শিক্ষা। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফিরে আসা গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষা কারিকুলামকে রূপান্তরের উদ্যোগ গ্রহণ করছেন; যাতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নৈতিক মূল্যবোধ, সামাজিক দায়িত্ববোধ, নেতৃত্বের গুণাবলি এবং মানবিক চরিত্রের বিকাশ ঘটে।’
বাংলাদেশকে একটি দক্ষতাভিত্তিক অর্থনীতিতে রূপান্তর করতে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে পর্যায়ক্রমে সবার জন্য কারিগরি শিক্ষা চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষাক্রমে বাংলা ও ইংরেজির সঙ্গে বাধ্যতামূলক তৃতীয় ভাষা হিসেবে জাপানিজ, কোরিয়ান, মান্দারিন, আরবি, ফ্রেঞ্চ বা জার্মান ভাষা অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তৃতীয় ভাষাজ্ঞানসম্পন্ন যেসব শিক্ষার্থী এসব দেশে উচ্চশিক্ষায় যেতে চাইবেন, তাঁদের জন্য ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে বাজেটে।
পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে বিতর্ক, বিজ্ঞান মেলা, সাহিত্যচর্চার মতো ক্লাবভিত্তিক সহশিক্ষা কার্যক্রম এবং 'লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস' বা আনন্দময় শিক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বাজেট প্রস্তাবে মেয়েদের জন্য স্নাতক পর্যন্ত বিনা মূল্যে শিক্ষা সম্প্রসারণের কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুল ইউনিফর্ম, জুতা ও স্কুলব্যাগ সরবরাহ করা হবে।
শিক্ষার্থীদের পুষ্টির চাহিদা মেটাতে মিড-ডে মিল কর্মসূচি চালু ও পর্যায়ক্রমে সারা দেশে সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ছাত্রী ও শিক্ষিকাদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে স্যানিটেশন ও হাইজিনকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। পাশাপাশি প্রতিবন্ধী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা নিশ্চিত করতে বিশেষায়িত সহায়ক প্রযুক্তি ও শিক্ষাসামগ্রী দেওয়া হবে।
প্রযুক্তি, গবেষণা ও মাদ্রাসা শিক্ষা
প্রযুক্তি ও আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) নির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বাজেটে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি গ্রহণ, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন এবং বিনা মূল্যে ওয়াই-ফাই সুবিধা সম্প্রসারণের কথা বলা হয়েছে।
উদ্যোক্তা তৈরিতে ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সংযোগ, শিক্ষানবিশ (অ্যাপ্রেনটিসশিপ) ও ইন্টার্নশিপ সুবিধা বাড়ানো হবে। মেধা পাচার বা 'ব্রেইন ড্রেইন'কে 'ব্রেইন সার্কুলেশন'-এ রূপান্তরের লক্ষ্যে বিদেশে বসবাসরত অভিজ্ঞ ও উচ্চশিক্ষিত বাংলাদেশিদের দেশের শিক্ষা ও গবেষণায় সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার।
মাদ্রাসা শিক্ষার আধুনিকায়ন প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী জানান, মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি বিজ্ঞান, গণিত, ইংরেজি ও তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষার মান উন্নয়ন করা হবে এবং তাঁদের জন্য কর্মমুখী প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করা হবে।